পুলিশ বাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে ক্ষমতার অপব্যবহার থেকে দূরে থাকার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, প্রশাসনের কোনো স্তরেই ক্ষমতার অপব্যবহার গ্রহণযোগ্য হবে না। জনগণের সেবক হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করতে পুলিশ সদস্যদের দৃষ্টিভঙ্গি ও আচরণে আমূল পরিবর্তন আনার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।
শনিবার বিকেলে খুলনা বিভাগে কর্মরত বিভিন্ন পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বিশেষ কল্যাণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইজিপি এসব কথা বলেন। সভায় তিনি আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেন।
আইজিপি বলেন, “থানাকে সাধারণ মানুষের শেষ আশ্রয়ের জায়গা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। কোনো মানুষ যেন থানায় এসে ভয়ে কুঁকড়ে না থাকে, বরং তারা যেন আস্থার সাথে তাদের সমস্যার কথা বলতে পারে।” তার মতে, মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতা ও নিয়মিত তদারকি ছাড়া সুশাসন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
ডিজিটাল যুগে অপরাধ দমনে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লেও সেখানে যেন কোনো আইনি বিচ্যুতি না ঘটে, সে বিষয়েও সতর্ক করেন পুলিশ প্রধান। সাইবার ট্র্যাকিং থেকে শুরু করে যেকোনো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের সময় নাগরিক অধিকার যাতে ক্ষুণ্ন না হয় এবং আইনের যথাযথ অনুসরণ করা হয়, তা নিশ্চিত করতে বলেন তিনি।
মাদক ও সন্ত্রাসের মতো সামাজিক ব্যাধি দূর করতে কেবল শক্তি প্রয়োগ নয়, বরং সামাজিক প্রতিরোধের ওপর জোর দেন আইজিপি। তিনি বলেন, “সমাজের ভালো ও সচেতন মানুষদের সাথে নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে। অপরাধ দমনে দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য পেতে হলে জনগণের সহযোগিতা অপরিহার্য।”
সভায় উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা তাদের পেশাগত বিভিন্ন সমস্যা ও সীমাবদ্ধতার কথা আইজিপির সামনে তুলে ধরেন। তিনি ধৈর্য সহকারে প্রত্যেকের কথা শোনেন এবং পর্যায়ক্রমে এসব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন। পুলিশের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও কল্যাণ নিশ্চিতে বর্তমান প্রশাসন কাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি মো. রেজাউল হকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে আইজিপি খুলনা পুলিশ লাইন্সে পৌঁছালে তাকে সুসজ্জিত একটি দল গার্ড অব অনার প্রদান করে।
পরিবেশ সুরক্ষার প্রতি গুরুত্ব দিয়ে আইজিপি পুলিশ লাইন্স প্রাঙ্গণে একটি জাবুটিকাবা গাছের চারা রোপণ করেন। পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি সামাজিক ও পরিবেশগত দায়বদ্ধতা পালনের জন্য তিনি পুলিশ সদস্যদের উৎসাহিত করেন।
দিনের শুরুতে আইজিপি লবণচরা গুলজান সিটিতে নির্মাণাধীন থানার নতুন ভবনের কাজ পরিদর্শন করেন। কাজের গুণগত মান বজায় রেখে দ্রুত নির্মাণ শেষ করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন। সেখানেও তিনি একটি কৃষ্ণচূড়া গাছের চারা রোপণ করে সবুজায়নের বার্তা ছড়িয়ে দেন।
আইজিপির এই সফর ও কঠোর বার্তা পুলিশ বাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ক্ষমতার দম্ভ নয়, বরং সেবার মানসিকতাই হোক পুলিশের মূল চালিকাশক্তি—এটাই ছিল তার বক্তব্যের মূল সুর।

