অস্ট্রেলিয়ার মর্যাদাপূর্ণ ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ ‘বিগ ব্যাশ’-এ বল হাতে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে চলেছেন বাংলাদেশের তরুণ লেগ-স্পিনার রিশাদ হোসেন। অভিষেক ম্যাচে উইকেট নিয়ে দলের জয়ে অবদান রাখলেও, বৃহস্পতিবার মেলবোর্ন স্টার্সের বিপক্ষে তাঁর ব্যক্তিগত নৈপুণ্য হোবার্ট হারিকেন্সকে জয় এনে দিতে পারেনি। রিশাদ দ্রুত দুই উইকেট শিকার করে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেললেও মার্কাস স্টইনিস ও ক্যাম্পবেল কেল্লাওয়ের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে হেরেছে রিশাদের দল।
হোবার্টের দেওয়া ১৫৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মেলবোর্ন স্টার্সের দুই ওপেনার থমাস রজার্স ও জো ক্লার্ক শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন। ৪৬ রানের উদ্বোধনী জুটি যখন বিপজ্জনক হয়ে উঠছিল, তখনই ষষ্ঠ ওভারে বল হাতে আক্রমণে আসেন রিশাদ হোসেন। নিজের প্রথম ওভারেই রজার্সকে ফিরিয়ে ব্রেকথ্রু এনে দেন তিনি। এরপর ব্যক্তিগত দ্বিতীয় ওভারে আবারও হানা দেন রিশাদ; এবার তাঁর শিকার হন সেট ব্যাটার জো ক্লার্ক। রিশাদের এই ঘূর্ণি জাদুতে একসময় মনে হচ্ছিল হোবার্ট ম্যাচে ফিরে এসেছে।
তবে রিশাদ হোসেন তাঁর প্রথম দুই ওভারে মাত্র ১৪ রান দিয়ে ২ উইকেট নিলেও তৃতীয় ওভারে কিছুটা খরুচে ছিলেন। তাঁর সেই ওভারে ১৯ রান তুলে নেন মেলবোর্নের ব্যাটাররা। ফলে ৩ ওভার শেষে তাঁর স্পেল দাঁড়ায় ৩৩ রানে ২ উইকেট। তৃতীয় ওভারে রান বেশি দেওয়ায় অধিনায়ক আর তাঁর কোটার শেষ ওভারটি করাননি। কিন্তু মজার বিষয় হলো, পুরো ম্যাচে হোবার্ট হারিকেন্সের হয়ে কেবল রিশাদই উইকেটের দেখা পেয়েছেন; বাকি বোলাররা ছিলেন একেবারেই নিষ্প্রভ।
রিশাদের এনে দেওয়া ধাক্কা সামলে মেলবোর্ন স্টার্সের হাল ধরেন অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার মার্কাস স্টইনিস ও তরুণ ক্যাম্পবেল কেল্লাওয়ে। এই জুটির দৃঢ়তায় মেলবোর্ন আর কোনো উইকেট না হারিয়েই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায়। রিশাদের দল হোবার্ট হারিকেন্সের বোলাররা স্টইনিসদের ওপর কোনো প্রকার চাপ সৃষ্টি করতে না পারায় ৮ উইকেটের সহজ জয় নিশ্চিত করে স্টার্সরা।
উল্লেখ্য যে, বিগ ব্যাশের ইতিহাসে দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে খেলছেন রিশাদ হোসেন। প্রথম ম্যাচে তাঁর নিয়ন্ত্রিত বোলিং ও উইকেট শিকার ক্রিকেট বিশ্বে আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। দ্বিতীয় ম্যাচেও তিনি দলের একমাত্র সফল বোলার হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। যদিও হোবার্ট হারিকেন্স ম্যাচটি জিততে পারেনি, তবে অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে রিশাদের এই ধারাবাহিক বোলিং পারফরম্যান্স বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। আগামী ম্যাচগুলোতে রিশাদ তাঁর এই ফর্ম ধরে রেখে দলকে জয়ে ফেরাতে পারবেন বলে আশা করছেন সমর্থকরা।

