বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা এবং অবরুদ্ধ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন দলটির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সহ-সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল।
তিনি বলেন, আসন্ন নির্বাচন হবে জনগণের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনার লড়াই, আর এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে দেশের মানুষ এখন বিএনপির দিকেই আশায় বুক বেঁধে তাকিয়ে আছে। ১৮ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মির্জাপুরের পুবেরচরে আয়োজিত এক দোয়া মাহফিল ও উঠোন বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
রায়পুরা আসনের সাবেক এই সংসদ সদস্য প্রার্থী আরও বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি সংকটময় মুহূর্তে জিয়া পরিবার ত্রাণকর্তার ভূমিকা পালন করেছে। স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরে যে অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছিল, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বর্তমানে দেশনায়ক তারেক রহমান সেই নেতৃত্বের আলোকবর্তিকা বহন করছেন। তিনি বলেন, গত ১৫ বছর ধরে এ দেশের ভোটাররা উৎসবমুখর পরিবেশে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেননি। গণতন্ত্রের এই বন্ধ্যাত্ব দূর করতে হলে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে।
আগামী দিনের রাজনীতি এবং বিএনপির রূপরেখা প্রসঙ্গে ইঞ্জিনিয়ার বকুল উল্লেখ করেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ‘৩১ দফা’ কেবল একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, এটি হচ্ছে বাংলাদেশের জনগণের জাতীয় মুক্তির সনদ। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হচ্ছে রাষ্ট্রকাঠামো মেরামত করে একটি আধুনিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা।
তিনি আরও জানান, এই দীর্ঘ প্রতীক্ষিত মুক্তির লক্ষ্যেই আগামী ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমান বীরের বেশে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করছেন। তার এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে এক নতুন সূর্যোদয় হিসেবে চিহ্নিত হবে।
পুবেরচরে গ্রাম সরকার আবু তাহেরের বাড়িতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত রোগমুক্তি ও দীর্ঘায়ু কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। বৈঠকে ইঞ্জিনিয়ার বকুল আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে এবং ভবিষ্যতে জাইমা রহমানকে সাথে নিয়ে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির চতুর্থ প্রজন্ম বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে একটি সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে। তারেক রহমানের আগমন ঘিরে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে যে উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে, তা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনকে আরও বেগবান করবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
অনুষ্ঠানে রায়পুরা উপজেলা বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান এবং যেকোনো ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে গণতন্ত্রকে সুসংহত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। বৈঠকের শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় সমবেত প্রার্থনা করা হয়।

