ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর প্রায় ৯ মাস পার হতে চললেও ঘরের গোছানোর কাজে গতি পাচ্ছে না বিএনপির প্রধান অঙ্গ সংগঠন জাতীয়তাবাদী যুবদল। তিন বছর মেয়াদি বর্তমান কমিটির দুই বছরই পেরিয়ে গেছে। অথচ আজ পর্যন্ত একটি পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করতে পারেনি সংগঠনটি। দীর্ঘ সময় ধরে মাত্র সাত সদস্যের একটি ঢিলেঢালা আংশিক কমিটি দিয়ে জোড়াতালি দিয়ে চলছে মাঠের রাজনীতি। এই দীর্ঘসূত্রতায় পদপ্রত্যাশী ও মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের মনে জমেছে ক্ষোভ ও চরম হতাশা।
এরই মধ্যে অবশ্য বরফ গলার আভাস মিলছে। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন ইউনিটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সেই রুদ্ধদ্বার আলোচনার পর যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে বড় ধরনের রদবদলের হাওয়া বইছে। নতুন কমিটিতে জায়গা করে নিতে সাবেক ছাত্রনেতা এবং যুবদলের সাবেক শীর্ষ পদধারী একঝাঁক নেতা এখন গুলশান আর নয়াপল্টনে জোর লবিং-তদবির শুরু করেছেন। রাজনীতির মাঠের মূল আলোচনা এখন একটাই— যুবদলের আগামী দিনের হাল ধরছেন কারা?
আংশিক কমিটির দুই বছর ও একাধিপত্যের অভিযোগ
পেছনে তাকালে দেখা যায়, ২০২৪ সালের ৯ জুলাই মোনায়েম মুন্নাকে সভাপতি এবং নুরুল ইসলাম নয়নকে সাধারণ সম্পাদক করে যুবদলের সাত সদস্যের আংশিক কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই সময় দলের হাইকমান্ড থেকে বলা হয়েছিল, খুব দ্রুতই পূর্ণাঙ্গ অবয়ব পাবে এই কমিটি। কিন্তু ক্যালেন্ডারের পাতা ঘুরে প্রায় দুই বছর পার হলেও সেই পূর্ণাঙ্গ কমিটি আর আলোর মুখ দেখেনি।
দীর্ঘদিন ধরে পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়ায় ক্ষোভের আগুন জ্বলছে সংগঠনের ভেতরেই। যুবদলের একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতার স্পষ্ট অভিযোগ, পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকার সুযোগে আংশিক কমিটিকে কেন্দ্র করে সভাপতি মোনায়েম মুন্নার একক আধিপত্য তৈরি হয়েছে। সংগঠনে ভর করেছে ব্যক্তিকেন্দ্রিক সিদ্ধান্ত।
পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নেয় গত ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনের পর। সেই নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হন। এরপর তিনি রাষ্ট্রীয় ও সংসদীয় কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় সংগঠনের অভ্যন্তরে সভাপতির একক প্রভাব বিস্তারের প্রবণতা এবং একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ আরও বেড়ে যায় বলে দাবি ক্ষুব্ধ শিবিরের।
আদর্শচ্যুতি ও ভাবমূর্তির সংকট
১৯৭৮ সালের ২৭ অক্টোবর। উৎপাদনমুখী রাজনীতি, মুক্তবাজার অর্থনীতি আর গণতন্ত্রের মাধ্যমে সামাজিক ন্যায়বিচারভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন নিয়ে যুবদল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। লক্ষ্য ছিল— সৎ, মেধাবী ও নিঃস্বার্থ যুবকদের সমন্বয়ে একটি আদর্শবান যুব নেতৃত্ব গড়ে তোলা।
তবে বিএনপির বর্তমান নীতিনির্ধারকদের অনেকেই মনে করেন, যে আদর্শ ও লক্ষ্য সামনে রেখে জিয়াউর রহমান এই সংগঠনটি গড়েছিলেন, বাস্তবে যুবদল এখন সেই পথ থেকে অনেকটাই বিচ্যুত। দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা হতাশা প্রকাশ করে বলছেন, দেশের বর্তমান যুবসমাজের উন্নয়নে সংগঠনটি কোনো দৃশ্যমান বা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। এমনকি নতুন প্রজন্মের উপযোগী আদর্শভিত্তিক নেতৃত্ব তৈরিতেও তারা ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। দীর্ঘ সময়েও একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিতে না পারাকে বর্তমান শীর্ষ নেতৃত্বের বড় সাংগঠনিক ব্যর্থতা হিসেবেই দেখছেন তারা।
এর পাশাপাশি যোগ হয়েছে আরও বড় সংকট। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে যুবদলের কিছু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দখলদারিত্বসহ নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছে। গণমাধ্যমে এসব খবর আসায় সংগঠনের সামগ্রিক ভাবমূর্তি ও ঐতিহ্য এখন বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে পড়েছে। দলের দুর্দিনের ত্যাগী কর্মীরাও এতে চরম বিব্রত।
খসড়া তালিকা নিয়ে বিতর্ক
যুবদলের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে, ক্ষোভ সামাল দিতে ইতোমধ্যে ১৫১ এবং ২৫১ সদস্যবিশিষ্ট দুটি সম্ভাব্য পূর্ণাঙ্গ কমিটির খসড়া তালিকা অনুমোদনের জন্য বিএনপির হাইকমান্ডের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। তবে এই তালিকা নিয়েও শুরু হয়েছে নতুন কোন্দল।
পদপ্রত্যাশী ও বঞ্চিত নেতাদের অভিযোগ, জমা পড়া খসড়া তালিকায় দলের দুঃসময়ের ত্যাগী, নির্যাতিত ও যোগ্য নেতাদের চরমভাবে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। বর্তমান আংশিক কমিটির শীর্ষ নেতারা দলের বৃহত্তর স্বার্থের চেয়ে নিজেদের পকেট ভারী করতে এবং ব্যক্তিগত অনুসারীদের প্রাধান্য দিয়ে এই পকেট তালিকা তৈরি করেছেন। এই পরিস্থিতিতে সংগঠনের একটা বড় অংশ দাবি তুলছে, বর্তমান আংশিক কমিটি পুরোপুরি ভেঙে দিয়ে সম্পূর্ণ নতুন প্রক্রিয়ায় যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠন করা হোক।
‘সিদ্ধান্ত হাইকমান্ডের’
নেতৃত্বের এই টানাপোড়েনের বিষয়ে জানতে চাইলে যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নয়ন এর আগে তার অবস্থান পরিষ্কার করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “আমি তো এখন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছি। দল যদি আমাকে এই সংগঠনে না রেখে অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় দায়িত্ব দিতে চায়, আমি তা সানন্দে মেনে নেব। আবার যদি যুবদলেই রেখে দিতে চায়, তাতেও আমার কোনো সমস্যা নেই। মোটকথা, আমাদের দলে চেইন অব কমান্ড অনুযায়ী চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।”
অন্যদিকে, যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি ও সাবেক দফতর কর্মকর্তা কামরুজ্জামান দুলাল বর্তমান কমিটির তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, “সংগঠনকে গতিশীল করা এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে বর্তমান আংশিক কমিটি পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। যার ফলে দেশের প্রায় সব ইউনিটে সাংগঠনিক কাঠামো ভেঙে পড়েছে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে আমাদের নেতা তারেক রহমান সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের চিনছেন, জানছেন। তিনি ভালো করেই জানেন, কাদের নেতৃত্বে আনলে সংগঠন আবার গতিশীল হবে। ফ্যাসিস্ট হাসিনা-পরবর্তী সময়ে সংগঠনকে যে নেতিবাচক ভাবমূর্তির মুখোমুখি হতে হয়েছে, তা থেকে উদ্ধার পেতে তৃণমূল এখন নতুন ও পরিচ্ছন্ন নেতৃত্ব চায়।”
পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় তারেক রহমানের কড়া নজর
যুবদলের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, তাদের সাংগঠনিক অভিভাবক ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবার অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোতে বড় ধরনের অস্ত্রোপচারের ইঙ্গিত দিয়েছেন। কোনো পকেট কমিটি বা তদবিরের কমিটি তিনি মেনে নেবেন না। আর সে কারণেই গত ৯ মে রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে (কেআইবি) যুবদলের বিভিন্ন সাংগঠনিক ইউনিটের শীর্ষ নেতাদের ডেকে নিয়ে দীর্ঘ মতবিনিময় করেছেন তিনি।
সেই বৈঠকে অংশ নেওয়া এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “যুবদলের নতুন কমিটিকে কেন্দ্র করে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ওয়ান-টু-ওয়ান (একান্তে) কথা বলেছেন। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, যারা আগামী দিনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দলকে এগিয়ে নিতে পারবেন এবং বিগত দিনের কঠিন আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন, রক্ত দিয়েছেন, তাদের দিয়েই আগামী কমিটি হবে।”
জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, “সহযোগী সংগঠনগুলোর পুনর্গঠনের কাজ একটি চলমান প্রক্রিয়া। কবে নাগাদ সুনির্দিষ্টভাবে যুবদলের নতুন কমিটি আসবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে আমাদের চেয়ারম্যান নিজে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দায়িত্বশীল নেতাদের নিয়ে দিনরাত কাজ করছেন। আশা করি, খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই অঙ্গ সংগঠনগুলো পুনর্গঠন করে নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা করা হবে।”
আলোচনায় যারা: কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগর
যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ প্রধান পাঁচটি পদের জন্য এখন একঝাঁক সাবেক ছাত্রনেতা ও যুবনেতার নাম রাজনীতির মাঠে জোরেশোরে আলোচিত হচ্ছে।
দৌড়ঝাঁপে এগিয়ে আছেন যুবদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুন হাসান, সাবেক ১ম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা শাহীন, সাবেক সহ-সভাপতি রুহুল আমিন আকিল এবং সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইদ ইকবাল টিটো। এছাড়া আলোচনায় আছেন মাহবুবুল হাসান পিংকু, দীপু সরকার, কামরুজ্জামান দুলাল, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের আহ্বায়ক এনামুল হক এনাম, সিনিয়র সহ-সভাপতি রেজাউল কবীর পল এবং সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন তারেক।
সাবেক ছাত্রনেতাদের মধ্যে মূল পাদপ্রদীপে আছেন ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুনুর রশীদ মামুন, সাবেক সহ-শিল্প বিষয়ক সম্পাদক আসাদুল আলম টিটু, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক শরীফ উদ্দিন জুয়েল এবং দক্ষিণের সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়ন। এছাড়াও মাঠ গরম করছেন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন, ইকবাল হোসেন শ্যামল এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল।
কেন্দ্রীয় কমিটির পাশাপাশি ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ যুবদলের কমিটির শীর্ষ পদ পেতেও চলছে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। এই দৌড়ে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছেন সাবেক ছাত্রনেতা সোহাগ ভূঁইয়া ও আসাদুজ্জামান আসাদ।
পদপ্রত্যাশী ও যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক গোলাম মাওলা শাহীন তার রাজনৈতিক পথচলার কথা উল্লেখ করে বলেন, “ওয়ার্ড ছাত্রদলের রাজনীতি দিয়ে আমার শুরু। শুরু থেকেই বিএনপির আদর্শকে ধারণ করে আসছি। এখন দলের যেমন সুসময় এসেছে, তেমনি সামনে কিন্তু বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জও রয়েছে। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের নেতা তারেক রহমান যার ওপর আস্থা রাখবেন, তাকেই আমরা মেনে নেব।”
ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েলও একই সুর মেলালেন। তারা জানান, সংগঠনের অভিভাবক তারেক রহমান আন্দোলন-সংগ্রামের মূল্যায়ন করে যে দায়িত্ব দেবেন, তা তারা মাথা পেতে নিতে প্রস্তুত।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সভাপতি পদপ্রত্যাশী ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মো. আসাদুজ্জামান আসলাম বলেন, “দল সুযোগ দিলে আমি আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ঢাকার যুবসমাজকে ঐক্যবদ্ধ করব। তারেক রহমানের ঘোষিত রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের রূপরেখা ও রাজনৈতিক নির্দেশনা বাস্তবায়নে যুবদলকে একটি গণমুখী সংগঠন হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, যুবদলের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্রন্টকে দীর্ঘদিন ধরে আংশিক কমিটি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা দলটির ভেতরের শৃঙ্খলাকে দুর্বল করছে। ৫ আগস্টের পর দেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নিজেদের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করা বিএনপির জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আর সেই চ্যালেঞ্জে জয়ী হতে হলে যুবদলে কোনো বিতর্কিত বা নিষ্ক্রিয় নেতার স্থান হওয়া উচিত নয়। এখন দেখার বিষয়, লন্ডনে বসা বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব তদবির ও লবিংয়ের দেয়াল ভেঙে কতটা পরিচ্ছন্ন ও লড়াকু নেতৃত্ব যুবদলের ঘাড়ে সঁপে দিতে পারেন।

