দেশের সাম্প্রতিক গণআন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি বর্তমানে জীবনের চরম সংকটে রয়েছেন। দীর্ঘ কয়েক দিন ধরে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়া এই তরুণ নেতার শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি না হওয়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁর পরিবার সিঙ্গাপুরে অস্ত্রোপচারের চূড়ান্ত অনুমতি প্রদান করেছে। ১৮ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক জরুরি বিবৃতিতে হাদির সর্বশেষ শারীরিক পরিস্থিতির এই উদ্বেগজনক তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি জীবন-মৃত্যুর এক অনিশ্চিত সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছেন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
ইনকিলাব মঞ্চের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শরিফ ওসমান হাদির শারীরিক অবস্থা বর্তমানে এতটাই নাজুক যে চিকিৎসকরা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে প্রতিটি পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন। সম্প্রতি সিটিস্ক্যান রিপোর্টে তাঁর মস্তিষ্কে ‘ইসকেমিয়া’ বা রক্তাল্পতার পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ার কথা জানা গিয়েছিল, যা তাঁর স্নায়বিক অবস্থাকে আরও জটিল করে তুলেছে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বিত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই উন্নত চিকিৎসার লক্ষ্যে এই জটিল অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে হাদির দ্রুত আরোগ্য কামনায় দেশবাসীর কাছে বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনা করার আকুল আবেদন জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে শরিফ ওসমান হাদির শারীরিক অবস্থার অবনতির পাশাপাশি একটি কঠোর হুঁশিয়ারিও উচ্চারণ করেছে ইনকিলাব মঞ্চ। এতে বলা হয়েছে, হাদি যদি তাঁর ত্যাগ ও সংগ্রামের পথ বেয়ে পরপারে পাড়ি জমান, তবে বাংলাদেশের সকল স্বাধীনতাকামী ও মজলুম জনতাকে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় শাহবাগে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। সংগঠনটি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলাকারী বা ঘটনার নেপথ্যের প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত শাহবাগে টানা অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে এবং প্রয়োজনে পুরো দেশ অচল করে দেওয়ার ডাক দেওয়া হবে।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে যে, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত কোনো অপরাধী যদি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে পালিয়ে গিয়ে থাকে, তবে বাংলাদেশ সরকারকে অবশ্যই কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে তাদের ফিরিয়ে আনতে হবে। ভারত সরকারের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনার মাধ্যমে যেকোনো মূল্যে খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। দেশের সার্বভৌমত্ব এবং ছাত্র-জনতার অধিকার আদায়ের সংগ্রামে শরিফ ওসমান হাদির অবদানের কথা স্মরণ করে বিবৃতিতে বলা হয়, তাঁর জীবনের ওপর এই আঘাতের বিচার না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বে না ছাত্র সমাজ।
উল্লেখ্য, শরিফ ওসমান হাদির অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ দেশের বিভিন্ন মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাও হাদির সুস্বাস্থ্য কামনা করে দেশবাসীকে দোয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে শাহবাগসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ইনকিলাব মঞ্চের এই আলটিমেটাম এবং হাদির শারীরিক অবস্থা নিয়ে জনমনে গভীর উদ্বেগ বিরাজ করছে। সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠেয় এই অস্ত্রোপচারই হাদির বেঁচে থাকার শেষ আশা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যার ওপর নির্ভর করছে আগামী দিনের অনেক রাজনৈতিক সমীকরণ।

