ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) নিলাম মানেই কোটি টাকার ঝনঝনানি আর বিশ্বসেরা ক্রিকেটারদের নিয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর দড়ি টানাটানি। প্রতি বছরের মতো এবারও বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের নজর ছিল নিলামের মঞ্চে। তবে ২০২৬ আইপিএলের মিনি নিলামে যা ঘটল, তা বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে আগে কখনো দেখা যায়নি। কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমান কেবল দলই পাননি, বরং আকাশচুম্বী মূল্যে বিক্রি হয়ে গড়েছেন নতুন এক বিশ্বরেকর্ড।
আইপিএল নিলামের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত যে ৩ জন বাংলাদেশি ক্রিকেটার সর্বোচ্চ মূল্যে বিক্রি হয়েছেন, তাদের তথ্য ও প্রাপ্ত পারিশ্রমিকের বিস্তারিত বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো:
১. মুস্তাফিজুর রহমান: ৯ কোটি ২০ লাখ রুপি (কলকাতা নাইট রাইডার্স)
২০২৬ আইপিএলের মিনি নিলামে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন বাঁহাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। ২ কোটি রুপি ভিত্তিমূল্য থেকে শুরু হওয়া লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে তাকে দলে ভেড়ায় কলকাতা নাইট রাইডার্স (KKR)। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই পারিশ্রমিকের পরিমাণ প্রায় ১২ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। এটি আইপিএল নিলামের ইতিহাসে যেকোনো বাংলাদেশি ক্রিকেটারের জন্য এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ মূল্যের রেকর্ড।
এর আগে ২০১৮ সালে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স তাকে ২ কোটি ২০ লাখ রুপিতে দলে নিয়েছিল, যা ছিল সেই সময় পর্যন্ত তার ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ। মাঝের কয়েক মৌসুমে মুস্তাফিজ কাঙ্ক্ষিত দাম না পেলেও তার সাম্প্রতিক দুর্দান্ত পারফরম্যান্স তাকে এবারের নিলামে দামি তারকাদের কাতারে নিয়ে এসেছে।
২. মাশরাফি বিন মুর্তজা: ৬ লাখ ডলার (কলকাতা নাইট রাইডার্স)
মুস্তাফিজের এই রেকর্ডের আগে দীর্ঘ দেড় দশক ধরে সর্বোচ্চ দামে বিক্রির রেকর্ডটি ছিল সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার দখলে। ২০০৯ সালের আইপিএল নিলামে তাকে নিয়ে কাড়াকাড়ি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ৬ লাখ মার্কিন ডলার খরচ করে তাকে দলে নিয়েছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। বর্তমান মুদ্রা বিনিময় হার অনুযায়ী এর মান প্রায় ৫ কোটি ৪৫ লাখ রুপি (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭ কোটি ৩৩ লাখ টাকা)। দীর্ঘ সময় ধরে এই রেকর্ডটি অক্ষুণ্ণ ছিল, যা আজ মুস্তাফিজুর রহমান ভেঙে দিলেন।
৩. সাকিব আল হাসান: ২ কোটি ৮০ লাখ রুপি (কলকাতা নাইট রাইডার্স)
বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান আইপিএলে নিয়মিত মুখ হলেও নিলামে তার সর্বোচ্চ দাম উঠেছিল ২০১৫ সালে। সেবার তাকে ২ কোটি ৮০ লাখ রুপিতে পুনরায় দলে রেখেছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। ক্যারিয়ারে নয়টি আইপিএল আসরে অংশ নিলেও ব্যক্তিগত পারিশ্রমিকের দিক থেকে এটিই ছিল তার সর্বোচ্চ প্রাপ্তি। তবে বয়সের ভার ও সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কারণে এবারের নিলামের চূড়ান্ত তালিকায় নাম ছিল না এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের।

