দীর্ঘ ১৮ বছরের নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে আগামী ২৫ ডিসেম্বর স্বদেশে ফিরছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর এই ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে দেশজুড়ে নেতা-কর্মীদের মধ্যে বইছে উৎসবের আমেজ। প্রিয় নেতাকে বরণ করে নিতে যেমন রাজকীয় প্রস্ততি চলছে, তেমনি তাঁর বসবাসের জন্য গুলশানে প্রস্তুত করা হচ্ছে ঐতিহাসিক এক বাসভবন। পাশাপাশি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গুলশানেই চালু করা হয়েছে দলের নতুন একটি আধুনিক কার্যালয়।
তারেক রহমানের স্থায়ী আবাসস্থল হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে গুলশান এভিনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাড়িটি। এই বাড়িটির সাথে জড়িয়ে আছে জিয়া পরিবারের আবেগ ও স্মৃতি। ১৯৮১ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান শাহাদাতবরণ করার পর বিচারপতি আবদুস সাত্তারের মন্ত্রিসভা বাড়িটি বেগম খালেদা জিয়াকে বরাদ্দ দিয়েছিল। দীর্ঘ আইনি জটিলতা কাটিয়ে গত ৫ জুন বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান ও রাজউক চেয়ারম্যান বাড়িটির দলিল বেগম জিয়ার কাছে হস্তান্তর করেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বাড়িটিতে এখন শেষ মুহূর্তের সংস্কার কাজ চলছে। সীমানা প্রাচীর ও অভ্যন্তরীণ দেয়ালে শুভ্র সাদা রঙের প্রলেপ দেওয়া হয়েছে। নতুন দরজা-জানালা লাগানোর পাশাপাশি আধুনিক আসবাবপত্র দিয়ে ঘরগুলো সাজানো হচ্ছে। নিরাপত্তার খাতিরে বাড়ির সামনে স্থায়ী নিরাপত্তা ছাউনি এবং সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এই বাড়ির কাছেই ভাড়া করা বাসা ‘ফিরোজা’য় থাকছেন তাঁর মা বেগম খালেদা জিয়া।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও দলের নীতিগত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য গুলশানের ৯০ নম্বর সড়কের ১০/সি বাড়িতে চার তলা বিশিষ্ট একটি নতুন কার্যালয় ভাড়া নিয়েছে বিএনপি। আজ বিকেলে এই কার্যালয়েই প্রথমবারের মতো সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহাদী আমিন জানান, এই অফিসটি মূলত নির্বাচনের যাবতীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনার কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হবে। এখানে গবেষণা সেল, মিডিয়া উইং এবং বিভিন্ন বিভাগের জন্য আলাদা বসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়েও বড় ধরণের পরিবর্তন আনা হয়েছে। চেয়ারপারসনের কক্ষের ঠিক পাশেই ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের জন্য একটি স্থায়ী ও আধুনিক অফিস কক্ষ প্রস্তুত করা হয়েছে। আগে এই কক্ষটি মহাসচিব ব্যবহার করলেও এখন সেটি সংস্কার করে তারেক রহমানের জন্য সুসজ্জিত করা হচ্ছে। এছাড়া নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়েও বেগম খালেদা জিয়া ও মহাসচিবের কক্ষের পাশাপাশি তারেক রহমানের জন্য আলাদা কক্ষ বরাদ্দ করা হয়েছে।
আগামী ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমানের সাথে তাঁর মেয়ে জাইমা রহমানও দেশে ফিরছেন। তবে দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তাঁর ফেরার আগেই স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান লন্ডনে চলে যাবেন। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “আমাদের নেতার জন্য পুরো দেশবাসী অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। ২৫ তারিখ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তিনি পৌঁছালে সড়কের দুই পাশে সুশৃঙ্খলভাবে দাঁড়িয়ে নেতা-কর্মীরা তাঁকে বীরোচিত অভ্যর্থনা জানাবেন।”
বিজয় দিবসের এই মাহেন্দ্রক্ষণে তারেক রহমানের দেশে ফেরার খবর বিএনপি নেতা-কর্মীদের মাঝে নতুন প্রাণচাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। দলের মিডিয়া সেলের সদস্য শাইরুল কবির খান বলেন, “আধুনিক স্বনির্ভর রাষ্ট্র নির্মাণের স্বপ্নদ্রষ্টা তারেক রহমান দেশের মাটিতে পা রাখা মাত্রই বাংলাদেশের গণতন্ত্রের নতুন সূর্য উদিত হবে।” তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে ‘আমার ভাবনায় বাংলাদেশ’ শিরোনামে একটি জাতীয় রিল-মেকিং প্রতিযোগিতার কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়েছে।

