বলিউডের গ্ল্যামার জগতে অন্যতম স্থিতিশীল ও চর্চিত দম্পতি হিসেবে পরিচিত সাইফ আলি খান এবং কারিনা কাপুর খান। ২০১২ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া এই তারকা জুটির বয়সের ব্যবধান প্রায় ১০ বছর হলেও, পর্দার বাইরে তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনের রসায়ন বরাবরই ভক্তদের মুগ্ধ করে। তবে আজকের এই গভীর ও মজবুত সম্পর্কের নেপথ্যে ছিল শুরুর দিকের এক বন্ধুর পথ এবং সাইফ আলি খানের তীব্র মানসিক টানাপোড়েন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অভিনেতা নিজেই স্বীকার করেছেন যে, সম্পর্কের শুরুর দিকে তিনি কারিনাকে নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতেন।
এই দীর্ঘ প্রেমের গল্পের সূত্রপাত হয়েছিল ২০০৮ সালে ‘টশন’ ছবির শুটিং সেটে। সেই সময় অভিনেতা শাহিদ কাপুরের সঙ্গে দীর্ঘ পাঁচ বছরের প্রেমের সম্পর্কের ইতি টেনে একাকী সময় পার করছিলেন কারিনা। ঠিক তখনই সাইফ তাঁকে প্রেমের প্রস্তাব দেন। যদিও কারিনা সেই প্রস্তাবে সাড়া দিয়েছিলেন, কিন্তু সাইফের মনের কোণে বাসা বেঁধেছিল এক অজানা আতঙ্ক।
সাইফ আলি খানের মতে, প্রেমের শুরুর দিনগুলোতে আবেগ এতটাই প্রবল থাকে যে অনেক সময় বাস্তবকে মেনে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। নিজের সেই মানসিক অবস্থা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অভিনেতা বলেন, “ব্যক্তিগত জীবনে আমি খুব একটা সহজ বা নমনীয় মানুষ নই। কারিনার আগে আমার জীবনে যাঁদের উপস্থিতি ছিল, তাঁদের সাথে চলচ্চিত্র জগতের কোনো সম্পর্ক ছিল না। ফলে কারিনা যখন আমার জীবনে এল, তখন আমি নিজেকে পুরোপুরি সামলাতে পারছিলাম না।”
সাইফ আরও খোলাসা করে বলেন যে, তৎকালীন সময়ে কারিনা যখন অন্য কোনো নায়কের সাথে পর্দায় অভিনয় করতেন, তখন সাইফ তাঁদের নিজের প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবতে শুরু করতেন। এই তীব্র নিরাপত্তাহীনতা তাঁদের সম্পর্কের শুরুর দিকে এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তবে সময়ের সাথে সাথে সেই অবিশ্বাসের মেঘ কেটে গেছে এবং এর পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান কারিনার ধৈর্য ও বিচক্ষণতার।
কারিনার প্রশংসা করে সাইফ বলেন, “কারিনা আমাদের পুরো সংসারটাকে এক সুতোয় গেঁথে আগলে রেখেছে। ও কেবল একজন নিপুণ এবং সৃজনশীল অভিনেত্রীই নয়, বরং একজন অসাধারণ মা এবং স্ত্রী। ওর মতো বড় মনের মানুষ আমি খুব কম দেখেছি।” সাইফের মতে, কারিনার উপস্থিতিতেই তাঁদের পারিবারিক জীবন আজ আক্ষরিক অর্থেই পূর্ণতা পেয়েছে।
বর্তমানে দুই সন্তান তৈমুর ও জেহকে নিয়ে তাঁদের সুখী গৃহকোণ। অতীতের সেই নিরাপত্তাহীনতা কাটিয়ে আজ তাঁরা একে অপরের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা এবং শক্তিতে পরিণত হয়েছেন। সাইফ আলি খানের এই স্বীকারোক্তি এটিই প্রমাণ করে যে, সম্পর্কের স্থায়ীত্বের জন্য প্রয়োজন কেবল ভালোবাসা নয়, বরং একে অপরের প্রতি অগাধ বিশ্বাস এবং শ্রদ্ধা।

