টলিউড পাড়ায় নেমে এল শোকের কালো ছায়া। জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় আর নেই। শুটিং চলাকালীন দিঘার সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ কেড়ে নিল ৪৩ বছর বয়সী এই প্রতিভাবান অভিনেতার প্রাণ। আজ রোববার (২৯ মার্চ) দিঘার তালসারিতে একটি ধারাবাহিকের শুটিং করতে গিয়ে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। কলকাতার শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’ ও ‘সংবাদ প্রতিদিন’ তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।
প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, রাহুল একটি নতুন প্রকল্পের কাজের জন্য দিঘার তালসারি এলাকায় অবস্থান করছিলেন। শুটিংয়ের একটি দৃশ্যের প্রয়োজনে তিনি সমুদ্রে নামেন। এসময় হঠাৎই সমুদ্রের প্রবল টানে তিনি তলিয়ে যেতে শুরু করেন। সেখানে উপস্থিত কলাকুশলী ও টেকনিশিয়ানরা দ্রুত তাকে উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে জল থেকে তুলে আনেন। সংজ্ঞাহীন অবস্থায় তাঁকে স্থানীয় দিঘা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পানিতে ডুবে শ্বাসরোধ হয়েই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
৪৫০ নাটক থেকে রূপালি পর্দার শিখর
১৯৮৩ সালের ১৬ অক্টোবর জন্ম নেওয়া রাহুলের রক্তে ছিল অভিনয়। ক্যারিয়ারের শুরুতে তিনি প্রায় ৪৫০টি নাটকে অভিনয় করে নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছিলেন। তবে ২০০৮ সালে রাজ চক্রবর্তীর ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ সিনেমার মাধ্যমে তাঁর রাজকীয় অভিষেক ঘটে। সিনেমার ‘কৃষ্ণ’ চরিত্রটি তাঁকে রাতারাতি সুপারস্টার বানিয়ে দেয়।
বাণিজ্যিক ধারার সিনেমার পাশাপাশি বিকল্প ধারার সিনেমাতেও রাহুল ছিলেন সমান জনপ্রিয়। তাঁর অভিনীত ‘জ্যাকপট’, ‘পরান যায় জ্বলিয়া রে’, ‘কাগজের বউ’ এবং ‘আকাশ অংশত মেঘলা’র মতো সিনেমাগুলো দর্শকদের মনে গেঁথে থাকবে। কেবল সিনেমা নয়, ছোটপর্দায় তাঁর সাবলীল অভিনয় তাঁকে বাংলার প্রতিটি ঘরে পরিচিত মুখ করে তুলেছিল।
ব্যক্তিগত জীবন ও ‘সহজকথা’র অপূর্ণতা
রাহুলের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও দর্শকদের কৌতূহলের শেষ ছিল না। ২০১০ সালে তিনি সহ-অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকারকে বিয়ে করেন। তাঁদের ঘর আলো করে আসে পুত্রসন্তান ‘সহজ’। তবে ২০১৭ সাল থেকে তাঁরা আলাদা থাকতে শুরু করেন এবং পরবর্তী সময়ে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়ে যায়।
সাম্প্রতিক সময়ে রাহুল তাঁর নতুন পডকাস্ট ‘সহজকথা’ নিয়ে অত্যন্ত ব্যস্ত ও উচ্ছ্বাসিত ছিলেন। নিজের জীবনদর্শন এবং অভিজ্ঞতার কথা সেখানে ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নিতেন তিনি। কিন্তু কে জানত, জীবনের এই সহজ কথার গল্পগুলো মাঝপথেই এভাবে থেমে যাবে!
স্তব্ধ টলিউড ও শোকাতুর ভক্ত সমাজ
রাহুলের এই আকস্মিক মৃত্যুতে স্তব্ধ হয়ে গেছে টলিউড ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি। সহকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁদের প্রিয় ‘রাহুল দা’র আত্মার শান্তি কামনা করছেন। ভক্তরা বিশ্বাস করতে পারছেন না যে চিরচেনা হাসিমুখের সেই অভিনেতা আর কখনও ক্যামেরার সামনে দাঁড়াবেন না।
দিঘা হাসপাতাল থেকে তাঁর মরদেহ কলকাতায় আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তাঁর মৃত্যুতে বাংলা চলচ্চিত্র জগৎ এক দক্ষ ও সংবেদনশীল অভিনেতাকে হারাল, যা পূরণ হওয়া অসম্ভব। পর্দার ‘কৃষ্ণ’ চলে গেলেন, কিন্তু তাঁর সৃষ্টি রয়ে যাবে কোটি ভক্তের হৃদয়ে।

