আগামী আইপিএলের (IPL) মিনি নিলামকে ঘিরে বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের আগ্রহ তুঙ্গে। আবুধাবিতে অনুষ্ঠিতব্য এই নিলামে দশটি ফ্র্যাঞ্চাইজি মোট সাড়ে তিনশ খেলোয়াড়ের মধ্যে থেকে তাদের স্কোয়াড পূর্ণাঙ্গ করবে, যার মধ্যে বাংলাদেশের সাতজন ক্রিকেটার তালিকায় স্থান পেয়েছেন। তবে আন্তর্জাতিক সূচির সংঘর্ষের কারণে এই ক্রিকেটাররা পুরো মৌসুমে কতটুকু সময় দিতে পারবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হওয়ায় তাদের দল পাওয়ার সম্ভাবনা কিছুটা হলেও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
ক্রিকেটবিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইপিএলের সঙ্গে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক খেলার সূচির সংঘর্ষ এবারের নিলামে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের দল পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। জানা গেছে, ২০২৬ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশ দল নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ছয়টি সাদা বলের ম্যাচের সিরিজে অংশ নেবে। ঠিক একই সময়ে আইপিএল চলমান থাকবে, যার ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর জন্য সম্পূর্ণ সময়ের জন্য পাওয়া কঠিন হবে।
নিলামের আগেই ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে খেলোয়াড়দের প্রাপ্যতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে। এই তথ্য ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর নিলামে খেলোয়াড় নির্বাচনের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এবারের নিলাম থেকে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো সব মিলিয়ে ৭৭ জন খেলোয়াড়কে কিনতে পারবে, যার মধ্যে বিদেশি খেলোয়াড়ের সংখ্যা সর্বোচ্চ ৩২ জন।
নিলামের আগে আজ সন্ধ্যায় আবুধাবিতে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ সভায় বসবে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (BCCI)। এই সভায় বিসিসিআই ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেবে যে কোন বিদেশি খেলোয়াড়কে কতদিনের জন্য পাওয়া যেতে পারে।
তবে বাংলাদেশের ক্রিকেট বোর্ড (BCB) তাদের ক্রিকেটারদের আইপিএলে খেলার জন্য অনাপত্তিপত্র (NOC) দিতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছে। ক্রিকবাজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদীন স্পষ্ট করেছেন যে, তারা চান খেলোয়াড়রা যতটা সম্ভব বেশি সময় আইপিএলে খেলুক। তিনি বলেন, “আইপিএলের বেশিরভাগ সময়ের জন্যই এনওসি দেব আমরা। কারণ আমরা চাই তারা যতটা বেশি সময় সম্ভব খেলুক। আমরা তাদের ন্যূনতম প্রয়োজনে দেশে ফিরিয়ে আনব।” অর্থাৎ, বিসিবি চায় কেবল জাতীয় দলের খেলার সময়টুকু ছাড়া বাকি সময়ে খেলোয়াড়রা আইপিএলে থাকুক।
এবারের নিলামে বাংলাদেশের সাতজন ক্রিকেটার তালিকায় রয়েছেন। এদের মধ্যে অভিজ্ঞ পেসার মুস্তাফিজুর রহমান সর্বোচ্চ ভিত্তিমূল্য ২ কোটি রুপির ক্যাটাগরিতে আছেন। গত বছর তিনি দিল্লি ক্যাপিটালসের (Delhi Capitals) হয়ে খেলেছিলেন।
তালিকার বাকি ছয় ক্রিকেটার এবং তাদের ভিত্তিমূল্য: মুস্তাফিজুর রহমান: ২ কোটি রুপি (সর্বোচ্চ ক্যাটাগরি), তাসকিন আহমেদ: ৭৫ লাখ রুপি, রিশাদ হোসেন: ৭৫ লাখ রুপি, তানজিম হাসান সাকিব: ৭৫ লাখ রুপি, নাহিদ রানা: ৭৫ লাখ রুপি, শরিফুল ইসলাম: ৭৫ লাখ রুপি, রাকিবুল হাসান: ৩০ লাখ রুপি
যদিও আন্তর্জাতিক সূচির কারণে তাদের পুরো টুর্নামেন্টে পাওয়া নিয়ে সংশয় রয়েছে, তবুও মুস্তাফিজুর রহমান ও তাসকিন আহমেদের মতো প্রতিষ্ঠিত ক্রিকেটারদের দল পাওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল। ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো তাদের সীমিত সময়ের প্রাপ্যতার বিষয়টি বিবেচনা করে স্কোয়াডের প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

