ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের অভিযোগ করেছেন যে, সরকার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা শরীফ ওসমান হাদিকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। একইসঙ্গে, তিনি হাদিকে গুলি করার চেষ্টাকারী সন্দেহভাজনকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের আল্টিমেটাম দিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।
রোববার (১৪ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৮টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল্লাহ আল জাবের এসব কথা বলেন। এ সময় ইনকিলাব মঞ্চের অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আব্দুল্লাহ আল জাবের তাঁর বক্তব্যে বলেন, “ওসমান হাদি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার সবচেয়ে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। একই সঙ্গে তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শক্তির সবচেয়ে বড় জায়গায় পরিণত হয়েছিলেন। তাই, হাদিকে রক্ষা করার দায়িত্ব সরকারের ছিল। কিন্তু, সরকার সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে।”
তিনি সরাসরি সরকারের উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমরা আপনাদের ৪৮ ঘণ্টা সময় দিয়েছিলাম। কিন্তু, এই সময়ের মধ্যে আপনারা ওসমান হাদিকে খুনের চেষ্টাকারীকে গ্রেপ্তার করতে পারেননি। ইনকিলাব মঞ্চ ও জনতার মতামতের ভিত্তিতে বলছি, ওসমান হাদি কোনো কারণে নিশ্বাস বন্ধ করলে, সেদিন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শেষ দিন হবে।”
ইনকিলাব মঞ্চের এই নেতা উল্লেখ করেন, “আমরা চুপ করে রয়েছি, এতে মনে করবেন না, ওসমান হাদি শুধু ইনকিলাব মঞ্চের। বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ এখন ওসমান হাদি বলে স্লোগান দেয়। তারা প্রত্যেকেই নিজেকে ওসমান হাদি দাবি করে। সুতরাং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে বলছি, আপনাদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার করুন।”
তিনি দেশের বিচার ব্যবস্থার একাংশের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, “অত্যন্ত নিন্দনীয় একটি বিষয় হলো, আমাদের আইনজীবীরা টাকার কাছে মানবতা বিক্রি করছেন, টাকার কাছে রাষ্ট্রকে বিক্রি করছেন। সেটা না হলে, তার মতো একজন ‘সিরিয়াল কিলারকে’ (ওসমান হাদির ওপর গুলি চালানো সন্দেহভাজন ব্যক্তি) কীভাবে জামিনে বের করে দেওয়া হলো? সে তো অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিল। তার তো মুক্তি পাওয়ার কথা নয়।”
আব্দুল্লাহ আল জাবের মনে করছেন, যারা রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে রয়েছেন, তারা প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি নিশ্চিত করতে পারছেন না। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আগামীকালের (সোমবার) মধ্যে ওসমান হাদির ওপর গুলি চালানো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা না হলে আমরা স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এবং আইন উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি করছি।”
এই নেতা আরও ঘোষণা করেন যে, ইনকিলাব মঞ্চের আয়োজনে আগামীকাল (সোমবার) কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বদলীয় এক সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। তিনি সকল রাজনৈতিক দলকে এই সমাবেশে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানান, তবে যারা “ভারতের তাবেদারি করে”, তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য একটি শ্রেণী উঠে পড়ে লেগেছে। জাবের বলেন, “বাংলাদেশের স্বাধীনতার সার্বভৌমত্ব টিকিয়ে রাখতে হলে, ভারতের কোনো দাসত্ব মেনে নেওয়া হবে না। কোনো রাজনৈতিক দলকেও ভারতের পক্ষপাতি হতে দেওয়া হবে না। আগামীকাল থেকে আমরা সর্বাত্মক প্রতিরোধ পরিস্থিতি গড়ে তুলব। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বাধা দিতে এলে সর্বোচ্চ জবাব দেওয়া হবে।”

