সৌদি আরবের আকাশসীমায় চলমান উত্তেজনার আঁচ এসে লাগল সরাসরি বাণিজ্যিক বিমানবন্দর চত্বরে। দেশটির পূর্বাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আকাশপথ কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের চালানো রক্তক্ষয়ী হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে অবশেষে দুজনে দাঁড়িয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে সৌদি আরবের বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এক আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে এই মর্মান্তিক তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিমানবন্দরটির মতো একটি অতি সংবেদনশীল বেসামরিক স্থাপনায় এমন সরাসরি আঘাত হানার ঘটনায় পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
হতাহতদের পরিচয় ও জাতীয়তা নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতেও চলছে ব্যাপক আলোচনা। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই হামলায় প্রাণ হারানো দুজনে একজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তিনি হলেন একজন ভারতীয় নাগরিক, যিনি কর্মসূত্রে কিংবা যাত্রাবিরতিতে ওই এলাকায় অবস্থান করছিলেন। অপর নিহত ব্যক্তি স্থানীয় সৌদি আরবেরই একজন নিজস্ব নাগরিক।
গত বুধবার সন্ধ্যার ঠিক প্রাক্কালে দাম্মামের এই বিশাল বিমানবন্দর চত্বর লক্ষ্য করে আকস্মিক হামলা চালানো হয়। হুথি বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে ছোঁড়া এই বিস্ফোরকের আঘাতে মুহূর্তের মধ্যে বিমানবন্দরের একটি অংশ কেঁপে ওঠে। তবে এটি কোনো দূরপাল্লার ড্রোন হামলা নাকি কোনো শক্তিশালী মিসাইলের আঘাত ছিল, সে বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ এখনো সুনির্দিষ্ট করে কিছু জানায়নি।
বিস্ফোরণের বিকট শব্দে টার্মিনাল এলাকার সাধারণ যাত্রীদের মাঝে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই নিজের প্রাণ বাঁচাতে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটাছুটি শুরু করেন। নিরাপত্তার স্বার্থে তাৎক্ষণিকভাবে বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড অপারেশন কিছু সময়ের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছিল।
এই আকস্মিক হামলায় কেবল প্রাণহানির ঘটেনি, বরং বেশ কয়েকজন সাধারণ মানুষ গুরুতর জখম হয়েছেন। আহতদের সঠিক সংখ্যা অন্তত আটজন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের আঘাত এতটাই মারাত্মক যে চিকিৎসকরা তাদের জীবন নিয়ে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
বাকি আহতরা তুলনামূলক হালকা জখম নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিচ্ছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী ও উদ্ধারকারী দল মুহূর্তের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করে। রক্তমাখা টার্মিনাল চত্বর থেকে তখন আহতদের আর্তনাদে এক ভারী পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছিল।
সৌদি নিরাপত্তা বাহিনী এবং গোয়েন্দা দল যৌথভাবে বর্তমানে পুরো এলাকাটি কর্ডন করে রেখেছে। হামলার ফলে বিমানবন্দরের মূল অবকাঠামো এবং লজিস্টিক সাপ্লাইয়ে ঠিক কী পরিমাণ বস্তুগত ক্ষতি সাধিত হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে ফরেনসিক ও প্রযুক্তিগত টিম কাজ করছে।
প্রাথমিক ধাক্কা সামলে ওঠার পর অবশ্য বিমানবন্দর পরিচালনা পর্ষদ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলার স্বল্প সময়ের মধ্যেই রানওয়ে ও আকাশপথের ক্লিয়ারেন্স সাপেক্ষে দাম্মাম বিমানবন্দরে বিমান চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করা হয়েছে।
তবে বেসামরিক নাগরিকদের যাতায়াতের এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক পয়েন্টে এই ধরনের ধ্বংসাত্মক আঘাতের পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। যাত্রীদের হ্যান্ডব্যাগ ও লাগেজ তল্লাশির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
গত জুলাই মাস থেকেই সৌদি আরব এবং ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথিদের মধ্যকার দীর্ঘদিনের পুরোনো সংঘাত নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। ওই মাসেই ইয়েমেনের রাজধানী সানায় অবতরণের চেষ্টা করা একটি বাণিজ্যিক বিমানকে আটকে দিয়েছিল সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট।
ইয়েমেনি ওই বিমানটিতে করে ইরান থেকে বেশ কয়েকজন শীর্ষ হুথি নেতা গোপনে দেশে ফিরছিলেন বলে দাবি করেছিল সৌদি জোট। এই ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম ক্ষোভের জন্ম দেয়।
সৌদি জোটের ওই পদক্ষেপের পরপরই প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ওঠে হুথি বিদ্রোহীরা। তারা সৌদি আরবের ভেতরের বিভিন্ন কৌশলগত লক্ষ্যবস্তু, বিমানবন্দর এবং তেল শোধনাগারগুলোকে নিজেদের টার্গেট হিসেবে বেছে নেয়। একের পর এক ড্রোন ও মিসাইল ছুঁড়ে রাজপথ ও শিল্পাঞ্চলে আতঙ্ক তৈরি করতে থাকে তারা।
অন্যদিকে হুথিদের এই উগ্র তৎপরতা পুরোপুরি দমন করতে মাঠে নেমেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন যৌথ সামরিক বাহিনী। রাজধানী সানা থেকে বিদ্রোহী গোষ্ঠীটিকে সম্পূর্ণ হটানোর উদ্দেশ্যে তারা ‘অপারেশন ডন অব ইয়েমেন’ নামের একটি বৃহৎ সামরিক অভিযান পরিচালনা করছে।
এই অভিযানের অংশ হিসেবে ইয়েমেনের বিভিন্ন পাহাড়ি ও জনবহুল অঞ্চলে প্রতিনিয়ত রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও বিমান হামলা চলছে। দুই পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি লড়াইয়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা চরমভাবে বিপন্ন হয়ে পড়েছে।
আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির এই নির্মম খেলায় দিন দিন বেড়েই চলেছে সাধারণ মানুষের লাশের মিছিল। দাম্মাম বিমানবন্দরের এই সাম্প্রতিক হামলাটি প্রমাণ করে যে যুদ্ধের ভৌগোলিক পরিসীমা এখন আর কেবল সীমান্তেই সীমাবদ্ধ নেই।
যুদ্ধের এই কালো ধোঁয়া প্রতিনিয়ত ছড়িয়ে পড়ছে সাধারণ প্রবাসীদের কর্মস্থল ও আকাশপথে। ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যুর পর দিল্লির পক্ষ থেকেও পুরো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।
সৌদি আরবের আকাশসীমা সুরক্ষিত রাখতে মিত্র দেশগুলোর পক্ষ থেকেও এখন নতুন করে প্রতিরক্ষা কৌশল নিয়ে আলোচনা চলছে। আমেরিকার পক্ষ থেকে কিছু কূটনীতিককে সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়ার পর এই হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলল।
সাধারণ মানুষের যাতায়াতের মাধ্যমগুলোকে যুদ্ধের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার এই প্রবণতা বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দাম্মামের রানওয়েতে ঝরে যাওয়া এই রক্ত আগামী দিনে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক হলেও আতঙ্কিত যাত্রীদের বুক থেকে সেই ভয়ের রেশ কাটতে এখনো বেশ কিছুটা সময় লাগবে। বিশ্বমঞ্চে শান্তি প্রতিষ্ঠার কোনো সহজ সমাধান না মিললে এমন মর্মান্তিক পরিণতি হয়তো আরও অনেককে বরণ করতে হবে।
সৌদি ও হুথিদের এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দ্রুত কার্যকর মধ্যস্থতা না করলে এই অঞ্চলে মানবিক বিপর্যয় আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দাম্মামের আকাশে ওড়া ধোঁয়ার কুণ্ডলী যেন সেই অশনিসংকেতই বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছে।
বাণিজ্যিক রুটগুলোতে এমন হামলা আন্তর্জাতিক এভিয়েশনের সুরক্ষার ক্ষেত্রে এক বিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে। বেসামরিক মানুষের জীবনের বিনিময়ে রাজনৈতিক স্বার্থ উদ্ধারের এই নোংরা খেলা বন্ধ হওয়া জরুরি।
হাজার হাজার প্রবাসী কর্মী যারা পেটের দায়ে মরুভূমির এই দেশগুলোতে পাড়ি জমান, তাদের নিরাপত্তা আজ চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। দাম্মাম ও রিয়াদের আকাশসীমার এই অস্থিরতা তাই কেবল দুটি দেশের বিষয় নয়, বরং বৈশ্বিক নিরাপত্তারই অংশ।
নিহত ভারতীয় নাগরিকের পরিবারে এখন শোকের মাতম চলছে। অন্যদিকে স্থানীয় সৌদি নাগরিকের স্বজনদের মাঝেও বিরাজ করছে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা।
আগামী দিনগুলোতে যদি এই হামলা বন্ধ না হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতি ও শ্রমবাজার এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।
তাই কূটনৈতিক আলোচনা এবং সামরিক শক্তি প্রয়োগ—উভয় পথেই এখন শান্তি ফিরিয়ে আনার সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরি করা সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।
দাম্মামের রানওয়েতে ঝরে যাওয়া এই তাজা প্রাণগুলোর স্মৃতি হয়তো মুছে যাবে না সহজে। বরং এই ট্র্যাজেডি বিশ্ববাসীকে নতুন করে ভাবাবে যে যুদ্ধ কখনো কোনো সমস্যার স্থায়ী সমাধান আনতে পারে না।
শান্তির অন্বেষণে থাকা সাধারণ মানুষগুলোর রক্তে ভেজা এই মাটি যেন আর কোনো মায়ের বুক খালি না হওয়ার সাক্ষী থাকে, সেটাই এখন কোটি মানুষের একান্ত প্রার্থনা।
অসামরিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক মহল থেকে নানামুখী চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। হুথি বিদ্রোহীদের এই ধরনের আক্রমণাত্মক কৌশল পুরো অঞ্চলের শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বহু ক্ষেত্রে ড্রোন ও মিসাইল প্রতিহত করলেও, জনবহুল বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে এই আঘাত বড় ধরনের দুর্বলতার কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, গোয়েন্দা তথ্যের আধুনিকায়ন ছাড়া এমন অনাকাঙ্ক্ষিত হামলা সম্পূর্ণ রোখা সম্ভব নয়।
ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ সংকটের প্রভাব যেভাবে আরব উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থনীতি ও জনজীবনের ওপর পড়ছে, তা বিশ্ব অর্থনীতির জন্যও গভীর উদ্বেগের বিষয়। তেলসমৃদ্ধ এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা নষ্ট হলে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বিশ্ববাজারেও।
আহতদের অনেকেই রাজধানী দাম্মামের বিভিন্ন বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের শারীরিক অবস্থা উন্নতির দিকে রয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তবে মানসিক ট্রমা কাটিয়ে উঠতে তাদের বেশ কিছুদিন সময় লাগবে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও নিহত নাগরিকের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে। সেই সঙ্গে সৌদি আরবে অবস্থানরত অন্যান্য ভারতীয় নাগরিকদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য রিয়াদস্থ ভারতীয় দূতাবাসের পক্ষ থেকে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে।
সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে জাতীয় নিরাপত্তা এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যেকোনো ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নিতে তারা পিছপা হবে না। হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করার ইঙ্গিত দিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
অন্যদিকে, হুথি আন্দোলন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করেছে যে যতদিন পর্যন্ত ইয়েমেনের ওপর থেকে সৌদি জোটের সামরিক অবরোধ প্রত্যাহার না করা হবে, ততদিন এই ধরনের প্রতিরোধমূলক আক্রমণ অব্যাহত থাকবে। দুই পক্ষের এই অনড় অবস্থানের ফলে সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার শঙ্কা আরও তীব্র হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকটময় পরিস্থিতিতে সাধারণ প্রবাসীদের মনে এক ধরণের অজানা আতঙ্ক বিরাজ করছে। জীবিকার তাগিদে ভিনদেশে গিয়ে নিজ জীবন নিয়ে সংশয়ে থাকা এই মানুষগুলো এখন একটি স্থায়ী ও নিরাপদ যুদ্ধবিরতির প্রতীক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন।
সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীরা প্রতিনিয়ত দাম্মামের পরিবর্তিত পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন। প্রতিটি নতুন আপডেট বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের এই দীর্ঘস্থায়ী সংকটের ভয়াবহতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
ভবিষ্যতের দিনগুলোতে দাম্মাম কিংবা রিয়াদের আকাশসীমায় শান্তির সুবাতাস কবে ফিরবে, তা নিয়ে সন্দিহান অভিজ্ঞ কূটনৈতিক মহল। তবে মানবিক বিপর্যয় রোধে অবিলম্বে একটি ফলপ্রসূ রাজনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছানো ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই।
বিশ্বের শক্তিশালী দেশগুলোও এই সংঘাত থামাতে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়ে দিয়েছে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা উভয় পক্ষকে সংযত হওয়ার এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার আহ্বান জানিয়েছে।
রক্তাক্ত এই সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে দাম্মাম বিমানবন্দর ও সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের জনপদে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি ও স্বস্তি ফিরে আসুক—এটাই এখন গোটা বিশ্বের যুদ্ধবিরোধী মানুষের একমাত্র কামনা।

