ফ্রান্সের রাজপথগুলোতে এখন শান্ত পরিবেশের আড়ালে এক তীব্র থমথমে উত্তাপ রাজত্ব করছে। জীবনযাত্রার আকাশছোঁয়া ব্যয় বৃদ্ধি এবং সামাজিক বৈষম্যের প্রতিবাদে রূপ নেওয়া গণবিক্ষোভ মোকাবিলায় এবার দেশজুড়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তার চাদর বিছিয়ে দিয়েছে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর নেতৃত্বাধীন সরকার।
শনিবার সকাল থেকেই প্যারিসসহ দেশের প্রতিটি প্রধান শহরের মোড়ে মোড়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে হাজার হাজার সশস্ত্র পুলিশ সদস্য। সম্ভাব্য দাঙ্গা ও সহিংস পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারের এই কঠোর পদক্ষেপ গোটা ফরাসি রাষ্ট্রযন্ত্রের ভেতরে বিরাজমান এক গভীর সংকটের ছবিই ফুটে তুলছে।
ফরাসি সংবাদমাধ্যমগুলোর দেওয়া খবরের ভিত্তিতে কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আলজাজিরা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে যে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই সরকার এই বিপুল বাহিনীর মোতায়েন নিশ্চিত করেছে। শুক্রবারই নিজের সামরিক ও প্রশাসনিক শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে গড়া প্রতিরক্ষা পরিষদের সাথে এক জরুরি নীতি নির্ধারণী বৈঠকে বসেছিলেন প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।
একই সাথে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর উচ্চপদস্থ কমান্ডারদের সাথে দফায় দফায় আলোচনা চালিয়েছেন তিনি। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে রাষ্ট্রপ্রধানের দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে যে, পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে ‘আরও কিছু কঠোর নীতিগত সিদ্ধান্ত’ ঘোষণা করবেন প্রেসিডেন্ট।
ফ্রান্সের চলমান এই সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্য সরাসরি ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ উগ্র-বামপন্থী দল এবং বিভিন্ন উগ্রবাদী সামাজিক গোষ্ঠীকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়ী করেছেন ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। তাঁর মতে, সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে কিছু উগ্র দল দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।
দেশজুড়ে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির রেশ ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে ফ্রান্সের বড় বড় শহরগুলোতে জনসমাগম, প্রকাশ্য রাজনৈতিক সভা এবং গণপরিবহন চলাচলের ওপর একের পর এক কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। রাজধানী প্যারিসের স্বাভাবিক নাগরিক জীবন এখন সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ গণমাধ্যমকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন যে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শনিবার একযোগেই প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ সদস্যকে রাজপথে নামানো হয়েছে। গত সপ্তাহের শনিবারের তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার বেশি, যা সরকারের কঠোর অবস্থানের কথাই মনে করিয়ে দেয়।
নিছক পদাতিক বা সাধারণ ট্রাফিক পুলিশ নয়, মোতায়েন করা বাহিনীর তালিকায় রয়েছে ফরাসি পুলিশ বাহিনীর বিশেষ এলিট ইউনিট, অশ্বারোহী ইউনিট, নজরদারি হেলিকপ্টার ও ড্রোন। রাজপথে মানুষের ঢল রুখতে নিয়ে আসা হয়েছে ভারী সাঁজোয়া যান এবং বিশালাকার জলকামান।
অনলাইনে সক্রিয় উগ্র-বামপন্থী বিভিন্ন গ্রুপ নিজেদের অনুসারীদের সরকারি কার্যালয় এবং সংবেদনশীল প্রশাসনিক ভবনগুলোতে হামলা চালানোর উস্কানি দিচ্ছে বলে দাবি করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নুনেজ। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন যে, যেকোনো মূল্যে রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি ও শৃঙ্খলার রক্ষা করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে লরেন্ট নুনেজ অত্যন্ত কঠোর ভাষায় স্পষ্ট করেন, দাঙ্গাবাজ, সরকারি সম্পত্তি লুটেরা এবং যারা সহিংসতায় লিপ্ত হবে, তাদের কারো প্রতি বিন্দুমাত্র নমনীয়তা বা শিথিলতা দেখাবে না সরকার। পুলিশকে সেভাবেই কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা রাজপথে কোনো শান্তিপূর্ণ বা বন্ধুত্বপূর্ণ সমাবেশের মুখোমুখি হচ্ছি না। আমরা চরম সতর্ক ও কঠোর থেকে প্রতিটি মোড় পাহারা দেব; দেশে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না। গত সপ্তাহে জারি করা রাতের কারফিউ এখনও পুরোপুরি বহাল রয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার এক বিশেষ প্রশাসনিক বার্তায় প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, শনিবার কেবল দেশের স্বীকৃত শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর নিবন্ধিত মিছিলেই সম্মতি দেবে প্রশাসন। অন্য যেকোনো ধরনের নাগরিক আন্দোলনকে অবৈধ হিসেবে গণ্য করা হবে।
প্রেসিডেন্টের এই একতরফা ও কঠোর ঘোষণার পর দেশটির বিভিন্ন ছাত্র ও যুব সংগঠনগুলোর ভেতরে মারাত্মক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুলগুলোর শ্রেণীকক্ষের অপ্রতুলতা এবং টিউশন ফি বৃদ্ধির বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন চালিয়ে আসছিল এই তরুণ শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের সেই ক্ষোভের সাথে পরবর্তীতে যুক্ত হয় জীবনযাত্রার অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ ব্যয়, মূল্যস্ফীতি এবং সামাজিক নিরাপত্তার ঘাটতি নিয়ে রাজপথে নামা সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের দল। ফলে একটি বিচ্ছিন্ন সামাজিক আন্দোলন দ্রুতই এক সর্বাত্মক সরকারবিরোধী গণবিক্ষোভে রূপ লাভ করে।
গত শনিবারের পরিসংখ্যান টেনে ফরাসি স্বরাষ্ট্র দপ্তর জানায়, সেদিন পুরো ফ্রান্সজুড়ে পাঁচ লাখেরও বেশি ক্ষুব্ধ মানুষ সরকারের নীতির প্রতিবাদে রাজপথে নেমে এসেছিল। কিন্তু দিনের শেষভাগে সেই জমায়াত বেশ কিছু স্থানে পুলিশি বাধার মুখে পড়ে চরম সহিংসতা ও দোকানপাট লুটপাটের ঘটনায় পর্যবসিত হয়।
রাজধানী প্যারিসের শান্ত রাতগুলোকে সংঘাতমুক্ত রাখতে নৈশ কারফিউ সোমবার পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। রাতের আঁধারে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত জমায়াত দেখলেই দ্রুত আটকের নির্দেশ জারি করা হয়েছে কড়া পাহারায় থাকা টহল পুলিশকে।
একই সাথে ফ্রান্সের তৃতীয় বৃহত্তম ও শিল্প সমৃদ্ধ শহর লিওঁ-র কেন্দ্রীয় বাণিজ্যিক এলাকায় সব ধরনের নাগরিক জনসমাগম সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শনিবারের জন্য সেখানে কঠোরভাবে কারফিউ এবং গণপরিবহন চলাচলের গতিসীমা ও রুট পুনর্নির্ধারণ করে আইনি জারি করা হয়েছে।
উপকূলীয় গুরুত্বপূর্ণ বন্দর নগরী মার্সেইতেও আগে সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তবে স্থানীয় সংকট ও শ্রমিক অসন্তোষ বিবেচনায় এনে শুক্রবার দেশটির কর্তৃপক্ষ জানায়, বিশেষ বিবেচনায় শহরের নির্দিষ্ট একটি পথে কেবল রেজিস্টার্ড শ্রমিক ইউনিয়নের মিছিলের অনুমতি দেওয়া হবে।
চলমান গণঅসন্তোষ কমানোর কৌশল হিসেবে শুক্রবার প্রথমবারের মতো হাইস্কুল পর্যায়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দলের সাথে বঙ্গভবন সদৃশ এলিসি প্রাসাদে মুখোমুখি বৈঠকে বসেছিলেন প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। তরুণদের ক্ষোভ মেটাতে এটি ছিল তাঁর একটি প্রাথমিক প্রচেষ্টা।
শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘হাইস্কুল রিনিউয়াল’-এর সভাপতি নাথানায়েল কম্বারি বৈঠকের পর সাংবাদিকদের জানান, প্রেসিডেন্ট তাদের দাবির কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন সত্য, তবে তাদের আশা ছিল আরও সুনির্দিষ্ট নীতিগত সমাধানের। তাঁরা সোমবার প্রধানমন্ত্রীর সাথে হতে যাওয়া দ্বিতীয় দফার আলোচনার অপেক্ষায় রয়েছেন।
প্রেসিডেন্টের সাথে বৈঠক শেষে ক্ষোভ প্রকাশ করে নাথানায়েল কম্বারি বলেন, প্রেসিডেন্টের গোলমেলে আশ্বাসে আমরা বিন্দুমাত্র সন্তুষ্ট হতে পারিনি। তিনি আন্দোলনকারী সব শিক্ষার্থীকে রাজপথে নিজেদের ঐক্যবদ্ধ রাখার ও দাবি আদায়ের আন্দোলন কর্মসূচি অব্যাহত রাখার উদাত্ত আহ্বান জানান।
এদিকে শিক্ষা ও নাগরিক অধিকার রক্ষার লক্ষ্যে সব ধরনের সরকারি বিধিনিষেধ ও নিষেধাজ্ঞা তুচ্ছ করে আন্দোলনের ডাক দিয়েছে ফ্রান্সের সবচেয়ে প্রাচীন ও প্রভাবশালী জাতীয় ছাত্র ইউনিয়ন ‘ইউএনইএফ’। তারা রাজপথ না ছাড়ার অঙ্গীকারে অনড় থাকার ঘোষণা দিয়েছে।
ছাত্র সংগঠনের এই সাহসী অবস্থানের সঙ্গে পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করে মাঠে নামার বার্তা দিয়েছে ২০১৮ সালের বহুল আলোচিত সরকারবিরোধী আন্দোলন ‘ইয়েলো ভেস্ট’। পেট্রোলের দাম বৃদ্ধি ও ম্যাক্রোঁর অর্থনৈতিক নীতির বিরুদ্ধে আত্মপ্রকাশ করা এই গোষ্ঠীটি শনিবার প্যারিসের প্রাণকেন্দ্রে বিশাল এক পদযাত্রার পরিকল্পনা পেশ করেছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের খবর অনুযায়ী, প্যারিস পুলিশ কমিশনারের দপ্তর থেকে কেবল নিবন্ধিত ট্রেড ইউনিয়নগুলোকে নির্দিষ্ট আইনি সীমানার ভেতরে পদযাত্রার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ইউএনইএফ এবং ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলনের জমায়াতের লিখিত অনুরোধ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে নগর পুলিশ।
তবে পুলিশের এমন রক্তচক্ষু ও নিষেধাজ্ঞার মুখেও দমে যাওয়ার পাত্র নয় ছাত্র ইউনিয়ন। ইউএনইএফ-এর কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, আইনের দোহাই দিয়ে তাদের অধিকার স্তব্ধ করা যাবে না এবং নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী তারা রাজপথে নিজেদের কর্মসূচি পালন করবেই।
অন্যদিকে প্যারিসের উত্তেজনার বাইরে দেশের দক্ষিণে অরলিয়ঁ শহরে সৃষ্টি হয়েছে এক ভিন্ন ধরণের রাজনৈতিক সমীকরণ। সেখানে ফ্রান্সের প্রধান বিরোধীদলীয় নেত্রী মেরিন ল্য পেনের কট্টর ডানপন্থী দল ‘ন্যাশনাল র্যালি’ তাদের বাৎসরিক জাতীয় দলীয় কংগ্রেসের আয়োজন করতে যাচ্ছে।
কট্টর ডানপন্থীদের এই জাতীয় সমাবেশের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে অরলিয়ঁ শহরে প্রায় ২০ হাজার থেকে ৩০ হাজার আমজনতা ও বামপন্থী কর্মী রাজপথে নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে পারেন বলে আশঙ্কা করছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। তবে সংঘাত এড়াতে স্থানীয় প্রশাসন স্পষ্ট করে দিয়েছে, মূল শহরের কেন্দ্রস্থলে কোনো জমায়াত করতে দেওয়া হবে না।
ফ্রান্স সরকারের এই সাঁড়াশি পুলিশি অভিযান ও নাগরিক সভা-সমাবেশের ওপর ঢালাও নিষেধাজ্ঞার কঠোর সমালোচনা করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এক বিশেষ বিবৃতিতে বলেছে, ফরাসি সরকারের এই সাম্প্রতিক বিধিনিষেধ আসলে ‘স্বৈরাচারী ও কর্তৃত্ববাদী আচরণের দিকে ঝুঁকে পড়ার’ এক ভয়াল লক্ষণ, যা নাগরিকদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকারকে বিপন্ন করছে।
একই সাথে নিউ ইয়র্ক ভিত্তিক বিশ্বখ্যাত মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ চরম উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে যে, বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে ফরাসি পুলিশ যেসব বিতর্কিত ভিড় নিয়ন্ত্রণ অস্ত্র ও টিয়ারগ্যাস ব্যবহার করছে, তার আঘাতে বহু শিক্ষার্থী ও অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু গুরুতর শারীরিক আঘাতের শিকার হয়েছে।
সরকারের এই খামখেয়ালি সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন ফরাসি শ্রমিক সংগঠন ‘ডেমোক্রেটিক কনফেডারেশন অফ লেবার’-এর সাধারণ সম্পাদক মারিলিস লিওঁ। তিনি মন্তব্য করেছেন, সাধারণ ফরাসি নাগরিকদের মনে যে ক্ষোভ জমা হয়েছে, সেই ক্ষোভকে কেবল পুলিশ আর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে চেপে রাখার নীতি সম্পূর্ণ ‘উল্টো ফল বয়ে আনবে’।
ফ্রান্সের শিক্ষার্থী ইউনিয়ন ইউএনইএফ এক কড়া বিবৃতিতে সরকারের প্রতি ধিক্কার জানিয়ে বলেছে, ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ আমাদের দেশে নাগরিকদের স্বাধীনভাবে প্রতিবাদ করার অধিকারকে বুটের তলায় পিষে ফেলছেন। তিনি যে ফরাসি প্রজাতন্ত্রের মৌলিক মূল্যবোধ ও স্বাধীনতার কথা প্রচার করেন, তাঁর নিজের আচরণই সেই মূল্যবোধের ওপর এক চরম অপমান।
পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের সম্ভাব্য সংঘর্ষের আশঙ্কায় ফ্রান্সের প্রতিটি প্রধান বাণিজ্যিক শহরের দোকানপাট ও বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো আগাম বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ব্যবসায়ীরা নিজেদের শো-রুম কাঠের প্যানেল দিয়ে ঢেকে রাখছেন ভাঙচুরের হাত থেকে বাঁচতে।
প্যারিসের বিশ্ববিখ্যাত ল্যুভর জাদুঘর এবং লুই ভুইতোঁ ফাউন্ডেশন শনিবারে দর্শনার্থীদের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার নোটিশ ঝুলিয়ে দিয়েছে। এ ছাড়া, প্যারিসে আন্তর্জাতিকভাবে আয়োজিত হতে যাওয়া বিখ্যাত শিল্প মেলা ‘আর্ট বাসেল’ (Art Basel) সূচি অনুযায়ী শেষ হওয়ার দুই দিন আগেই তড়িঘড়ি করে শুক্রবার ইতি টানতে বাধ্য হয়েছে।
ফ্রান্সের বিচার মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ তথ্য থেকে জানা গেছে, গত শনিবারের সহিংসতা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশটির পুলিশ অন্তত ২ হাজার ৭০০ জন নাগরিককে গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠিয়েছে।
রাজপথের এই অস্থিরতা, অর্থনৈতিক চাপ এবং পুলিশের সাঁজোয়া যানের মুখোমুখি থাকা ফরাসি সমাজ আজ এক বড় ঐতিহাসিক পরীক্ষার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে। আলোচনার টেবিলে নমনীয়তা নাকি রাজপথে অস্ত্রের তেজ—কোন পথে শান্ত হবে প্যারিসের আকাশ, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

