বগুড়ার মোকামতলা-জয়পুরহাট মহাসড়কটি শুক্রবার সকালে আর দশটা সাধারণ দিনের মতোই শান্ত ছিল। ভোরের রোদ কেবল পিচঢালা কালো রাস্তার ওপর ছড়াতে শুরু করেছে। শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামের ষাট বছর বয়সী বৃদ্ধা ফিরোজা বেগমের জন্যও সকালটা ছিল একেবারে স্বাভাবিক।
নিজের পরিচিত এই গ্রামের বুক চিরে চলে যাওয়া মহাসড়কটি পার হওয়ার জন্যই বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ফিরোজা বেগমের একটি বড় শারীরিক সীমাবদ্ধতা ছিল, তিনি ছিলেন সম্পূর্ণ বধির।
চারপাশের কোনো শব্দই তার কানে পৌঁছাত না। আর এই নিস্তব্ধতাই শুক্রবার সকালে তার জীবনের সবচেয়ে বড় কাল হয়ে দাঁড়াল। দূর থেকে প্রবল বেগে ধেয়ে আসা একটি সরকারি গাড়ির ইঞ্জিনের গর্জন তার কানে পৌঁছানোর আগেই এক নিমেষে সব শেষ হয়ে গেল।
মহাসড়ক দিয়ে তীব্র গতিতে ছুটে আসা সেই গাড়িটি কোনো সাধারণ যাত্রীবাহী বা ব্যক্তিগত যান ছিল না। গাড়িটিতে সস্ত্রীক অবস্থান করছিলেন সরকারের জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী। সরকারি এক গুরুত্বপূর্ণ সফরে তিনি রাজধানী ঢাকা থেকে নিজের সংসদীয় নির্বাচনী এলাকা জয়পুরহাট-২ আসনের দিকে যাচ্ছিলেন।
ভিআইপি বা সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বহরের গাড়িগুলো মহাসড়কে সাধারণত যে ধরনের প্রবল গতিতে চলাচল করে, প্রতিমন্ত্রীর এই গাড়িটিও তার ব্যতিক্রম ছিল না। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, গাড়িটির গতিবেগ এতটাই বেশি ছিল যে, চালক যখন মহাসড়ক পার হতে যাওয়া ওই বধির বৃদ্ধাকে দেখতে পান, তখন তার হাতে আর গাড়িটি নিরাপদে থামানোর মতো কোনো সময় বা দূরত্ব অবশিষ্ট ছিল না।
দুর্ঘটনার সেই মুহূর্তটি ছিল অত্যন্ত রোমহর্ষক ও মর্মান্তিক। পথচারী বৃদ্ধাকে বাঁচাতে গাড়ির চালক শেষ মুহূর্তে কষে ব্রেক চাপেন এবং স্টিয়ারিং ঘুরিয়ে দেন। কিন্তু প্রচণ্ড গতির কারণে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ রাখা সম্ভব হয়নি। ভারী সরকারি গাড়িটি সরাসরি বৃদ্ধা ফিরোজা বেগমকে সজোরে ধাক্কা মারে। ধাক্কার তীব্রতায় বৃদ্ধা ছিটকে পড়েন রাস্তার ওপর।
অন্যদিকে নিয়ন্ত্রণ হারানো প্রতিমন্ত্রীর গাড়িটি মহাসড়কের পাকা অংশ থেকে ছিটকে সোজা পাশের একটি গভীর ধানক্ষেতের কাদাপানিতে গিয়ে আছড়ে পড়ে। বিকট শব্দ আর আর্তনাদে মুহূর্তের মধ্যেই এলাকার শান্ত পরিবেশ সম্পূর্ণ ভারী হয়ে ওঠে এবং আশেপাশের বাড়িঘর ও মাঠ থেকে ছুটে আসেন সাধারণ গ্রামবাসী।
গ্রামবাসীরা ছুটে গিয়ে দেখতে পান এক চরম বিষাদময় দৃশ্য। রাস্তার একপাশে রক্তাক্ত ও মুমূর্ষু অবস্থায় পড়ে আছেন তাদের পরিচিত মুখ ফিরোজা বেগম। অন্যদিকে কাদাপানিতে পড়ে থাকা বিধ্বস্ত গাড়ির ভেতর আটকা পড়েছেন স্বয়ং প্রতিমন্ত্রী ও তার স্ত্রী। স্থানীয়রা কালক্ষেপণ না করে দ্রুত উদ্ধার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন।
তারা প্রথমে গুরুতর আহত ফিরোজা বেগমকে উদ্ধার করেন। গ্রামের সাধারণ মানুষ নিজেদের উদ্যোগে একটি গাড়ির ব্যবস্থা করে জীবনের সাথে লড়তে থাকা ওই বৃদ্ধাকে নিয়ে বগুড়া শহরের দিকে রওনা হন। তাদের একমাত্র লক্ষ্য ছিল যে করেই হোক এই প্রান্তিক মানুষটির প্রাণ বাঁচিয়ে তোলা।
আহত ফিরোজা বেগমকে নিয়ে যাওয়া হয় বগুড়ার স্বনামধন্য টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে বাঁচানোর জন্য সব ধরনের চেষ্টা চালান। কিন্তু গাড়ির ধাক্কায় তার শরীরের ভেতরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
প্রচুর রক্তক্ষরণ ও মাল্টিপল ট্রমার কারণে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে। চিকিৎসকদের শত আপ্রাণ চেষ্টা ও গ্রামবাসীদের প্রার্থনার পরও শেষ রক্ষা হয়নি। দুপুর পৌনে ১২টার দিকে হাসপাতালের মনিটরে তার হৃদস্পন্দন চিরতরে থেমে যায় এবং কর্তব্যরত চিকিৎসকরা আনুষ্ঠানিকভাবে ফিরোজা বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর এই খবর গোপীনাথপুর গ্রামে পৌঁছালে সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।
অন্যদিকে দুর্ঘটনাস্থলে তৈরি হয়েছিল আরেক ধরনের ব্যস্ততা ও তৎপরতা। ধানক্ষেতে ছিটকে পড়া গাড়ির ভেতর থেকে স্থানীয়দের সহায়তায় জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী এবং তার স্ত্রীকে উদ্ধার করা হয়। সরকারের একজন মন্ত্রীর দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে ছুটে যায় স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
দুর্ঘটনায় গাড়িটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও, সৌভাগ্যবশত প্রতিমন্ত্রী ও তার স্ত্রী প্রাণে বেঁচে যান। তবে প্রচণ্ড ঝাঁকুনি ও আঘাতের কারণে প্রতিমন্ত্রী কিছুটা আহত হন। দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেখানে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের ডেকে এনে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়।
প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে প্রতিমন্ত্রীর জন্য বিকল্প একটি সুরক্ষিত গাড়ির ব্যবস্থা করা হয়। দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িটি ধানক্ষেতেই পড়ে থাকে এবং তিনি সেই বিকল্প গাড়িতে করে নিরাপদে নিজের গন্তব্যে ফিরে যান। রাষ্ট্রের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে তার নিরাপত্তায় কোনো ত্রুটি রাখেনি স্থানীয় প্রশাসন।
কিন্তু প্রশাসনের এই দ্রুত তৎপরতার বিপরীতে হাসপাতালের মর্গে পড়ে থাকা ফিরোজা বেগমের নিথর দেহটি যেন দেশের সাধারণ মানুষের অসহায়ত্বের এক নীরব প্রতিচ্ছবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভিআইপিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হলেও, মহাসড়কের পাশে বসবাসকারী সাধারণ মানুষের জীবনের নিরাপত্তা যে কতটা ঠুনকো, এই ঘটনা তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।
শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুজ্জামান সংবাদমাধ্যমের কাছে এই দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই শিবগঞ্জ থানা পুলিশের একটি বড় দল দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে উপস্থিত হয়। তারা উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করার পাশাপাশি দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন।
মহাসড়কের যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ট্রাফিক ব্যবস্থাও নিয়ন্ত্রণ করা হয়। ভিআইপি প্রটোকলের গাড়ি হওয়ায় পুলিশ অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পুরো বিষয়টি তদারকি করছে। দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িটি উদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।
এদিকে বগুড়া সদরে টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিবেশ ছিল শুধুই শোকের। স্বামী হারানো ষাটোর্ধ্ব ফিরোজা বেগম ছিলেন তার পরিবারের এক অন্যতম ভরসার জায়গা। বধির হওয়া সত্ত্বেও তিনি কখনো কারও বোঝা ছিলেন না। তার এই আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যু পরিবারের সদস্যদের একেবারে হতবাক করে দিয়েছে।
খবর পেয়ে স্বজনরা যখন হাসপাতালে ছুটে আসেন, তখন তাদের কান্নায় হাসপাতালের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। তারা কিছুতেই মেনে নিতে পারছিলেন না যে, সকালে স্বাভাবিকভাবে বাড়ি থেকে বের হওয়া মানুষটি আর কখনো ফিরে আসবে না।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে আইনি প্রক্রিয়াগুলোর দেখভাল করছেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, নিহত ফিরোজা বেগমের মরদেহ বর্তমানে হাসপাতালের মর্গে পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে। এই ধরনের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ক্ষেত্রে সাধারণত ময়নাতদন্তের প্রয়োজন হয়।
তবে পরিবারের সদস্যদের সাথে পুলিশের আলোচনা চলছে। তারা যদি ময়নাতদন্ত ছাড়া লাশ নিতে চান, তবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে সেই ব্যবস্থাও করা হতে পারে। একটি সরকারি যান ও ভিআইপি জড়িত থাকায় আইনি প্রক্রিয়াগুলো অত্যন্ত সতর্কতার সাথে সম্পন্ন করা হচ্ছে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
এই দুর্ঘটনাটি বাংলাদেশের মহাসড়কগুলোতে সড়ক নিরাপত্তার এক পুরোনো অথচ অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক বিতর্ককে নতুন করে উসকে দিয়েছে। দেশের অধিকাংশ মহাসড়কই প্রত্যন্ত গ্রাম ও জনবসতির ঠিক মাঝখান দিয়ে চলে গেছে। কিন্তু এই সড়কগুলোর পাশে বসবাসকারী লাখ লাখ মানুষের নিরাপদে রাস্তা পার হওয়ার জন্য পর্যাপ্ত ওভারপাস, জেব্রা ক্রসিং বা ফুটওভার ব্রিজের চরম অভাব রয়েছে।
বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক এবং ফিরোজা বেগমের মতো শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকা মানুষদের জন্য এই মহাসড়কগুলো একেকটি মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। দ্রুতগতির গাড়িগুলো যখন গ্রামের বাজার বা লোকালয় অতিক্রম করে, তখন চালকরা প্রায়শই গতি কমানোর কোনো প্রয়োজন বোধ করেন না।
সরকারি বা ভিআইপি গাড়িগুলোর বেপরোয়া গতির বিষয়টিও এখানে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, মন্ত্রী-এমপি বা সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের গাড়িগুলো মহাসড়কে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে চলাচল করে। সাইরেন বাজিয়ে এবং হুটার ব্যবহার করে তারা অন্য সব গাড়িকে সরিয়ে দিয়ে প্রবল বেগে নিজেদের গন্তব্যে ছোটেন।
ভিআইপিদের সময়ের মূল্য অনেক বেশি হলেও, তাদের এই গতির কারণে সাধারণ পথচারীদের জীবনের ঝুঁকি যে বহুগুণ বেড়ে যায়, সেদিকে কারও ভ্রুক্ষেপ নেই। গোপীনাথপুর গ্রামের বাসিন্দাদের দাবি, গাড়িটি যদি লোকালয় পার হওয়ার সময় অন্তত কিছুটা গতি কমাত, তবে হয়তো চালক ব্রেক কষার জন্য পর্যাপ্ত সময় পেতেন এবং এই প্রাণহানি এড়ানো যেত।
আইনি কাঠামোর দিক থেকেও এ ধরনের ঘটনাগুলো সাধারণ মানুষের জন্য এক বড় হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যখন কোনো সাধারণ গাড়ি দুর্ঘটনায় পড়ে, তখন পুলিশ দ্রুত মামলা নেয় এবং চালককে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করে। কিন্তু সরকারি গাড়ি বা প্রভাবশালীদের ক্ষেত্রে দৃশ্যপট সম্পূর্ণ ভিন্ন হয়।
আইনি জটিলতা, আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতা এবং ক্ষমতার প্রভাবে নিহতের পরিবারগুলো বেশিরভাগ সময়ই সঠিক বিচার থেকে বঞ্চিত হয়। ফিরোজা বেগমের পরিবার এই ঘটনায় কোনো আইনি পদক্ষেপ নেবে কিনা বা নিলেও রাষ্ট্রযন্ত্রের বিরুদ্ধে তারা কতটুকু সুবিচার পাবে, তা নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে গভীর সংশয় রয়েছে।
একটি মৃত্যুর মাধ্যমে দুটি ভিন্ন বাস্তবতার চিত্র ফুটে উঠেছে বগুড়ার এই জনপদে। একদিকে রাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ের একজন প্রতিনিধি, যিনি দুর্ঘটনার পর সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় আনুকূল্যে চিকিৎসা পেয়ে নিরাপদে বাড়ি ফিরে গেছেন। অন্যদিকে একজন প্রান্তিক, বধির বৃদ্ধা, যিনি কেবল রাস্তা পার হতে গিয়ে রাষ্ট্রীয় যানের চাকায় পিষ্ট হয়ে মর্গে পড়ে আছেন।
এই বৈষম্য কেবল একটি দুর্ঘটনার নয়, এটি আমাদের সামগ্রিক সমাজ ব্যবস্থার এক রূঢ় বাস্তবতা। সাধারণ মানুষের জীবনের মূল্য যে প্রভাবশালীদের কাছে এখনো কতটা তুচ্ছ, শুক্রবারের এই সকাল যেন তারই এক করুণ সাক্ষ্য বহন করছে।
বিকেলের দিকে যখন ফিরোজা বেগমের মৃতদেহ আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে, তখন গোপীনাথপুর গ্রামে নামবে এক শোকের ছায়া। একটি কবর খোঁড়া হবে, জানাজা অনুষ্ঠিত হবে এবং চোখের জলে চিরবিদায় জানানো হবে তাকে।
কিন্তু মহাসড়কের ওই পিচঢালা রাস্তায় ভিআইপিদের গাড়ির সাইরেন আর গতির হয়তো কোনো পরিবর্তন আসবে না। যতক্ষণ না পর্যন্ত আমরা প্রতিটি মানুষের জীবনের সমান মূল্য দিতে শিখব এবং সড়ক ব্যবস্থাপনায় ভিআইপি সংস্কৃতির বদলে মানবিকতাকে প্রাধান্য দেব, ততক্ষণ পর্যন্ত ফিরোজা বেগমদের এভাবেই পিষ্ট হতে হবে রাষ্ট্রের চাকায়।

