বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কোর সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠকের পর মিনস্কের পটাশ সারের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে চলেছে যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) মিনস্কে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত জন কোয়েলের বরাত দিয়ে বেলারুশের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বিশ্বে সার তৈরির গুরুত্বপূর্ণ উপাদান পটাশের অন্যতম বৃহৎ উৎপাদক হলো রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র বেলারুশ। তবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে বেলারুশ কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, সেই বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত মাসে বেলারুশবিষয়ক বিশেষ দূত হিসেবে জন কোয়েলকে নিয়োগ দেন। কোয়েলকে সাবেক সোভিয়েত রাষ্ট্র বেলারুশে এক হাজারের বেশি রাজনৈতিক বন্দীর মুক্তি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ইউরোপে ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধরত রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে বেলারুশের গুরুত্ব বর্তমানে বৃদ্ধি পেয়েছে।
বেলারুশের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বেলটার প্রতিবেদনে কোয়েলের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, তিনি প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কোর সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেছেন। কোয়েল নিশ্চিত করেন, তাঁরা ইউক্রেন ও রাশিয়ার চলমান যুদ্ধ এবং ভেনেজুয়েলা পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেছেন।
প্রেসিডেন্ট লুকাশেঙ্কোর সঙ্গে দু’দিনের বৈঠকের বিষয়ে জন কোয়েল জানান: “প্রেসিডেন্ট লুকাশেঙ্কোর সঙ্গে অত্যন্ত ভালো আলোচনা হয়েছে। আমরা ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলেছি। যুক্তরাষ্ট্র ও বেলারুশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য কীভাবে ঘনিষ্ঠতার পথে এগোনো যায়, তা নিয়েও কথা হয়েছে। সেটাই আমাদের লক্ষ্য।”
কোয়েল তাঁর আলোচনায় ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্ট লুকাশেঙ্কোর সঙ্গে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের দিকটিও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বেলারুশের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট পুতিনের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে এবং তাঁকে পরামর্শ দেওয়ার সক্ষমতাও লুকাশেঙ্কোর আছে। এই পরিস্থিতিতে এটি খুবই কাজে লাগতে পারে।
কোয়েল আরও বলেন, “তারা দীর্ঘদিনের বন্ধু এবং এমন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার মতো প্রয়োজনীয় সম্পর্ক তাদের আছে।” তবে তিনি বাস্তবতার কথা স্বীকার করে বলেন, স্বাভাবিকভাবেই প্রেসিডেন্ট পুতিন কিছু পরামর্শ গ্রহণ করতে পারেন, আবার কিছু নাও করতে পারেন। এভাবেই প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। মার্কিন এই পদক্ষেপ দুটি দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

