দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় পর চাঁদপুরের মাটিতে পা রাখছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২২ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ শনিবার সকাল থেকেই মেঘনাপাড়ের এই জেলায় বইছে উৎসবের আমেজ। ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ এবং স্থানীয় কৃষির সুরক্ষায় খাল পুনঃখনন কার্যক্রমসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও জনকল্যাণমুখী কর্মসূচিতে অংশ নিতেই প্রধানমন্ত্রীর এই সফর।
শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার পর ঢাকার গুলশানের বাসভবন থেকে সড়ক পথে চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকার প্রধানের এই সফরকে কেন্দ্র করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে শুরু করে চাঁদপুরের প্রবেশপথ পর্যন্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি গণমাধ্যমকে এই সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সফরসূচি অনুযায়ী, চাঁদপুর পৌঁছানোর আগেই পথিমধ্যে একটি জনসভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। বেলা সাড়ে ১১টায় কুমিল্লার বরুড়ার লক্ষ্মীপুর বাজার মাঠে একটি পথসভায় বক্তব্য রাখবেন তিনি। সেখানে স্থানীয় জনগণের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং সরকারের উন্নয়ন ভাবনা নিয়ে কথা বলবেন সরকার প্রধান। দীর্ঘ সময় পর দলের শীর্ষ নেতাকে কাছ থেকে দেখতে সকাল থেকেই বরুড়ার সমাবেশস্থলে ভিড় জমাচ্ছেন স্থানীয় মানুষ।
কুমিল্লার কর্মসূচি শেষ করে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি চলে যাবেন চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায়। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শাহরাস্তির টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের ওয়ারুক বাজার এলাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে তার। সেখানে তিনি খোর্দ্দ খাল পুনঃখনন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। স্থানীয় কৃষকদের সেচ সুবিধা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে এই খালটি দীর্ঘ দিন ধরে সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছিলেন এলাকাবাসী।
এরপর দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহ মাহমুদপুর ইউনিয়নের কুমারডুগী গ্রামের ঘোষের হাট সংলগ্ন বিশ্ব খাল পুনঃখনন অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানেও তিনি দ্বিতীয় খালটির পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করবেন। এই দুটি খাল পুনরুজ্জীবিত হলে এই অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
টানা কয়েকটি কর্মসূচির পর দুপুরে কিছুটা বিরতি নেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দুপুর আড়াইটায় চাঁদপুর সার্কিট হাউসে তার সংক্ষিপ্ত মধ্যাহ্নভোজ ও বিশ্রামের কথা রয়েছে। সার্কিট হাউসে স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে তিনি সংক্ষিপ্ত আলোচনা করতে পারেন বলেও জানা গেছে।
বিকেলের কর্মসূচিতে থাকছে চাঁদপুরের সাধারণ মানুষের জন্য এক বড় আয়োজন। বিকেল সাড়ে ৩টায় চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি দুস্থ ও নিম্নআয়ের মানুষের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করবেন। সরকারের এই ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ সুলভ মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রী কেনার সুযোগ পাবেন, যা বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ অনেকাংশে কমিয়ে আনবে।
জনকল্যাণমূলক ও রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি শেষ করে প্রধানমন্ত্রী যোগ দেবেন দলীয় এক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে। বিকেল ৫টায় চাঁদপুর ক্লাবে আয়োজিত জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সভায় অংশ নেবেন তিনি। দীর্ঘ ২২ বছর পর দলের শীর্ষ নেতা ও প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এই সাংগঠনিক সভাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। জেলা বিএনপির তৃণমূলের নেতৃত্বকে চাঙ্গা করতে এই সভা বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
সব কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন করার পর আজ সন্ধ্যায় ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী। সফরসূচি অনুযায়ী, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় সড়কপথেই তিনি চাঁদপুরের সার্কিট হাউস বা অনুষ্ঠানস্থল থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করবেন এবং এর মধ্য দিয়েই শেষ হবে তার এই ঐতিহাসিক চাঁদপুর সফর।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে পুরো চাঁদপুর জেলাজুড়ে বিরাজ করছে এক নতুন উৎসবের আমেজ। তোরণ, ব্যানার আর ফেস্টুনে সেজে উঠেছে শহরের প্রধান প্রধান সড়কগুলো। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, দীর্ঘ ২২ বছর পর প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মধ্য দিয়ে চাঁদপুরের অবহেলিত অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতি আরও বেগবান হবে।

