ইরানের সঙ্গে চলমান স্নায়ুযুদ্ধ ও কূটনৈতিক অচলাবস্থা কাটাতে এক বড় পদক্ষেপ নিয়েছে ওয়াশিংটন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে, তেহরানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনার পথ প্রশস্ত করতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশেষ প্রতিনিধিদল পাকিস্তানে যাচ্ছে। সোমবার সন্ধ্যায় এই প্রতিনিধিদলটি ইসলামাবাদের উদ্দেশ্যে রওনা হবে বলে হোয়াইট হাউস সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই তার এই উদ্যোগ। এর কিছুক্ষণ পরেই হোয়াইট হাউস থেকে জানানো হয়, এই গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মিশনের নেতৃত্ব দেবেন খোদ মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে কোনো বড় আন্তর্জাতিক সংকটে ভ্যান্সের এটিই হতে যাচ্ছে সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং সফর।
বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভ্যান্সের এই প্রতিনিধিদলে ট্রাম্পের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও ঝানু কূটনীতিক হিসেবে পরিচিত জ্যারেড কুশনার এবং উপদেষ্টা স্টিভ উইটকফ থাকছেন। উল্লেখ্য, এই দুই কর্মকর্তাই গত দফার আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। ওয়াশিংটন চাইছে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকে কাজে লাগিয়ে ইরানের সঙ্গে একটি টেকসই সমাধানে পৌঁছাতে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই বাড়তি আগ্রহের বিপরীতে তেহরানের সুর এখনো বেশ চড়া। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলো সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, যতক্ষণ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অর্থনৈতিক অবরোধ বহাল থাকবে, ততক্ষণ তাদের কোনো কর্মকর্তা আলোচনার টেবিলে বসবেন না। তেহরানের মতে, একতরফা অবরোধ জারি রেখে আলোচনার প্রস্তাব কেবলই একটি ‘কূটনৈতিক ফাঁদ’।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই আজ সকালেই পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, এ মুহূর্তে পরবর্তী কোনো আলোচনার পরিকল্পনা তাদের নেই। তিনি বলেন, “ওয়াশিংটন যদি মনে করে যে চাপের মুখে রেখে তারা আমাদের নমনীয় করতে পারবে, তবে তারা ভুল ভাবছে। আলোচনার পরিবেশ তৈরির প্রাথমিক শর্ত হলো সদিচ্ছা দেখানো, যা আমরা এখনো যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেখিনি।”
এর আগে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার আলোচনা প্রায় ২১ ঘণ্টা ধরে চললেও কোনো কার্যকরী সমঝোতা ছাড়াই তা শেষ হয়েছিল। বিশেষ করে পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে পাহাড়সম দূরত্ব রয়ে গেছে। সেই অচলাবস্থা কাটাতে জেডি ভ্যান্সের এই সফর কতটা ফলপ্রসূ হবে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন অনেক বিশ্লেষক।
পাকিস্তান সরকার ইতিমধ্যে এই হাই-প্রোফাইল সফরের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। ইসলামাবাদের কূটনৈতিক পাড়ায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পাকিস্তান আশা করছে, ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ প্রতিনিধিরা সরাসরি উপস্থিত থাকলে ইরান হয়তো তাদের অবস্থান কিছুটা শিথিল করতে পারে। তবে সব কিছুই এখন নির্ভর করছে তেহরানের চূড়ান্ত গ্রিন সিগন্যালের ওপর।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা এড়াতে এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে এই আলোচনার গুরুত্ব অপরিসীম। জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে মার্কিন এই মিশন যদি ব্যর্থ হয়, তবে অঞ্চলটিতে উত্তেজনার পারদ আরও চরমে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশ্ববাসীর নজর এখন ইসলামাবাদের দিকে—সেখানে আলোচনার নতুন কোনো অধ্যায় শুরু হয় কি না।

