ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য ৩৬ জন প্রার্থীর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। সোমবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তালিকা ঘোষণা করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এবারের মনোনয়নে অভিজ্ঞদের তুলনায় নতুন ও তরুণ মুখগুলোকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মনোনয়নপ্রাপ্তদের তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ৩৬ জনের মধ্যে ২৮ জনই এবার প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হিসেবে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছেন। অন্যদিকে, পুরাতনদের মধ্যে অভিজ্ঞতার মূল্যায়নে সংসদ সদস্য পদ ফিরে পেয়েছেন ৮ জন। প্রবীণ ও নবীনের এই সমন্বয়কে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সাবেক সংসদ সদস্যদের মধ্যে পুনরায় তালিকায় স্থান পেয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান। এছাড়াও রেহান আক্তার রানু, রাশেদা বেগম হীরা, বিলকিস ইসলাম, হেলেন জেরিন খান, নিলুফার চৌধুরী মনি, সুলতানা আহমেদ এবং নেওয়াজ হালিমা আর্লি আবারও সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাচ্ছেন। তাদের দীর্ঘদিনের সংসদীয় অভিজ্ঞতা নতুনদের পথ দেখাতে সহায়ক হবে বলে মনে করছে দল।
এবারের তালিকায় বেশ কিছু আলোচিত নাম যুক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুন রায় চৌধুরী। রাজনৈতিক পরিবারের এই সদস্যের বাবা নিতাই রায় চৌধুরী বর্তমানে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী এবং শ্বশুর গয়েশ্বর চন্দ্র রায় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য। এছাড়া সাবেক সংসদ সদস্য শিরিন সুলতানাও তালিকায় রয়েছেন, যার স্বামী বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন।
সংরক্ষিত কোটায় এবার মূল্যায়িত হয়েছেন রাজপথের লড়াকু ও প্রয়াত নেতাদের পরিবার। স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি প্রয়াত শফিউল বারী বাবুর স্ত্রী বিথিকা বিনতে হোসাইন সংসদ সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছেন। এছাড়া সরাসরি নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত হওয়া তিন জন নেত্রীকেও সংসদে ফিরিয়ে আনছে দল। তারা হলেন সানজিদা ইসলাম তুলি (ঢাকা-১৪), সাবিরা সুলতানা (যশোর-২) এবং সানসিলা জেবরিন (শেরপুর-১)।
সংগঠন হিসেবে মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ ও সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খান তালিকায় স্থান পেয়েছেন। এছাড়া দলের মিডিয়া সেল থেকে মাহমুদা হাবিবা ও শাম্মী আক্তারকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় ফেরদৌস আহমেদ, আরিফা সুলতানা এবং নাদিয়া পাঠানও এবার সংসদের লোগো সংবলিত গাড়িতে চড়বেন।
এবারের তালিকার সবচেয়ে কনিষ্ঠ সদস্য হিসেবে নাম লিখিয়েছেন বর্তমান ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মানসুরা আক্তার। তার বাবা প্রয়াত অ্যাডভোকেট এবাদুর রহমান চৌধুরী ছিলেন দলের একনিষ্ঠ নেতা। ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে আসা এই তরুণ মুখটি তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে বিশেষ আশার সঞ্চার করেছে।
রাজনীতির বাইরে পেশাজীবী হিসেবে বড় চমক দেখিয়েছেন জহরত আবিদ চৌধুরী। তিনি দেশের শীর্ষস্থানীয় মোবাইল অপারেটর বাংলালিংকের সিইও হিসেবে কর্মরত। সরাসরি সক্রিয় রাজনীতিতে তাকে দেখা না গেলেও মেধা ও যোগ্যতার বিচারে তাকে এই কোটায় রাখা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানিয়েছেন, দলের চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে এই তালিকা সমন্বয় করেছেন। তিনি বলেন, “অভিজ্ঞ এবং রাজপথে যারা বছরের পর বছর জুলুম-নির্যাতন সহ্য করেছেন, তাদেরই এবার অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এটি দলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
চূড়ান্ত তালিকায় ঠাঁই পাওয়া এই ৩৬ জন নারী নেত্রী এখন সংসদের কার্যপ্রণালীতে অংশ নেওয়ার অপেক্ষায়। বিএনপির এই নির্বাচনী কৌশল তৃণমূল পর্যায়ের নারী কর্মীদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এখন শুধু আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণের মাধ্যমে তাদের সংসদীয় যাত্রার সূচনা হওয়ার অপেক্ষা।

