অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনীর ১২৫ বছরের ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন এলো। দীর্ঘ এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে চলে আসা প্রথা ভেঙে এই প্রথমবারের মতো একজন নারী কর্মকর্তাকে দেশটির সেনাপ্রধান হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) ক্যানবেরায় এক আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে লেফট্যানেন্ট জেনারেল সুসান কোয়লিকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন করার সিদ্ধান্ত জানায় অস্ট্রেলিয়া সরকার।
দেশটির সামরিক বাহিনীর নেতৃত্বে বড় ধরনের সংস্কার ও আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে এই ঐতিহাসিক রদবদল করা হয়েছে। লেফট্যানেন্ট জেনারেল সুসান কোয়লি বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার সেনাবাহিনীর ‘জয়েন্ট ক্যাপাবিলিটিস’ বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আগামী জুলাই মাস থেকে তিনি বর্তমান সেনাপ্রধান লেফট্যানেন্ট জেনারেল সিমন স্টুয়ার্টের স্থলাভিষিক্ত হবেন। উল্লেখ্য, সিমন স্টুয়ার্ট ২০২২ সাল থেকে সেনাবাহিনীর সর্বোচ্চ পদে আসীন রয়েছেন।
সুসান কোয়লির এই নিয়োগ কেবল একটি পদোন্নতি নয়, বরং তার চার দশকেরও বেশি সময়ের বর্ণাঢ্য সামরিক ক্যারিয়ারের এক অনন্য স্বীকৃতি। দীর্ঘ ৪০ বছরের চাকর জীবনে তিনি অস্ট্রেলিয়ার সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও নীতিনির্ধারণী পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া আফগানিস্তান ও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত যুদ্ধক্ষেত্রেও তিনি অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।
এই নিয়োগের বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিস এক আবেগঘন বিবৃতিতে বলেন, “আগামী জুলাই থেকে অস্ট্রেলিয়ার সেনাবাহিনী এক নতুন যুগে প্রবেশ করবে। ১২৫ বছরের দীর্ঘ পথচলায় আমরা পেতে যাচ্ছি আমাদের প্রথম নারী সেনাপ্রধান। এটি আমাদের সামরিক বাহিনীর জন্য যেমন গর্বের, তেমনি আধুনিক অস্ট্রেলিয়ার সমতা ও যোগ্যতার প্রতিফলন।”
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি যখন উত্তাল, তখন অস্ট্রেলিয়ার মতো একটি প্রভাবশালী রাষ্ট্রের সামরিক নেতৃত্বে সুসান কোয়লির মতো একজন অভিজ্ঞ নারীর পদায়ন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটি কেবল অস্ট্রেলিয়ার ভেতরেই নয়, বরং সারা বিশ্বের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় নারীদের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ও নেতৃত্বের এক বলিষ্ঠ বার্তা দেবে।
সূত্র অনুযায়ী, সুসান কোয়লি দায়িত্ব নেওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ার সামরিক কৌশল ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ সাধনে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে আধুনিক প্রতিরক্ষা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তার ‘জয়েন্ট ক্যাপাবিলিটিস’ পরিচালনার অভিজ্ঞতা বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করবে।
নতুন এই নিয়োগের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া তার সামরিক ইতিহাসে এক দীর্ঘস্থায়ী জেন্ডার-ব্যারিয়ার বা লিঙ্গ বৈষম্যের দেওয়াল গুঁড়িয়ে দিল। জুলাইয়ের অপেক্ষায় এখন পুরো অস্ট্রেলিয়া, যখন আনুষ্ঠানিকভাবে কমান্ড পরিবর্তন করবেন সুসান কোয়লি। তাঁর এই যাত্রা কেবল অস্ট্রেলিয়ার মেয়েদের জন্যই নয়, বরং বিশ্বজুড়ে সামরিক পেশায় যুক্ত নারীদের জন্য এক নতুন অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

