মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মানসিক সুস্থতা এবং রাষ্ট্র পরিচালনার সক্ষমতা নিয়ে নজিরবিহীন তোপ দেগেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর সাবেক পরিচালক জন ব্রেনান। তিনি দাবি করেছেন, ট্রাম্প বর্তমানে ‘মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন’ এবং তার হাতে দেশের পারমাণবিক অস্ত্রাগারের চাবিকাঠি থাকা অত্যন্ত বিপজ্জনক। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় মার্কিন সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগ করে তাকে দ্রুত পদচ্যুত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
গত শনিবার এমএস নাউ (MS Now) টেলিভিশনকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ওবামা প্রশাসনের সাবেক এই গোয়েন্দা প্রধান বর্তমান প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ‘চরম ঝুঁকি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। সোমবার (১৩ এপ্রিল ২০২৬) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে তার এই মন্তব্য ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
২৫তম সংশোধনীর দাবি ও নিরাপত্তা ঝুঁকি জন ব্রেনান তার সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করে বলেন, মার্কিন সংবিধানের ২৫তম সংশোধনীটি মূলত ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই প্রণয়ন করা হয়েছিল। এই সংশোধনী অনুযায়ী, যদি কোনো প্রেসিডেন্ট শারীরিক বা মানসিকভাবে রাষ্ট্র পরিচালনায় অযোগ্য হয়ে পড়েন, তবে তাকে সরিয়ে দেওয়ার বিধান রয়েছে। ব্রেনানের মতে, ট্রাম্প এখন সেই অযোগ্যতার ‘সর্বোত্তম উদাহরণ’।
তিনি বলেন, “একজন ব্যক্তি যিনি লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছেন এবং যার আচরণে কোনো শৃঙ্খলা নেই, তাকে কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে রাখা কোনোভাবেই নিরাপদ নয়।” বিশেষ করে ইরান সংকটকে কেন্দ্র করে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক উসকানিমূলক মন্তব্য এবং ইরানি সভ্যতা ধ্বংস করার হুমকির প্রসঙ্গ টেনে ব্রেনান তার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
ইরান সংকট ও ভারসাম্যহীন নেতৃত্ব
দীর্ঘদিন গোয়েন্দা জগতের শীর্ষে থাকা জন ব্রেনান মনে করেন, ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ট্রাম্প যেভাবে সামরিক শক্তি ব্যবহারের হুমকি দিচ্ছেন, তা কোনো পেশাদার নেতৃত্বের পরিচয় নয়। তার মতে, প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা হতে হয় অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও শান্ত, যা ট্রাম্পের মধ্যে পুরোপুরি অনুপস্থিত।
ব্রেনান প্রশ্ন তোলেন, “যার হাতে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ও পারমাণবিক অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে, তিনি যদি ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন, তবে তার পরিণতি কী হতে পারে বিশ্ব ভেবে দেখেছে কি?” তার মতে, ট্রাম্পের বেপরোয়া আচরণ কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং পুরো বিশ্বকেই এক মহাবিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
রাজনৈতিক মহলে তোলপাড়
জন ব্রেনানের এই কড়া মন্তব্যের পর ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক অন্দরমহলে নতুন করে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো একে ‘কোনো সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তার পক্ষ থেকে ট্রাম্পের ওপর সবচেয়ে কঠোর আক্রমণ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। এর আগে অনেক বিশেষজ্ঞ ট্রাম্পের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুললেও, সিআইএর সাবেক প্রধানের মুখে ‘মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন’ শব্দটি ব্যবহার পরিস্থিতিকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে।
হোয়াইট হাউস অবশ্য ব্রেনানের এই বক্তব্যকে ‘ভিত্তিহীন এবং প্রতিহিংসামূলক’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়া এবং হরমুজ প্রণালীতে নৌ-অবরোধের ঘোষণার পর ট্রাম্পের ওপর অভ্যন্তরীণ চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে গোয়েন্দা ও সামরিক কর্মকর্তাদের একটি অংশ ট্রাম্পের একক সিদ্ধান্তের কারণে দেশ কোনো বড় যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে কি না, তা নিয়ে শঙ্কিত।
এখন দেখার বিষয়, ব্রেনানের এই আহ্বানের পর মার্কিন কংগ্রেসে ট্রাম্পের মানসিক সক্ষমতা নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা পদক্ষেপ নেওয়া হয় কি না।

