রাজধানীর শ্যামলীতে অবস্থিত সিকেডি হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রখ্যাত কিডনি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলামের ওপর সাম্প্রতিক চাঁদাবাজির চেষ্টা এবং লাঞ্ছনার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ডা. কামরুল কেবল একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকই নন, বরং তিনি এ দেশের অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পরম বন্ধু এবং একজন মানবিক চিকিৎসক হিসেবে সর্বমহলে স্বীকৃত।
শনিবার (১১ এপ্রিল) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে ডা. শফিকুর রহমান এই প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি অশুভ চাঁদাবাজ চক্র রাজনৈতিক ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে এই প্রথিতযশা চিকিৎসকের কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। ডা. কামরুল ইসলাম বরাবরই এই অবৈধ আবদার প্রত্যাখ্যান করেছেন, যার জেরে তাকে চরম লাঞ্ছনার শিকার হতে হয়েছে।
জামায়াত আমির তার পোস্টে প্রশ্ন তুলে বলেন, “চাঁদাবাজরা এমন একজন জ্যেষ্ঠ এবং মানবিক চিকিৎসককেও ন্যূনতম সম্মান দেখাতে ব্যর্থ হলো। তারা তার সঙ্গে যে গর্হিত আচরণ করেছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এর মাধ্যমে কার্যত সাধারণ মানুষকেই উন্নত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত করার পাঁয়তারা চলছে।” তিনি স্পষ্ট করেন যে, কারা এই অশুভ শক্তির পেছনে রয়েছে, তা এখন দেশবাসীর কাছে দিবালোকের মতো পরিষ্কার।
ডা. শফিকুর রহমান বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, “এই সমাজসেবীদের কাজের পরিবেশ নষ্ট করা হচ্ছে। এই দুষ্টচক্রকে কঠোর হস্তে দমন করা এখন সময়ের দাবি এবং সাধারণ জনতার প্রাণের দাবি। আমরা শুধু আশ্বাস নয়, বরং অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেখতে চাই।”
তিনি আরও যোগ করেন যে, রাজনৈতিক খুঁটির জোরে যারা একজন নিরপরাধ ও জনহিতৈষী চিকিৎসকের ওপর চড়াও হওয়ার দুঃসাহস দেখায়, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া উচিত নয়। অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলামের মর্যাদা যেন অক্ষুণ্ণ থাকে এবং দুষ্টচক্র যেন তাদের উপযুক্ত পাওনা বুঝে পায়, সেজন্য তিনি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন।
উল্লেখ্য, এর আগে শনিবার বিকালেই এক সংবাদ সম্মেলনে ডা. কামরুল ইসলাম অভিযোগ করেন যে, স্থানীয় এক যুবদল নেতা হাসপাতালে মালামাল সরবরাহের নামে চাঁদাবাজি ও ‘মব’ তৈরির চেষ্টা করেছেন। এই ঘটনার পর রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সচেতন নাগরিক সমাজের মধ্যে প্রতিবাদের ঝড় বইছে। ডা. শফিকুর রহমানের এই কঠোর অবস্থান সেই প্রতিবাদের পালে নতুন হাওয়া দিয়েছে।
বিরোধীদলীয় নেতার এই বক্তব্যের পর প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর চাপ আরও বেড়েছে। সাধারণ মানুষও প্রত্যাশা করছে, চিকিৎসকদের কর্মক্ষেত্রে এমন ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে সরকার দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

