ইরানের সাথে দীর্ঘ ৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর সদ্য ঘোষিত যুদ্ধবিরতির আবহে পেন্টাগন থেকে উঠে এল এক চমকপ্রদ তথ্য। রণাঙ্গনের ভয়াবহতা, ধুলোবালি আর অনিশ্চয়তার মধ্যে নিজেদের সজাগ রাখতে মার্কিন সেনারা যে পরিমাণ পানীয় গ্রহণ করেছেন, তা যেকোনো সাধারণ হিসাবকে হার মানায়। মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন জানিয়েছেন, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ চলাকালীন তার সেনারা প্রায় ৯ লাখ ৫০ হাজার গ্যালন কফি পান করেছেন।
বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সামনে যুদ্ধের রসদ ও সেনাদের জীবনযাত্রার খতিয়ান তুলে ধরেন জেনারেল কেইন। তিনি জানান, ছয় সপ্তাহের এই সংক্ষিপ্ত কিন্তু তীব্র যুদ্ধে সেনারা প্রায় ৬০ লাখ বেলা (Meal) খাবার গ্রহণ করেছেন। তবে আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে তাদের পানীয় গ্রহণের পরিমাণ। কফির হিসাব করলে দেখা যায়, সেনারা প্রায় ৭৬ লাখ কাপ কফি পান করেছেন। এছাড়া ক্লান্তি দূর করতে ২০ লাখ ক্যানের বেশি এনার্জি ড্রিংক সাবাড় করেছেন তারা।
ব্রিফিংয়ে কিছুটা রসিকতার সুরে জেনারেল কেইন বলেন, ‘আমরা পথে ৯ লাখ ৫০ হাজার গ্যালনের বেশি কফি এবং ২০ লাখ ক্যান এনার্জি ড্রিংক নিয়েছি। সেই সাথে প্রচুর পরিমাণ নিকোটিনও ব্যবহৃত হয়েছে। তবে আমি এটা বলছি না যে আমাদের কোনো আসক্তির সমস্যা আছে!’ তবে সেনারা ঠিক কোন ব্র্যান্ডের এনার্জি ড্রিংক (মনস্টার নাকি সেলসিয়াস) বেশি পছন্দ করেছেন, তা নির্দিষ্ট করে জানাননি তিনি।
রণক্ষেত্রের কঠিন পরিস্থিতির বর্ণনা দিতে গিয়ে জেনারেল কেইন সেনাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘এটি ছিল এক নির্মম ও বিশৃঙ্খল যুদ্ধ। প্রচণ্ড গরম, অন্ধকার আর অজানা বিপদের মুখে আমাদের সেনারা অসীম সাহসের পরিচয় দিয়েছেন। দেশের প্রত্যাশা অনুযায়ী তারা তাদের মনোবল অটুট রেখেছিলেন।’
একই সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও বক্তব্য রাখেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, পেন্টাগন তাদের দায়িত্ব ‘আপাতত’ পালন করেছে এবং যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর উপস্থিতি এখনই শেষ হচ্ছে না। হেগসেথ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, শান্তি বজায় রাখার স্বার্থে মার্কিন বাহিনী এই অঞ্চলের ‘আশপাশেই’ অবস্থান করবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বিপুল পরিমাণ ক্যাফেইন ও নিকোটিন গ্রহণের তথ্য আসলে যুদ্ধের ময়দানে সেনাদের ওপর থাকা প্রচণ্ড মানসিক চাপের বহিঃপ্রকাশ। ইরান ও মিত্র দেশগুলোর সাথে এই সম্মুখ সমরে মার্কিন সেনাদের প্রতিটি মুহূর্ত কাটাতে হয়েছে চরম উত্তেজনায়, যেখানে সজাগ থাকাই ছিল টিকে থাকার প্রধান শর্ত। যুদ্ধবিরতির এই ক্ষণে এখন দেখার বিষয়, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার এই গুমোট পরিস্থিতি স্থায়ী শান্তির দিকে মোড় নেয় কি না।

