জাতীয় সংসদের বর্তমান কার্যক্রমে জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটছে না বলে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সংসদের রুটিনমাফিক আর দশটা সাধারণ কাজের আগে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন এবং ‘গণভোট’ সংক্রান্ত আদেশ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়া জরুরি। রোববার (২৯ মার্চ) বিকেলে সংসদ অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই দাবি তোলেন।
নাহিদ ইসলাম মনে করেন, যে প্রেক্ষাপটে এই সংসদ গঠিত হয়েছে এবং জনগণের যে ম্যান্ডেট এখানে রয়েছে, বর্তমান কার্যসূচিতে তার লেশমাত্র নেই। তাঁর মতে, সংসদীয় অন্য সব কর্মকাণ্ডের চেয়ে এই দুটি ইস্যু এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ইতিহাসের দায়বদ্ধতা ও বর্তমান সংসদের গতিপথ
বক্তব্যের শুরুতেই বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ সংসদের উৎপত্তির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, “আমরা ভুলে যাচ্ছি এই সংসদটি কীভাবে এবং কোন পরিস্থিতিতে গঠিত হয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি দেশে একটি ঐতিহাসিক গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে সংসদের যে দৈনন্দিন কার্যক্রম আমরা দেখছি, তাতে মনে হচ্ছে তেমন কিছুই যেন এ দেশে ঘটেনি।”
তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা এবং জনগণের সরাসরি ভোটের রায়কে অবজ্ঞা করে সংসদ পরিচালনা করা সংগত হবে না। তাই যেকোনো জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যুর তালিকার শীর্ষে গণভোট এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়টি রাখা উচিত এবং এর একটি যৌক্তিক সুরাহা হওয়া প্রয়োজন।
স্পিকারের প্রতি বিশেষ আবেদন ও নোটিশ
নাহিদ ইসলাম জানান, সংসদীয় বিধি মোতাবেক বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে এ বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক নোটিশ জমা দেওয়া হয়েছে। তিনি স্পিকারের উদ্দেশ্যে বলেন, “আমরা বিধিসম্মতভাবে নোটিশ দিয়েছি। জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে গণভোট এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের ওপর আগে আলোচনা হোক—এটিই আপনার প্রতি আমাদের দলের বিনীত অনুরোধ।”
তিনি সংসদকে মনে করিয়ে দেন যে, দেশের মানুষ পরিবর্তনের যে অঙ্গীকার নিয়ে এই নতুন ব্যবস্থাকে গ্রহণ করেছে, তার প্রতিফলন সংসদে না থাকলে সাধারণ মানুষের আস্থা হারাবে এই পবিত্র হাউস। তাই আগে এই মৌলিক বিষয়গুলোর ফয়সালা করে তারপর সংসদের নিয়মিত বা প্রথাগত কাজগুলো পরিচালনা করা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
জনআকাঙ্ক্ষা বনাম সংসদীয় প্রথা
নাহিদ ইসলামের এই বক্তব্য সংসদে এক ধরনের নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জুলাই সনদ ও গণভোটের মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলোকে সংসদের মূল আলোচনায় নিয়ে আসার মাধ্যমে বিরোধী দল মূলত সরকারকে এক ধরনের চাপে রাখতে চাইছে।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, স্পিকার ও হাউসের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যরা এই দাবির গুরুত্ব অনুধাবন করবেন এবং জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পথে সংসদকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। এখন দেখার বিষয়, আগামী কার্যদিবসগুলোতে সংসদীয় কার্যসূচিতে এই দাবিগুলো কতটা জায়গা পায়।

