মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। বুধবার (২৫ মার্চ ২০২৬) মাত্র ৪০ মিনিটের ব্যবধানে ইসরায়েলের ওপর চার দফায় ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। ইসরায়েলি আর্মি রেডিওর বরাত দিয়ে জানা গেছে, বৃহত্তর তেল আবিবসহ দেশটির মধ্যাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলের বিশাল এলাকা এই হামলায় কেঁপে ওঠে। একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে আকাশজুড়ে সায়রেন আর বিস্ফোরণের শব্দে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, এদিন সকালেই ইরানের ভূখণ্ড থেকে ধেয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্রের প্রথম ঢেউটি আঘাত হানে। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই আরও তিন দফায় হামলা চালানো হয়। তেল আবিবের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘আয়রন ডোম’ অনেকগুলো ক্ষেপণাস্ত্র রুখে দিতে সক্ষম হলেও বেশ কিছু জায়গায় বিস্ফোরণ এবং ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। বিশেষ করে হাদেরা এলাকায় অবস্থিত ইসরায়েলের একটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছে একটি বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটে।
হাদেরার ওরত রাবিন বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছে ধোঁয়া উড়তে দেখা গেলেও ইসরায়েল ইলেকট্রিক করপোরেশন (আইইসি) এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, তাদের মূল অবকাঠামোর কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়েছে, যা নেভাতে ফায়ার সার্ভিসকে দীর্ঘ সময় লড়তে হয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় ও উত্তর ইসরায়েলের অন্তত ৩০টি স্থানে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ বা ইন্টারসেপ্টর থেকে সৃষ্ট টুকরো আছড়ে পড়েছে।
এর আগে গত মঙ্গলবারও তেল আবিব লক্ষ্য করে ইরান অন্তত ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল। মঙ্গলবারের সেই হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হন এবং বেশ কিছু যানবাহন ও ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বুধবারের এই ধারাবাহিক হামলাকে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা ইরানের প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের একটি তীব্র পর্যায় হিসেবে দেখছেন। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে দুই পক্ষই একে অপরের ভূখণ্ডে বড় ধরনের বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আসছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, ইরানের এই হামলার পর ইসরায়েলও পাল্টা হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইতিমধ্যেই তেহরানে ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা একটি নৌ-ক্রুজ মিসাইল উৎপাদন কেন্দ্রে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে আইডিএফ (ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস)। দুই দেশের এই পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন যুদ্ধবিরতির জন্য একটি ১৫ দফার প্রস্তাব দিলেও ইরান তা ‘ভুয়া খবর’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তেহরান আপাতত কোনো সমঝোতায় যাচ্ছে না। বরং যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মানসিকতা থেকেই তারা আজ ইসরায়েলের বিদ্যুৎ অবকাঠামো ও প্রধান শহরগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের জেরুজালেম থেকে শুরু করে উত্তরের গ্যালিলি পর্যন্ত লাখ লাখ মানুষকে মাটির নিচের বাঙ্কারে আশ্রয় নিতে হয়েছে। বারবার সায়রেন বাজার ফলে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। যদিও আজকের হামলায় এখন পর্যন্ত কোনো নিহতের খবর পাওয়া যায়নি, তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ করছে ইসরায়েলি জরুরি পরিষেবা সংস্থাগুলো।

