যুক্তরাষ্ট্রের ব্যস্ততম শহর নিউইয়র্কের লা গার্ডিয়া বিমানবন্দরে এক রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। রোববার রাতে রানওয়েতে উড্ডয়ন বা অবতরণ প্রস্তুতির সময় এয়ার কানাডার একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজের সঙ্গে বন্দর কর্তৃপক্ষের একটি গাড়ির তীব্র সংঘর্ষ ঘটে। এই আকস্মিক ঘটনায় চারজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে অল্পের জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেয়েছেন বিমানে থাকা ৮০ জন আরোহী।
ঘটনাটি ঘটে স্থানীয় সময় রোববার রাত ১১টা ৩৮ মিনিটে। বিমানবন্দরের শান্ত পরিবেশে তখন শেষ মুহূর্তের ফ্লাইটের ব্যস্ততা চলছিল। প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এয়ার কানাডার বিমানটি যখন রানওয়ের একটি নির্দিষ্ট অংশ অতিক্রম করছিল, ঠিক তখনই নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সি বন্দর কর্তৃপক্ষের একটি রক্ষণাবেক্ষণ বা টহল গাড়ির সঙ্গে সেটির সংঘর্ষ হয়। রাতের অন্ধকারে এই ধাক্কায় রানওয়েতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (এনওয়াইপিডি) আজ সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করেছে। পুলিশের মিডিয়া উইং জানিয়েছে, তারা প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছে যে বিমানটির সঙ্গে সংঘর্ষ হওয়া গাড়িটি বন্দর কর্তৃপক্ষের ছিল। তবে ঠিক কী কারণে বা কার ভুলে এমন বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হলো, সে বিষয়ে পুলিশ এখনই কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
এনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনার সময় বিমানটিতে মোট ৭৬ জন যাত্রী এবং ৪ জন ক্রু সদস্য ছিলেন। সংঘর্ষের পরপরই জরুরি পরিষেবা দলগুলো ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। প্রাথমিক চিকিৎসা এবং উদ্ধার কাজ দ্রুত শুরু করায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। বিমানে থাকা যাত্রীদের মধ্যে বড় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া না গেলেও গাড়িতে থাকা এবং সংশ্লিষ্ট চারজন ব্যক্তি আহত হয়েছেন।
আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। তাদের আঘাত ঠিক কতটা গুরুতর, তা এখনো স্পষ্ট নয়। বিমানের ভেতর থেকে যাত্রীরা জানিয়েছেন, হঠাতই একটি বিকট শব্দ এবং প্রবল ঝাঁকুনি অনুভব করেন তারা। মুহূর্তের মধ্যে কেবিনের ভেতর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল, যদিও ক্রু সদস্যরা সাহসিকতার সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দেন।
লা গার্ডিয়া বিমানবন্দরটি নিউইয়র্কের কুইন্স এলাকার পূর্ব এলহার্স্টে অবস্থিত। এটি শহরের অন্যতম ব্যস্ত বিমানবন্দর হওয়ায় এখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত কঠোর থাকে। এমন সুরক্ষিত একটি স্থানে কীভাবে একটি চলন্ত বিমানের সামনে গাড়ি চলে এল, তা নিয়ে এখন বড় ধরনের প্রশ্ন উঠছে। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা প্রোটোকলে কোনো ফাঁক ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি) পুরো ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা ইতিমধ্যে দুর্ঘটনার তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহ করতে শুরু করেছে। একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত দল রানওয়ের গ্রাউন্ড কন্ট্রোল এবং পাইলটের মধ্যকার কথোপকথন বিশ্লেষণ করে দেখবে। কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি মানবিক ভুল এই ঘটনার নেপথ্যে, তা তদন্তের পরেই জানা যাবে।
এয়ার কানাডা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, তারা ঘটনার বিষয়ে অবগত এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করছে। বিমানে থাকা যাত্রীদের বিকল্প উপায়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে এই দুর্ঘটনার ফলে লা গার্ডিয়া বিমানবন্দরের কিছু ফ্লাইটের সময়সূচিতে সাময়িক বিপর্যয় ঘটে, যা পরে স্বাভাবিক হয়ে আসে।
নিউইয়র্কের আকাশপথ এবং বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু আলোচনা চলছে। এই ঘটনা সেই উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিল। বিশেষ করে রাতের বেলা রানওয়েতে যানবাহনের চলাচল এবং বিমানের অবস্থান শনাক্তকরণ ব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি ছিল কি না, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনো প্রাণহানি না হওয়াকে বড় স্বস্তি হিসেবে দেখছে কর্তৃপক্ষ। তবে রানওয়ের মতো সংবেদনশীল স্থানে এ ধরনের সংঘর্ষের পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। তদন্ত রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর বন্দর কর্তৃপক্ষ ও এভিয়েশন বিভাগ নতুন কোনো নিরাপত্তা নীতিমালা জারি করে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।


2 Comments
Our Editorial Backlink Generator helps you create natural backlink citations and semantic backlink markup seamlessly. #LinkBuilding #TechSEO https://vxd.mobi
I’m often to blogging and i really appreciate your content. The article has actually peaks my interest. I’m going to bookmark your web site and maintain checking for brand spanking new information.