মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ যখন বারুদের ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন, তখন ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে বিশ্বশক্তির সরাসরি অংশগ্রহণ চাইলেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। রোববার দক্ষিণ ইসরায়েলের একটি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনকালে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, এই লড়াই কেবল ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের একার নয়; বরং এটি বৈশ্বিক নিরাপত্তা রক্ষার যুদ্ধ। তেহরানের ক্রমবর্ধমান ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের পথ রুদ্ধ করার প্রচেষ্টাকে তিনি পুরো বিশ্বের জন্য ‘সরাসরি হুমকি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র প্রায় এক মাস পেরিয়ে গেলেও পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় এই প্রকাশ্য আহ্বান জানালেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, “ইরান আজ কেবল মধ্যপ্রাচ্যের ভূখণ্ডেই সীমাবদ্ধ নেই। হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া এবং দূরপাল্লার মিসাইল প্রদর্শনের মাধ্যমে তারা ইউরোপসহ বিশ্বের প্রতিটি বেসামরিক জনপদকে বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছে। ইরান এখন পুরো বিশ্বকে বিপন্ন করে তুলছে।”
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনের সময় আবেগঘন কণ্ঠে নেতানিয়াহু বলেন, সময় এসেছে বিশ্বনেতাদের পর্দার আড়াল থেকে বেরিয়ে এসে এই অভিযানে সরাসরি যুক্ত হওয়ার। তিনি দাবি করেন, বেশ কয়েকজন বিশ্বনেতা ইতিমধ্যে ব্যক্তিগতভাবে সমর্থন জানিয়েছেন এবং কেউ কেউ সক্রিয় পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তেহরানকে দমাতে আরও জোরালো এবং সম্মিলিত সামরিক হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে তার ব্যক্তিগত ও কৌশলগত সম্পর্কের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করে নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রকে ‘আদর্শ মিত্র’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তবে ওয়াশিংটনকে ইসরায়েল জোর করে যুদ্ধে টেনে এনেছে—এমন অভিযোগ তিনি সরাসরি নাকচ করে দেন। তার মতে, ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বন্ধ করা ওয়াশিংটন ও তেল আবিব উভয়েরই অভিন্ন লক্ষ্য।
উল্লেখ্য যে, গত মাসের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, মিসাইল কারখানা এবং শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে যে বিমান হামলা শুরু করেছিল, তার পাল্টা জবাব হিসেবে ইরানও শত শত ড্রোন ও মিসাইল ছুড়েছে। এই চক্রাকার সংঘাত এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে একক কোনো দেশের পক্ষে এটি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নেতানিয়াহুর এই আহ্বান আসলে আন্তর্জাতিক জনমতকে নিজেদের পক্ষে টানার একটি বড় কূটনৈতিক চাল। বিশেষ করে যখন যুদ্ধের ব্যয় এবং তেলের দাম নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তখন ইরানকে ‘বৈশ্বিক শত্রু’ হিসেবে চিত্রায়িত করা ছাড়া ইসরায়েলের সামনে বিকল্প কম। এখন দেখার বিষয়, নেতানিয়াহুর এই ডাকে সাড়া দিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা ন্যাটোর অন্য সদস্যরা সরাসরি রণক্ষেত্রে মার্কিন-ইসরায়েলি জোটে যোগ দেয় কি না।

