বাংলাদেশ ক্রিকেটে মাঠের লড়াইয়ের চেয়েও এখন বেশি আলোচনা চলছে ক্রিকেট বোর্ডের অন্দরের সমীকরণ নিয়ে। দীর্ঘদিন দেশের বাইরে থাকা বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের দেশে ফেরা নিয়ে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশা অবশেষে কাটল। বিসিবির নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে, আগামী ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের দিন ঢাকা ফিরছেন তিনি। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন তিনি।
বুলবুলের এই বিদেশ সফর নিয়ে গত কয়েক মাস ধরেই নানা গুঞ্জন ডালপালা মেলেছিল। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি তিনি দেশ ছাড়ার পর অনেকেই ধারণা করেছিলেন, দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও বোর্ডের ভেতরে বাড়তে থাকা চাপের কারণে তিনি হয়তো সহসাই ফিরবেন না। তবে বিসিবির একজন পরিচালক জানিয়েছেন, দুবাইয়ে আইসিসির একটি গুরুত্বপূর্ণ সভায় যোগ দিয়েই তিনি সরাসরি দেশে ফিরবেন।
বুলবুলের অনুপস্থিতিতেই দেশের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ খেলছে বাংলাদেশ দল। মেহেদী হাসান মিরাজ ও লিটন দাসের নেতৃত্বে দলটি বর্তমানে ব্যস্ত সময় পার করছে। এই সিরিজ শেষেই ক্রিকেটাররা ঈদের ছুটিতে যাবেন। ঠিক সেই সময়েই সভাপতির ফেরার খবরটি বোর্ড কর্মকর্তাদের মধ্যে নতুন তৎপরতা তৈরি করেছে। এর আগেও একবার তার দেশ ছাড়া নিয়ে গুঞ্জন উঠলে পরের দিনই মিরপুরে হাজির হয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছিলেন তিনি।
তবে এবারের ফেরাটা বুলবুলের জন্য খুব একটা সুখকর নাও হতে পারে। বর্তমান বিসিবি কমিটির বিরুদ্ধে নির্বাচনের সময় থেকেই ঢাকার ক্লাবগুলোর একটি বড় অংশ আন্দোলনে সোচ্চার। অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তুলে তারা ঘরোয়া ক্রিকেট থেকেও নিজেদের সরিয়ে রেখেছে। এদিকে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে এই অভিযোগের পাহাড় আরও জমেছে।
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল ইসলামের অধীনে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) ইতোমধ্যে বিসিবি নির্বাচনে ক্ষমতা অপব্যবহারের তদন্ত শুরু করেছে। ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে বুলবুল যখন দেশে পা রাখবেন, তখন তাকে কেবল ক্রিকেটীয় বিষয় নয়, বরং আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতারও মুখোমুখি হতে হবে।
মাঠের বাইরে যখন এই ডামাডোল, তখন সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালের একটি মন্তব্য নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বর্তমান বোর্ডের নানা অব্যবস্থাপনার সমালোচনা করার পাশাপাশি তামিম নিজেই বিসিবি সভাপতি হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটারের এমন আগ্রহ বোর্ড প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদলের ইঙ্গিত বলেই মনে করছেন ক্রীড়া বিশ্লেষকরা।
বিসিবির নির্বাচক প্যানেলেও পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। প্রধান নির্বাচক হিসেবে হাবিবুল বাশারের নাম জোরেশোরে শোনা যাচ্ছে, আর তার সহকারী হিসেবে দৌড়ে এগিয়ে আছেন তুষার ইমরান ও নাইম ইসলাম। সব মিলিয়ে বুলবুল দেশে ফেরার পর বিসিবিতে এক বিশাল প্রশাসনিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
দেশের ক্রিকেট ভক্তরা এখন তাকিয়ে আছেন ২৬ মার্চের দিকে। বিসিবি প্রধানের ফেরা কি দেশের ক্রিকেটে গুমোট ভাব দূর করবে, নাকি তদন্ত কমিটির রিপোর্টের মুখে নতুন কোনো সংকটের সূচনা হবে—তাই এখন দেখার বিষয়। সব মিলিয়ে ঈদের আগে মিরপুরের হোম অব ক্রিকেটে এক উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

