মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন বারুদের গন্ধে ভারী। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই অঞ্চলটি এক ভয়াবহ অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৪ ঘণ্টায় ইরাকে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে নজিরবিহীন হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর জোট ‘দ্য ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ দাবি করেছে, তারা শুক্রবার ভোর থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত মাত্র একদিনের ব্যবধানে মার্কিন দুটি প্রধান বিমানঘাঁটিতে মোট ৮ বার হামলা চালিয়েছে।
শনিবার (১৪ মার্চ) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে গোষ্ঠীটি জানায়, ইরাকের আনবার প্রদেশের আইন আল-আসাদ এবং কুর্দিস্তান অঞ্চলের আল-হারির বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। এই হামলাগুলোকে তারা দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তবে পেন্টাগন বা মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির কোনো আনুষ্ঠানিক খতিয়ান প্রকাশ করা হয়নি।
কেবল সামরিক ঘাঁটিই নয়, হামলার লক্ষ্যবস্তু থেকে বাদ যায়নি বাগদাদের গ্রিন জোনে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসও। ইরাকি নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, দূতাবাস প্রাঙ্গণ লক্ষ্য করে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি হেলিপ্যাডে আঘাত হেনেছে, যার ফলে সেটি বিধ্বস্ত হয়। এই হামলার পর পুরো গ্রিন জোন এলাকায় সাইরেনের শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে ইরাকে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের জন্য ‘লেভেল ফোর’ বা সর্বোচ্চ সতর্কবার্তা জারি করেছে ওয়াশিংটন। মার্কিন দূতাবাসের ওই বার্তায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো সম্ভবত ইরাকের ভেতরে মার্কিন স্থাপনা এবং নাগরিকদের ওপর হামলা অব্যাহত রাখবে। অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ পরিহার এবং সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে সেখানে।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে থাকা ইরানের মদতপুষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো সক্রিয় হয়ে উঠেছে। লেবাননের হিজবুল্লাহ থেকে শুরু করে ইয়েমেনের হুথি—সবাই এখন মার্কিন ও ইসরায়েলি স্বার্থে আঘাত হানছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরাকের এই দফায় দফায় হামলা সরাসরি তেহরানের রণকৌশলেরই একটি অংশ, যা ওয়াশিংটনকে এই যুদ্ধে কোণঠাসা করার চেষ্টা করছে।
সংঘাতের এই উত্তাপ কেবল সমরক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নেই, এটি সাধারণ মানুষের জীবনেও চরম অনিশ্চয়তা ডেকে এনেছে। ইরাকি সাধারণ নাগরিকরা এখন এক অজানা আশঙ্কার প্রহর গুনছেন, পাছে তাদের দেশ আবারও বড় কোনো আঞ্চলিক যুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপি-র তথ্যমতে, এই হামলাগুলোর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন উপস্থিতির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

