গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে যখন নতুন করে রাষ্ট্র গড়ার কাজ চলছে, ঠিক তখনই জুলাই বিপ্লবের অগ্রসেনানীদের আইনি জালে জড়ানোর এক চাঞ্চল্যকর অপচেষ্টা সামনে এসেছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদকে প্রধান আসামি করে মামলা দায়েরের এই প্রচেষ্টাকে ‘সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক আঘাত’ হিসেবে দেখছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক কড়া বিবৃতিতে তিনি জানান, এই ধরনের পদক্ষেপ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরং এটি ৫ আগস্টের পরাজিত শক্তির একটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ, যারা এখনো পেছন থেকে কলকাঠি নাড়ছে। আদালত শেষ পর্যন্ত মামলাটি গ্রহণ না করলেও, এই ধরণের দুঃসাহস নতুন বাংলাদেশের জন্য একটি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নেতৃত্বের ওপর আঘাত মানেই বিপ্লবের ওপর আঘাত
নাহিদ ইসলাম তার বিবৃতিতে স্পষ্ট করে বলেন, জুলাই বিপ্লব কোনো একক ব্যক্তির আন্দোলন ছিল না, এটি ছিল সারা দেশের ছাত্র-জনতার স্বৈরাচারবিরোধী গণবিস্ফোরণ। সেই আন্দোলনের তরুণ তুর্কিদের বিরুদ্ধে আজ যখন চক্রান্তমূলক মামলা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়, তখন বুঝতে হবে লক্ষ্যবস্তু কেবল ব্যক্তি আসিফ মাহমুদ নন—বরং লক্ষ্যবস্তু হলো সেই লড়াইয়ের মূল চেতনা।
তিনি আরও যোগ করেন, “বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন আজ দেশের তরুণ প্রজন্মের সাম্য, ন্যায়বিচার এবং মানবিক মর্যাদার প্রতীক। এই আন্দোলনের নেতৃত্বকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা মানেই হলো গণতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইকে দুর্বল করার পাঁয়তারা।” তার মতে, পরাজিত শক্তি এখনো নিজেদের হার মেনে নিতে পারেনি বলেই এমন নোংরা পথে হাঁটছে।
ষড়যন্ত্রের জাল এবং আগামীর প্রতিরোধ
বিবৃতিতে একটি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, মামলা বা ভয়ভীতি দেখিয়ে এই তরুণ নেতৃত্বকে অতীতেও যেমন দমানো যায়নি, ভবিষ্যতেও তা সম্ভব হবে না। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ৫ আগস্টের সেই ছাত্র-জনতার মহাজাগরণ কোনো ঠুনকো আবেগের ফসল ছিল না। তাই একে আইনি প্যাঁচে ফেলে বাধাগ্রস্ত করা যাবে না।
সরকার এবং সংশ্লিষ্ট সকল মহলের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই ধরণের হয়রানিমূলক অপচেষ্টা বন্ধে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। যারা পর্দার আড়াল থেকে এই ষড়যন্ত্রে ইন্ধন দিচ্ছে, তাদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠীর যেকোনো অপতৎপরতা প্রতিহত করতে জাতীয় নাগরিক পার্টি রাজপথে সজাগ থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
নতুন বাংলাদেশে পুরোনো ছায়া
বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে যেখানে দেশ পুনর্গঠনে সবার মনোযোগ থাকার কথা, সেখানে এমন প্রতিহিংসামূলক তৎপরতা জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসিফ মাহমুদের মতো সমন্বয়কদের বিরুদ্ধে মামলা করার চেষ্টা প্রমাণ করে যে, ক্ষমতাচ্যুত অপশক্তি এখনো প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে বা সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় থেকে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে।
নাহিদ ইসলাম তার বক্তব্যের শেষে আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, জনগণের জাগ্রত চেতনার কাছে এই ধরণের সস্তা চক্রান্ত খড়কুটোর মতো উড়ে যাবে। তিনি জুলাই বিপ্লবের সকল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান, যাতে কোনোভাবেই গত ৫ আগস্টের অর্জন ম্লান না হয়ে যায়।

