বর্তমান টালমাটাল বিশ্ব পরিস্থিতিতে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে ঐতিহাসিক বদর যুদ্ধকে চিরন্তন আলোকবর্তিকা হিসেবে অভিহিত করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির, মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই)। শনিবার (৭ মার্চ) ঐতিহাসিক বদর দিবস উপলক্ষে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিশেষ বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।
পীর সাহেব চরমোনাই তার বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, ইসলামের ইতিহাসের প্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই যুদ্ধটি কেবল দুটি দলের সংঘাত ছিল না; বরং এটি ছিল শোষণের বিরুদ্ধে সাম্য ও ন্যায়বিচারের বিজয়ের সূচনা। ২ হিজরির ১৭ রমজানের সেই স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, “সেদিন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নেতৃত্বে এক ক্ষুদ্র বাহিনী যে অসীম সাহসিকতায় বিশাল অপশক্তিকে পরাজিত করেছিল, তা আজও আমাদের শেখায় যে সত্যের পথে অটল থাকলে আল্লাহর সাহায্য সুনিশ্চিত।”
বিবৃতিতে বর্তমান বিশ্বব্যবস্থার কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, বর্তমান সময়ের শাসননীতিতে ইনসাফ বা মানবিকতার চেয়ে হিংসা, লোভ ও ক্ষমতার দম্ভই মুখ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোনো আন্তর্জাতিক আইন বা রীতিনীতির তোয়াক্কা না করে মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের হঠকারিতার বলি হচ্ছে বিশ্বের কোটি কোটি সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে চলমান যুদ্ধ-বিগ্রহে নিষ্পাপ শিশুদের মৃত্যু এবং হাজারো মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
মুফতি রেজাউল করীম বলেন, “বদর যুদ্ধ আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে, বাহ্যিক শক্তি-সামর্থ্যই শেষ কথা নয়। ঈমানি বলিয়ান হয়ে জুলুমের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারলে বিজয় সম্ভব। আজকের এই স্বার্থান্বেষী বিশ্বব্যবস্থায় বদর যুদ্ধের চেতনা আমাদের অবিচল থাকার শক্তি জোগায়।”
বিবৃতিতে তিনি বিশ্বজুড়ে চলমান অস্থিরতা ও মানবিক সংকটের হাত থেকে মুক্তি পেতে এবং একটি শোষণমুক্ত সমাজ গঠনে বদর যুদ্ধের শিক্ষা ব্যক্তি ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ধারণ করার আহ্বান জানান। পরিশেষে তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.) এবং বীর বদরী সাহাবায়ে কেরামদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও সালাম পেশ করেন।

