২০২৬ সালের জন্য জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের বার্ষিক কেন্দ্রীয় চুক্তির তালিকা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এবারের চুক্তিতে বড় চমক হিসেবে থাকছে ক্রিকেটারের সংখ্যা বৃদ্ধি। গতবছরের ২২ জন থেকে বাড়িয়ে এবার মোট ২৮ জন ক্রিকেটারকে চুক্তিবদ্ধ করা হয়েছে। তবে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো, সর্বোচ্চ ‘এ প্লাস’ ক্যাটাগরিতে এবার রাখা হয়নি কাউকেই।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিসিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত এই নতুন চুক্তি কার্যকর থাকবে। পারফরম্যান্স ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ক্রিকেটারদের চারটি গ্রেডে ভাগ করা হলেও কোনো স্তরেই মাসিক পারিশ্রমিক বাড়ানো হয়নি। মূলত তিন ফরম্যাটে নিয়মিত ক্রিকেটারের অভাব এবং পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতার অভাবকেই ‘এ প্লাস’ ক্যাটাগরি ফাঁকা রাখার কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিষেক ও প্রত্যাবর্তনের গল্প
এবারের কেন্দ্রীয় চুক্তিতে প্রথমবারের মতো জায়গা করে নিয়েছেন তরুণ তুর্কি পারভেজ হোসেন ইমন, তানভীর ইসলাম এবং হাসান মুরাদ। ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবে তারা এই স্বীকৃতি পেলেন। অন্যদিকে, চুক্তিতে ফিরেছেন এক সময়কার নিয়মিত মুখ সাইফ হাসান, নুরুল হাসান সোহান, নাঈম হাসান এবং শামীম হোসেন। স্বস্তির বিষয় হলো, গত বছরের চুক্তি থেকে এবার কাউকেই ছেঁটে ফেলেনি বোর্ড।
কার বেতন কত: গ্রেডভিত্তিক বিশ্লেষণ
বিসিবির নতুন কাঠামো অনুযায়ী, ক্রিকেটারদের বেতন চারটি স্তরে বিভক্ত করা হয়েছে:
গ্রেড ‘এ’ (মাসিক ৮ লাখ টাকা): এই ক্যাটাগরিতে ঠাঁই পেয়েছেন বর্তমান অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত, অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ, উইকেটকিপার ব্যাটার লিটন কুমার দাস এবং পেসার তাসকিন আহমেদ। উল্লেখ্য, তাসকিন গত বছর ‘এ প্লাস’ ক্যাটাগরিতে থাকলেও এবার তাকে ‘এ’ গ্রেডে নামিয়ে আনা হয়েছে।
গ্রেড ‘বি’ (মাসিক ৬ লাখ টাকা): সবচেয়ে বেশি ১১ জন ক্রিকেটার রয়েছেন এই ক্যাটাগরিতে। অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম, মুমিনুল হক, মোস্তাফিজুর রহমানের সাথে আছেন তরুণ সেনসেশন তাওহীদ হৃদয়, রিশাদ হোসেন, তানজিদ হাসান তামিম এবং গতি তারকা নাহিদ রানা। এছাড়া তাইজুল ইসলাম, হাসান মাহমুদ, সাদমান ইসলাম ও শেখ মেহেদী হাসানও এই গ্রেডে অন্তর্ভুক্ত।
গ্রেড ‘সি’ (মাসিক ৪ লাখ টাকা): এই স্তরে আছেন ৬ জন ক্রিকেটার। অলরাউন্ডার সৌম্য সরকার, জাকের আলি অনিক, শরিফুল ইসলাম, নাসুম আহমেদ, সৈয়দ খালেদ আহমেদ এবং তানজিম হাসান সাকিব প্রতি মাসে ৪ লাখ টাকা করে পারিশ্রমিক পাবেন।
গ্রেড ‘ডি’ (মাসিক ২ লাখ টাকা): নবীন ও ফিরে আসা ৭ জন ক্রিকেটারকে রাখা হয়েছে এই ক্যাটাগরিতে। তারা হলেন—সাইফ হাসান, পারভেজ ইমন, নাঈম হাসান, তানভীর ইসলাম, হাসান মুরাদ, নুরুল হাসান সোহান এবং শামীম হোসেন।
চুক্তির নেপথ্যে বোর্ডের ভাবনা
বিসিবি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড় সংখ্যা বাড়ানোর মূল উদ্দেশ্য হলো দলের গভীরতা (Depth) বৃদ্ধি করা। বেশি সংখ্যক ক্রিকেটারকে আর্থিক নিরাপত্তার আওতায় আনলে ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং বিকল্প খেলোয়াড় তৈরির পথ সুগম হবে। তবে ‘এ প্লাস’ ক্যাটাগরি ফাঁকা রাখা নিয়ে ক্রিকেটপাড়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ক্রিকেটারদের জন্য একটি প্রচ্ছন্ন বার্তা যে, সব ফরম্যাটে সেরা পারফরম্যান্স না দেখালে সর্বোচ্চ সম্মান পাওয়া সম্ভব নয়।
আগামী এক বছর এই চুক্তির ভিত্তিতেই চলবে বাংলাদেশের ক্রিকেট। মাঠের লড়াইয়ে ক্রিকেটাররা এই আস্থার প্রতিদান কতটা দিতে পারেন, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

