রাজধানীর রাজপথ থেকে শুরু করে জাতীয় সংসদ ভবন—সর্বত্রই এখন পরিবর্তনের সুর। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে যখন তারেক রহমান দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিচ্ছিলেন, তখন সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আমন্ত্রিত অতিথিদের সারিতে দেখা গেল জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালকে। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নতুন সরকারকে নিয়ে নিজের প্রত্যাশা ও বিশ্বাসের কথা খোলামেলাভাবে জানান এই বাঁহাতি ওপেনার।
তামিম মনে করেন, একটি নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই সবকিছু বদলে ফেলা সম্ভব নয়। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধারণ করা জরুরি। তিনি বলেন, “এই সরকারকে সময় দিতে হবে। কোনো কিছু দ্রুত হয়ে যায় না। আমরা প্রায় দেড় বছর ধরে আশা করছিলাম যে একটি রাজনৈতিক সরকার আসবে। এখন যখন সেই সরকার এসেছে, ভালো কিছুর জন্য আমাদের সবাইকে তাদের সময় দেওয়া উচিত।”
ক্রীড়াঙ্গনের মানুষ হিসেবে তামিমের মূল চাওয়া হলো ‘সঠিক স্থানে সঠিক ব্যক্তি’। বিশেষ করে জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ায় তামিম বেশ ইতিবাচক। তিনি বিশ্বাস করেন, যোগ্য ব্যক্তিরাই পারবেন ঝিমিয়ে পড়া ক্রীড়াঙ্গনকে জাগিয়ে তুলতে। তামিমের ভাষায়, “রাইট পজিশনে রাইট মানুষ নিয়ে আসা খুব ইম্পর্টেন্ট। যারা ফুটবলের জন্য ভালো বা অন্য যেকোনো স্পোর্টসের জন্য দক্ষ, তাদের সেই জায়গায় সুযোগ দিতে হবে।”
খেলোয়াড় থেকে মন্ত্রী হওয়া নিয়ে যে বিতর্ক থাকে, সে বিষয়েও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন তামিম। তিনি মনে করেন, একজন খেলোয়াড় যদি দীর্ঘ সময় রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকেন এবং তার সাংগঠনিক দক্ষতা থাকে, তবে তিনি ক্রীড়া মন্ত্রী হিসেবে সফল হতে পারেন। তিনি বলেন, “একজন স্পোর্টসম্যান হয়েছেন দেখেই যে স্পোর্টস মিনিস্টার হতে পারবেন না, তা আমি মনে করি না। যদি তিনি যোগ্য হন, তবে অবশ্যই তিনি এই পদের দাবিদার।”
দেশের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিয়েও আশাবাদী তামিম। তিনি বিশ্বাস করেন, নতুন সরকার আসার ফলে মানুষের জীবনের নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকারগুলো ধীরে ধীরে ফিরে আসবে। দেশের মানুষের মনে যে বড় এক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, এই সরকার তা পূরণ করতে পারবে বলেই তার বিশ্বাস। তবে এর জন্য তাড়াহুড়ো না করে সরকারকে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার ওপর তিনি বারবার জোর দিয়েছেন।
সাক্ষাৎকারের এক পর্যায়ে তামিম বাংলাদেশের স্পোর্টস সেক্টরকে দেশের জন্য একটি বড় ‘ফ্যাক্টর’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, যারা দায়িত্বে আছেন বা নতুন দায়িত্ব পাবেন, তারা সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে খেলাধুলাকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। তামিমের এই বক্তব্য ক্রীড়াঙ্গনসহ সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।

