দেশের ক্রীড়াঙ্গনে বইছে উৎসবের আমেজ। জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক কিংবদন্তি অধিনায়ক ও গোলরক্ষক মো. আমিনুল হক টেকনোক্র্যাট কোটায় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। একজন মাঠের মানুষকে ক্রীড়াঙ্গনের সর্বোচ্চ অভিভাবক হিসেবে পেয়ে উচ্ছ্বসিত খেলোয়াড়, কোচ ও সংগঠকরা। সবার মনে এখন একটাই প্রশ্ন—দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে থাকা দেশের ক্রীড়া ক্ষেত্রকে আমিনুল কি পারবেন আমূল বদলে দিতে?
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) আমিনুল হকের এই অভিষেককে ঘিরে ক্রীড়া সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ব্যাপক আশাবাদ দেখা দিয়েছে। উপমহাদেশের প্রথম গ্র্যান্ডমাস্টার নিয়াজ মোর্শেদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “আমিনুলকে দায়িত্ব দিয়ে ক্রীড়াঙ্গনের সবচেয়ে যোগ্য লোককেই বেছে নেওয়া হয়েছে। স্বাধীনতার পর সাদেক হোসেন খোকা ছাড়া খুব কম মানুষই ক্রীড়াঙ্গনকে মন থেকে ধারণ করে কাজ করেছেন। আরিফ খান জয় উপমন্ত্রী হয়ে আমাদের হতাশ করেছিলেন, কিন্তু আমিনুলের ভিশন নিয়ে আমি আশাবাদী।”
নিয়াজ মোর্শেদের বিশ্বাস, আগামী পাঁচ বছরে আমিনুল এমন কিছু করবেন যা তাকে দেশের ইতিহাসের সেরা ক্রীড়া মন্ত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে। আমিনুল শুধু একজন খেলোয়াড়ই নন, বরং দীর্ঘ সময় ধরে মাঠের সমস্যাগুলো কাছ থেকে দেখেছেন। তৃণমূল পর্যায়ে কোন জায়গায় সম্ভাবনা আছে আর কোথায় জট পাকিয়ে আছে, তা তার নখদর্পণে।
আমিনুলের এক সময়ের সতীর্থ ও রাজনৈতিক সহযোদ্ধা সাবেক ফুটবলার জাহেদ পারভেজ চৌধুরী মনে করেন, আমিনুলের পরিশ্রমী মনোভাবই হবে তার সাফল্যের চাবিকাঠি। তার মতে, বিএনপির যে ভিশন তা তৃণমূল পর্যন্ত পৌঁছে দিতে আমিনুল বদ্ধপরিকর। জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে ঝিমিয়ে পড়া ক্রীড়া আসরগুলো আমিনুলের হাত ধরে আবারও প্রাণ ফিরে পাবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
জাতীয় দলে আমিনুলের দীর্ঘদিনের রুমমেট ও গোলরক্ষক বিপ্লব ভট্টাচার্য্য বন্ধুর এই সাফল্যে গর্বিত। বিপ্লব বলেন, “আমিনুল ফুটবলার হলেও আমি চাই সে ক্রিকেট, ফুটবল বাদে অন্য সব খেলাতেও সমান নজর দিক। অ্যাথলেটরা যেন সমাজে মাথা উঁচু করে চলতে পারে, সেই মর্যাদা নিশ্চিত করাই হবে তার বড় কাজ।”
সাবেক জাতীয় কোচ শফিকুল ইসলাম মানিকের মতে, বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে এখন একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন দরকার। গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে আমিনুল সেই ‘বিপ্লব’ আনতে পারবেন বলে তিনি মনে করেন। মানিকের অধীনে দীর্ঘদিন খেলেছেন আমিনুল, তাই তার লড়াকু মানসিকতা সম্পর্কে কোচ বেশ অবগত।
ক্রীড়াঙ্গনের দীর্ঘ পাঁচ দশকের সাক্ষী কামরুন নাহার ডানা মনে করেন, ক্রীড়া একটি বিশেষায়িত বিষয়। তাই একজন বড় মাপের খেলোয়াড় যখন এর নেতৃত্বে আসেন, তখন কাজের গতি ও মান উভয়ই বাড়ে। আমিনুলের সাংগঠনিক দক্ষতা ইতিমধ্যে রাজনৈতিক ময়দানে প্রমাণিত, এখন সেটি প্রশাসনিক ক্ষেত্রে প্রমাণের পালা।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক স্বর্ণজয়ী শুটার শারমিন আক্তার রত্না এই নিয়োগে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন। নারী ক্রীড়াবিদদের অধিকার ও নিপীড়ন বিরোধী আন্দোলনে সোচ্চার রত্না বলেন, “আমিনুল ভাই গত দেড় বছরের ঘটনাগুলো খুব কাছ থেকে দেখেছেন। আমরা আশা করি, এখন থেকে ক্রীড়াবিদরা তাদের ন্যায্য অধিকার পাবেন এবং অপরাধীদের যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত হবে।”
মাঠের গোলপোস্ট সামলানো আমিনুল হক এখন সামলাবেন দেশের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের বিশাল দায়িত্ব। খেলোয়াড় থেকে মন্ত্রী হওয়ার এই যাত্রায় তিনি কতটা সফল হন, সেটিই এখন দেখার বিষয়। তবে তার কাঁধে যে এক পাহাড় সমান প্রত্যাশা, তা বলাই বাহুল্য।

