ভারতের পর্যটন নগরী কর্ণাটকে এক ভয়াবহ অপরাধের চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। এক ইসরায়েলি নারীসহ দুই পর্যটককে গণধর্ষণ এবং তাদের এক পুরুষ সঙ্গীকে নৃশংসভাবে হত্যার দায়ে তিন ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) কর্ণাটকের একটি স্থানীয় আদালত এই যুগান্তকারী রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি হলেন— মাল্লেস (ওরফে হান্দিমাল্লা), সাই এবং শরণপ্পা। তাদের বিরুদ্ধে আনা প্রতিটি অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক এই সর্বোচ্চ সাজা কার্যকর করার নির্দেশ দেন। রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত এই ঘটনাকে ‘বিরল থেকে বিরলতম’ (Rarest of Rare) অপরাধ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটেছিল গত বছরের মার্চ মাসে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৬ মার্চ রাতে কর্ণাটকের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র সানাপুরাতে এই নারকীয় তাণ্ডব চালায় আসামিরা। ওই রাতে দুই নারী পর্যটক এবং তাদের তিন পুরুষ বন্ধু যখন সেখানে অবস্থান করছিলেন, তখন এই তিন অভিযুক্ত তাদের কাছে গিয়ে জোরপূর্বক অর্থ দাবি করে।
আর্থিক লেনদেন নিয়ে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে অভিযুক্তরা হিংস্র হয়ে ওঠে। তারা তিন পুরুষ পর্যটককে ধাক্কা দিয়ে পাশের একটি গভীর খালে ফেলে দেয়। এরপর পর্যটক দলটির ওই দুই নারীর ওপর পাশবিক যৌন নির্যাতন চালায় তারা। খালে পড়ে যাওয়া তিনজনের মধ্যে দুজন কোনোমতে সাঁতরে জীবন বাঁচাতে পারলেও ওড়িশার বাসিন্দা অন্য এক তরুণ নিখোঁজ হন। পরে উদ্ধার করা হয় তার নিথর দেহ। পানিতে ডুবে মৃত্যু হয় পর্যটক দলের সেই সদস্যের।
এই লোমহর্ষক ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর কেবল ভারতেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নিন্দার ঝড় উঠেছিল। পর্যটকদের নিরাপত্তা এবং নারী সুরক্ষা নিয়ে ভারতের বিচার ব্যবস্থা ও পুলিশি তৎপরতা প্রশ্নের মুখে পড়েছিল। সেই সময় থেকেই মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছিল স্থানীয় প্রশাসন।
আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, বিদেশি পর্যটকদের ওপর এই ধরনের পৈশাচিক হামলা দেশের ভাবমূর্তিকে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। আসামিদের অপরাধের ধরণ এতটাই বর্বরোচিত যে, তাদের কোনো প্রকার ক্ষমা বা নমনীয়তা প্রদর্শনের সুযোগ নেই। বিচারক মন্তব্য করেন, সমাজের জন্য ক্ষতিকর এই ধরনের অপরাধীদের সর্বোচ্চ সাজাই একমাত্র কাম্য।
উল্লেখ্য, রায়ের সময় আদালতকক্ষে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ভুক্তভোগীদের পরিবারের সদস্যরা এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। মানবাধিকার কর্মী ও সাধারণ মানুষও এই কঠোর শাস্তিকে স্বাগত জানিয়ে বলছেন, এর ফলে পর্যটন এলাকায় অপরাধপ্রবণতা হ্রাস পাবে এবং অপরাধীদের কাছে একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা পৌঁছাবে।

