রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-১৫ (মিরপুর ও কাফরুল) আসনের উপনির্বাচনে প্রাথমিক ফলাফলে বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার রাতে আসা সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, ৬৬টি কেন্দ্রের ভোট গণনা শেষে তিনি তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থীর চেয়ে উল্লেখযোগ্য ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে আছেন।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত যে ৬৬টি কেন্দ্রের ফলাফল পাওয়া গেছে, তাতে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী ডা. শফিকুর রহমান পেয়েছেন ৪১ হাজার ৩৯০ ভোট। অন্যদিকে, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে সংগ্রহ করেছেন ৩০ হাজার ৩২৬ ভোট। দুই প্রার্থীর মধ্যে এখন পর্যন্ত ১১ হাজার ৬৪ ভোটের ব্যবধান লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
ঢাকা-১৫ আসনের নির্বাচনি এলাকাটি মিরপুরের বড় একটি অংশ নিয়ে গঠিত, যার মধ্যে ডিএনসিসি ৪, ১৩, ১৪ ও ১৬ নম্বর ওয়ার্ড এবং ক্যান্টনমেন্ট এলাকা অন্তর্ভুক্ত। এই আসনে মোট ১২৭টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। ফলে অর্ধেকের বেশি কেন্দ্রের ফলাফল হাতে আসায় ভোটের হাওয়া কোন দিকে যাচ্ছে, তার একটি প্রাথমিক ধারণা মিলতে শুরু করেছে। তবে এখনো অর্ধেকের কাছাকাছি কেন্দ্রের ফল আসা বাকি থাকায় চূড়ান্ত ফলের জন্য আরও কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে।
মিরপুর ও কাফরুল এলাকা নিয়ে গঠিত এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৫১ হাজার ৭১৮ জন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ১ লাখ ৭৯ হাজার ৬১৬ এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৭২ হাজার ৯৮ জন। এ ছাড়া এই নির্বাচনি এলাকায় চারজন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটারও তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়েছেন। শহরের প্রাণকেন্দ্র হওয়ায় এই আসনের ফলাফলের দিকে সারা দেশের মানুষের নজর রয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার শীতের সকালে ঠিক সাড়ে ৭টায় সারা দেশের ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রের মতো ঢাকা-১৫ আসনেও ভোটগ্রহণ শুরু হয়। একটানা চলে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। সকালের দিকে কেন্দ্রগুলোতে ভোটারের উপস্থিতি কিছুটা কম দেখা গেলেও বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে চিত্র বদলে যায়। দুপুরের পর থেকে কেন্দ্রগুলোতে ভোটারের দীর্ঘ সারি চোখে পড়ে, যা গত কয়েক বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য।
বিশেষ করে এবারের নির্বাচনে তরুণ ও নতুন ভোটারদের উপস্থিতি ছিল দেখার মতো। অনেক তরুণ ভোটার জানিয়েছেন, আগামীর বাংলাদেশ পুনর্গঠনে এবং একটি কার্যকর সংসদ গঠনে নিজেদের মতামত জানাতেই তারা কেন্দ্রে এসেছেন। কোনো ধরনের বড় অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শেষ হয়েছে ভোটগ্রহণ, তবে ফলাফল নিয়ে কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে।
মিরপুরের বিভিন্ন স্পটে অবস্থান নেওয়া দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করলেও এখন পর্যন্ত আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা টহল জোরদার রেখেছেন। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রতি কেন্দ্রের ফল ঘোষণার পর পর কর্মী-সমর্থকরা উল্লাস বা উদ্বেগের সঙ্গে তা গ্রহণ করছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াত ও বিএনপির এই লড়াই কেবল জয়-পরাজয়ের নয়, বরং ঢাকার রাজনীতিতে নিজেদের প্রভাব প্রমাণেরও একটি পরীক্ষা। ডা. শফিকুর রহমান জামায়াতের আমির হওয়ায় এই আসনটি তার দলের জন্য সম্মানের লড়াই হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, বিএনপি তাদের হারানো দুর্গ পুনরুদ্ধারে মরিয়া হয়ে লড়ছে।
এখন পর্যন্ত পাওয়া ফলাফল অনুযায়ী ডা. শফিকুর রহমান সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও মিরপুর ও ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বাকি কেন্দ্রগুলোর ওপর নির্ভর করছে চূড়ান্ত বিজয়। নির্বাচনি এলাকায় থমথমে ভাব থাকলেও সবাই গভীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন পূর্ণাঙ্গ ফলাফলের জন্য। প্রশাসন জানিয়েছে, সব কেন্দ্রের ফলাফল সমন্বয় করে দ্রুতই বেসরকারিভাবে বিজয়ী প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে।

