রাজধানীর ভিআইপি আসন হিসেবে পরিচিত ঢাকা-১৭ (গুলশান-বনানী-ক্যান্টনমেন্ট) আসনের প্রাথমিক ফলাফল আসতে শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুটি কেন্দ্রের ভোট গণনায় বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে দেশে ফিরে এই প্রথম সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে শুরুতেই বড় লিড পেয়েছেন তিনি।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে পাওয়া প্রাথমিক তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত গণনা করা দুটি কেন্দ্রে ধানের শীষ প্রতীকে তারেক রহমান পেয়েছেন ১ হাজার ৭৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা ডা. এস এম খালিদুজ্জামান (দাঁড়িপাল্লা প্রতীক) পেয়েছেন ৪৫৭ ভোট। অর্থাৎ মাত্র দুটি কেন্দ্রের ফলাফলেই তারেক রহমান ৬১৭ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন।
ঢাকা-১৭ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৭৭৭ জন। এর মধ্যে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭০৯ জন পুরুষ এবং ১ লাখ ৫৯ হাজার ৬০ জন নারী ভোটার। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হওয়া এই ভোটযুদ্ধে দুপুর পর্যন্ত ভোটারদের উপস্থিতি কিছুটা কম থাকলেও বিকালের দিকে গুলশান ও বনানী এলাকার কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের ভোটারদের মধ্যে তারেক রহমানকে নিয়ে ব্যাপক উন্মাদনা লক্ষ্য করা গেছে।
এদিন সকালে গুলশান মডেল হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে সপরিবারে ভোট দেন তারেক রহমান। ভোট দেওয়া শেষে তিনি গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, তিনি জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। অন্যদিকে, জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ডা. এস এম খালিদুজ্জামানও দিনভর বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন এবং তিনিও তার জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করেছেন।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবার রেকর্ডসংখ্যক ৫১টি রাজনৈতিক দল এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। ঢাকা-১৭ আসনে তারেক রহমানকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচনের আগমুহূর্তে বিএনএফের আবুল কালাম আজাদসহ চারজন স্বতন্ত্র প্রার্থী সরে দাঁড়িয়েছিলেন, যা ধানের শীষের পাল্লাকে আরও ভারী করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
যদিও দুপুর পর্যন্ত দেশের কিছু কেন্দ্রে বিচ্ছিন্ন বিশৃঙ্খলা ও জাল ভোটের খবর পাওয়া গেছে, তবে ঢাকা-১৭ আসনে এখন পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর মেলেনি। বর্তমানে আসনটির বাকি কেন্দ্রগুলোর ব্যালট পেপার গণনার কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। বনানী ও ক্যান্টনমেন্ট এলাকার কেন্দ্রগুলোর ফলাফল হাতে এলে তারেক রহমানের এই লিড আরও বাড়বে নাকি ডা. খালিদুজ্জামান ঘুরে দাঁড়াবেন, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

