রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আসন ঢাকা-১৫ (মিরপুর-কাফরুল) থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রথম কেন্দ্রের ফলাফল পাওয়া গেছে। প্রাথমিক এই গণনায় ধানের শীষের প্রার্থীকে পেছনে ফেলে এগিয়ে রয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী এই নির্বাচনে আসনটিতে শুরু থেকেই বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে এক স্নায়ুযুদ্ধ চলছিল।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ১টি কেন্দ্রের ভোট গণনা শেষে ডা. শফিকুর রহমান পেয়েছেন ১ হাজার ৩১০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মনোনীত প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান (মিল্টন) পেয়েছেন ১ হাজার ৭৫ ভোট। অর্থাৎ মাত্র একটি কেন্দ্রের ফলাফলেই জামায়াত আমির ২৩৫ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। তবে এই ফলকে চূড়ান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই, কারণ আসনটিতে মোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১২৭টি।
ঢাকা-১৫ আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা ৩ লাখ ৫১ হাজার ৭১৮ জন। যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭৯ হাজার ৬১৬ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৭২ হাজার ৯৮ জন। সকাল থেকেই মিরপুর ও কাফরুল এলাকার কেন্দ্রগুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশে মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। বিশেষ করে মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও মিরপুর কলেজ কেন্দ্রগুলোতে তরুণ ভোটারদের দীর্ঘ সারি ছিল চোখে পড়ার মতো।
এবারের নির্বাচনে ঢাকা-১৫ আসনে ত্রিমুখী বা বহুমুখী লড়াইয়ের বদলে মূলত বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে একটি ‘মর্যাদার লড়াই’ হচ্ছে। দীর্ঘদিন পর জামায়াতের শীর্ষ কোনো নেতার সরাসরি নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থীর উপস্থিতি আসনটিকে সারা দেশের নজরে নিয়ে এসেছে। ডা. শফিকুর রহমান ভোট দেওয়ার সময় মন্তব্য করেছিলেন যে, এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে প্রকৃত জনবান্ধব সরকার গঠিত হবে।
এদিকে, ফলাফল নিয়ে এখনই নিশ্চিত কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি বিএনপির প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান। তার সমর্থকদের দাবি, মিরপুরের মধ্যবিত্ত ও শ্রমজীবী মানুষের ভোট গণনায় এলে ধানের শীষের ফলাফল ঘুরে দাঁড়াবে। তবে প্রাথমিক এই লিড জামায়াত শিবিরের নেতা-কর্মীদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা তৈরি করেছে।
সারাদেশে মোট ৫৯টি কেন্দ্রে বিচ্ছিন্ন কিছু বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া গেলেও ঢাকা-১৫ আসনে বিকেল পর্যন্ত বড় কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি। বর্তমানে ১২৭টি কেন্দ্রের ব্যালট পেপার গণনার কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। রাত বাড়ার সাথে সাথে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকার এই মর্যাদাপূর্ণ আসনের চূড়ান্ত ফলাফল স্পষ্ট হবে।

