রাজধানীর বাড্ডা, রামপুরা ও ভাটারা এলাকা নিয়ে গঠিত গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-১১ আসনে নির্বাচনী উত্তাপ এখন তুঙ্গে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পাওয়া প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, প্রথম তিনটি কেন্দ্রের ফলাফলে এগিয়ে রয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী নাহিদ ইসলাম। এই আসনে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে কড়া টক্কর দিচ্ছেন ধানের শীষের প্রার্থী এম এ কাইয়ুম।
নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, এখন পর্যন্ত গণনা করা তিনটি কেন্দ্রে নাহিদ ইসলাম পেয়েছেন ২ হাজার ৩৪১ ভোট। অন্যদিকে, বিএনপির প্রার্থী এম এ কাইয়ুম পেয়েছেন ১ হাজার ৫২০ ভোট। অর্থাৎ, প্রাথমিক এই গণনায় নাহিদ ইসলাম ৮২১ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। তবে এই ফলাফলকে কেবল একটি খণ্ডিত চিত্র হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা, কারণ আসনটিতে মোট ভোটারের সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিন লাখ।
ঢাকা-১১ আসনে সকাল থেকেই ভোটারদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে রামপুরা ও বাড্ডা এলাকার কেন্দ্রগুলোতে তরুণ ভোটারদের মাঝে এনসিপি প্রার্থীর পক্ষে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা যায়। অন্যদিকে, বিএনপির এম এ কাইয়ুমের রয়েছে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ভিত্তি ও শক্তিশালী ভোটব্যাংক। ফলে ৩টি কেন্দ্রের ফল দিয়ে চূড়ান্ত বিজয় আঁচ করা এখনই সম্ভব নয় বলে মনে করছেন সাধারণ ভোটাররা।
এবারের নির্বাচনে বাড্ডা-রামপুরা এলাকায় কোনো ধরনের বড় সংঘাত বা সহিংসতা ছাড়াই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। বিকেল সাড়ে ৪টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর থেকেই কেন্দ্রগুলোতে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে গণনা শুরু হয়। সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি দেশজুড়ে চলা ঐতিহাসিক গণভোটের প্রভাবেও মানুষের মধ্যে ভোটাধিকার প্রয়োগের বিশেষ তাগিদ লক্ষ্য করা গেছে।
নাহিদ ইসলাম ও এম এ কাইয়ুমের এই লড়াইকে অনেকে ‘নতুন বনাম পুরাতন’ রাজনীতির লড়াই হিসেবে দেখছেন। জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী এই নির্বাচনে এনসিপি প্রার্থীর অগ্রগামিতা বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। তবে পুরো এলাকার সব কেন্দ্রের ফলাফল একত্রিত হলে এই চিত্র যেকোনো সময় বদলে যেতে পারে।
বর্তমানে এই এলাকার প্রতিটি কেন্দ্র ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে শত শত উৎসুক মানুষের ভিড় জমেছে। থমথমে নয়, বরং এক ধরনের চাপা উত্তেজনা নিয়ে ফলাফল শোনার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন দুই প্রার্থীর সমর্থকরাই। রাত বাড়ার সাথে সাথে চূড়ান্ত ফলাফল স্পষ্ট হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

