দুই বাংলার অভিনয়ের আঙিনায় চঞ্চল চৌধুরী এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী নাম। পর্দার অভিনয়ের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তার সরব উপস্থিতি ভক্তদের সবসময়ই দারুণ কিছু উপহার দেয়। ব্যক্তিগত জীবনের আনন্দ বা বিশেষ কোনো মুহূর্ত ভাগ করে নিতে তিনি কখনোই কার্পণ্য করেন না। এবার এই শক্তিমান অভিনেতা আলোচনায় এলেন কলকাতার ‘বুম্বাদা’ অর্থাৎ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে কাটানো এক বিশেষ সন্ধ্যার স্মৃতি নিয়ে।
সম্প্রতি ভারত সরকারের অত্যন্ত সম্মানজনক রাষ্ট্রীয় পদক ‘পদ্মশ্রী’তে ভূষিত হয়েছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। এই অভাবনীয় প্রাপ্তি উদ্যাপনে নিজের বাড়িতে ঘনিষ্ঠ এক মিলন মেলার আয়োজন করেছিলেন ওপার বাংলার এই মেগাস্টার। সেই আনন্দের ভাগীদার হতে আমন্ত্রিত ছিলেন বাংলাদেশের চঞ্চল চৌধুরীও। সেই আড্ডার কিছু স্থিরচিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পরই তা নেটিজেনদের আগ্রহের কেন্দ্রে চলে আসে।
বুম্বাদার আতিথেয়তায় মুগ্ধ চঞ্চল নিজের মুগ্ধতা গোপন রাখেননি। ফেসবুকের দেয়ালে তিনি লিখেছেন সেই সন্ধ্যা নিয়ে তার অভিজ্ঞতার কথা। প্রসেনজিতের মতো একজন মহাতারকার সাদামাটা এবং আন্তরিক ব্যবহার যে চঞ্চলকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে, তা তার লেখায় স্পষ্ট। চঞ্চল লিখেছেন, “পদ্মশ্রী প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বুম্বাদার এই রাষ্ট্রীয় সম্মান অর্জন উপলক্ষে তার নিজের বাড়িতে এক মিলন মেলায় অপূর্ব আতিথেয়তা।”
তবে সেই সন্ধ্যার আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে কেবল প্রসেনজিৎ ছিলেন না। চঞ্চল চৌধুরীর নজর কেড়েছেন বুম্বাদার সুযোগ্য পুত্র তৃষাণজিৎ চট্টোপাধ্যায়, যিনি কাছের মানুষদের কাছে ‘মিশুক’ নামে পরিচিত। মিশুকের নম্রতা ও ব্যক্তিত্ব দেখে চঞ্চল এতটাই আপ্লুত যে তাকে নিয়ে আলাদাভাবে নিজের ভালো লাগার কথা জানিয়েছেন।
চঞ্চল চৌধুরী তার পোস্টে মিশুকের প্রশংসা করে লিখেছেন, “অনেক অনেক আদর ও ভালোবাসা তারই পুত্র তৃষানজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে।” এরপরই তিনি যোগ করেন সেই বহুল আলোচিত বাক্যটি— “ছেলেটা ঠিক ওর বাবার মতোই হয়েছে।” একজন বাবার কাছে এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কী হতে পারে, তা চঞ্চলের এই ছোট্ট একটি লাইনেই ফুটে উঠেছে। বাবার গরিমা আর বিনয় যে মিশুকের মধ্যেও সঞ্চারিত হয়েছে, সেটিই মূলত বলতে চেয়েছেন এই অভিনেতা।
এই মিলন মেলায় দুই বাংলার সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন যেমন ফুটে উঠেছে, তেমনি বড় ও ছোট পর্দার শিল্পীদের মধ্যে যে গভীর শ্রদ্ধার সম্পর্ক বিদ্যমান, তাও স্পষ্ট হয়েছে। চঞ্চল চৌধুরী তার পোস্টের শেষে বুম্বাদার প্রতি আবারও কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, “অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা বুম্বাদা।”
চঞ্চল চৌধুরীর এই পোস্টটি ইতোমধ্যেই নেট দুনিয়ায় ভাইরাল। ভক্তরা দুই বাংলার দুই মহারথীকে এক ফ্রেমে দেখে যেমন আনন্দিত, তেমনি তৃষাণজিৎকে নিয়ে চঞ্চলের করা মন্তব্যেরও প্রশংসা করছেন অনেকে। তারা বলছেন, গুণী মানুষেরাই অন্যের গুণ খুঁজে পান এবং তাকে প্রকাশ্যে সম্মান জানাতে দ্বিধাবোধ করেন না।
প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের পদ্মশ্রী জয় যেমন ভারতের চলচ্চিত্র জগতের জন্য গর্বের, তেমনি চঞ্চল চৌধুরীর মতো সহশিল্পীর সেই খুশিতে সশরীরে শামিল হওয়া দুই বাংলার শিল্পের বন্ধনকেই আরও সুদৃঢ় করে। বড় পর্দার এই মিলন মেলা কেবল উৎসবের নয়, বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে রইল।

