মুম্বাইয়ের ঐতিহাসিক ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে ইংল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অভিযান। প্রতিপক্ষ হিমালয়ের দেশ নেপাল। বড় কোনো আসরের প্রথম ম্যাচে সাধারণত দলগুলো শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নিজেদের রণকৌশল গোপন রাখতে চায়। তবে সাবেক চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড হাঁটলো ভিন্ন পথে। নেপালের বিপক্ষে মাঠে নামার প্রায় ২৪ ঘণ্টা আগেই নিজেদের শক্তিশালী একাদশ ঘোষণা করে এক ধরণের মনস্তাত্ত্বিক হুঙ্কার দিয়ে রাখলো ইংলিশরা।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে তিনটায় শুরু হতে যাওয়া এই ম্যাচে ইংল্যান্ডের নেতৃত্বে থাকছেন তরুণ তুর্কি হ্যারি ব্রুক। জস বাটলারের উত্তরসূরি হিসেবে আইসিসি ইভেন্টে এটিই ব্রুকের প্রথম বড় পরীক্ষা। শ্রীলঙ্কাকে তাদেরই মাটিতে টি-টোয়েন্টি সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে ধবলধোলাই করে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে রয়েছে থ্রি-লায়ন্সরা। নেপালের বিপক্ষে সেই জয়ের ধারা ধরে রাখাই এখন দলটির মূল লক্ষ্য।
ঘোষিত একাদশে সবচেয়ে বড় চমক ব্যাটার বেন ডাকেটের বাদ পড়া। সম্প্রতি লঙ্কানদের বিপক্ষে সিরিজের শেষ ম্যাচে ডাকেট মাত্র তিন বল খেলে শূন্য রানে সাজঘরে ফিরেছিলেন। তার এই ফর্মহীনতা ম্যানেজমেন্টকে ভাবিয়ে তুলেছে। তার পরিবর্তে একাদশে জায়গা করে নিয়েছেন টম ব্যান্টন। চার নম্বর পজিশনে ব্যাটিং অর্ডারের হাল ধরবেন ব্যান্টন, যার ওপর মিডল অর্ডারে দ্রুত রান তোলার বড় দায়িত্ব থাকছে।
ইংল্যান্ডের এবারের ব্যাটিং লাইনআপে অভিজ্ঞতার সাথে তারুণ্যের দারুণ এক সমন্বয় দেখা যাচ্ছে। টপ অর্ডারে ফিল সল্ট ও জস বাটলারের বিধ্বংসী জুটির পর তিনে নামবেন জ্যাকব বেথেল। মিডল অর্ডারের গভীরতা বাড়াতে হ্যারি ব্রুকের সাথে আছেন টম ব্যান্টন। ফিনিশার হিসেবে লিয়াম ডওসন, উইল জ্যাকস এবং স্যাম কারানের উপস্থিতি দলটিকে দিচ্ছে অতিরিক্ত ভারসাম্য। এই তিনজনই বল হাতেও সমান কার্যকর, যা অধিনায়ক ব্রুককে বোলিংয়ে বৈচিত্র্য আনার সুযোগ করে দেবে।
বোলিং বিভাগের দিকে তাকালে দেখা যায়, পেস আক্রমণে ফিরেছেন এক্সপ্রেস গতি তারকা জোফরা আর্চার। তার সাথে থাকছেন বাঁহাতি পেসার লুক উড। মুম্বাইয়ের ব্যাটিং স্বর্গে আর্চারের গতি আর উডের সুইং নেপালি ব্যাটারদের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ হতে পারে। আর স্পিন বিভাগে দলের মূল ভরসা হিসেবে থাকছেন অভিজ্ঞ লেগ-স্পিনার আদিল রশিদ। ওয়াংখেড়ের উইকেটে রশিদের গুগলিতে কুপোকাত হওয়ার সম্ভাবনা থাকছে নেপালের নবীন ব্যাটারদের।
অন্যদিকে, নেপাল তাদের তৃতীয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে নেমে বড় অঘটন ঘটাতে মুখিয়ে আছে। তবে ইংল্যান্ডের এই ‘অলরাউন্ডার ঠাসা’ একাদশ সামলানো রোহিত পাউডেলের দলের জন্য বেশ কঠিন হবে। হ্যারি ব্রুক ইতিমধ্যে সংবাদ সম্মেলনে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ভারতের এই কন্ডিশনে ৩০০ রানের টার্গেটও অসম্ভব কিছু নয়। ফলে নেপালের বিপক্ষে তারা যে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলবে, তা বলাই বাহুল্য।
বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘সি’-তে ইংল্যান্ডের অন্য প্রতিপক্ষরা হলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ, স্কটল্যান্ড এবং ইতালি। এই গ্রুপ থেকে সুপার এইটে যাওয়াটা ব্রুকদের জন্য খুব একটা কঠিন হওয়ার কথা নয়। তবে প্রথম ম্যাচে বড় ব্যবধানে জিতে নেট রানরেটে এগিয়ে থাকতে চায় বর্তমান বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী এই দলটি। নেপালকে স্রেফ ‘প্রতিপক্ষ’ হিসেবে না দেখে বরং নিজেদের শক্তির মহড়া দেওয়ার সুযোগ হিসেবেই দেখছে হ্যারি ব্রুকের ইংল্যান্ড।

