কথায় আছে, ‘ক্যাচ মিস তো ম্যাচ মিস’। কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব গ্রাউন্ডে আজ সেই পুরনো প্রবাদেরই নির্মম শিকার হলো নেদারল্যান্ডস। জয়ের খুব কাছে গিয়েও কেবল একটি ক্যাচ হাতছাড়া করার মাশুল দিতে হলো ডাচদের। অন্যদিকে, নিশ্চিত হারের মুখ থেকে ফাহিম আশরাফের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ৩ উইকেটের রুদ্ধশ্বাস জয় দিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর অভিযান শুরু করল পাকিস্তান।
১৪৮ রানের মাঝারি লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে এক পর্যায়ে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছিল পাকিস্তান। ৯৮ রানে ২ উইকেট থেকে মাত্র ১৬ রানের ব্যবধানে ৫ উইকেট হারিয়ে স্কোরবোর্ড দাঁড়ায় ১১৪/৭। মাঠের গ্যালারিতে তখন অঘটনের গুঞ্জন। কিন্তু দৃশ্যপট বদলে যায় ১৯তম ওভারে। লোগান ভ্যান বিকের করা সেই ওভারের প্রথম বলেই জীবন পান ফাহিম আশরাফ। লং-অনে সহজ ক্যাচটি তালুবন্দি করতে ব্যর্থ হন ম্যাক্স ও’দাউদ। আর সেই সুযোগটিকেই মারণাস্ত্রে পরিণত করেন ফাহিম।
মাত্র ১১ বলে ২৯ রানের এক টর্নেডো ইনিংস খেলেন এই অলরাউন্ডার। তার ইনিংসে ছিল ৩টি বিশাল ছক্কা ও ২টি চার। জীবন পাওয়ার পর সেই ওভারেই ৩টি ছক্কা ও ১টি চার মেরে ২৪ রান তুলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নেন তিনি। শেষ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল মাত্র ৫ রান। ৩ বল হাতে রেখেই বাউন্ডারি মেরে জয় নিশ্চিত করেন ফাহিম। তার সঙ্গে ৫ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন শাহিন শাহ আফ্রিদি।
এর আগে টস জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আলি আগা। শুরুতে ব্যাট করতে নেমে নেদারল্যান্ডসের শুরুটা মন্দ ছিল না। তবে পাকিস্তানি বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে বড় কোনো জুটি গড়তে পারেনি তারা। অধিনায়ক স্কট এডওয়ার্ডস সর্বোচ্চ ৩৭ রান করেন। এছাড়া বাস ডি লিড (২০) ও কলিন অ্যাকারম্যান (৩০) ছোট ছোট অবদান রাখলেও মিডল অর্ডারের ব্যর্থতায় ডাচরা ১৯.৫ ওভারে ১৪৭ রানে অলআউট হয়ে যায়।
পাকিস্তানের হয়ে বল হাতে দারুণ সফল ছিলেন সালমান মির্জা। মাত্র ২৪ রান খরচায় ৩ উইকেট তুলে নেন তিনি। এছাড়া মোহাম্মদ নেওয়াজ, আবরার আহমেদ ও সাইম আইয়ুব প্রত্যেকেই ২টি করে উইকেট শিকার করেন। শাহিন শাহ আফ্রিদি পান ১টি উইকেট। ডাচদের স্কোর এক সময় ৩ উইকেটে ১০৫ থাকলেও শেষ ৪২ রান তুলতেই বাকি ৭ উইকেট হারিয়ে বসে তারা।
লক্ষ্য তাড়ায় পাকিস্তানের উদ্বোধনী জুটি ছিল মারমুখী। সাইম আইয়ুব ১৩ বলে ২৪ রান করে ফিরলেও অন্যপ্রান্তে সাহিবজাদা ফারহান সাবলীল ব্যাটিং করতে থাকেন। ফারহান ৩১ বলে ৪৭ রানের এক ঝকঝকে ইনিংস উপহার দিয়ে আউট হওয়ার পরই নামে ধস। উসমান খান শূন্য রানে ফেরেন, আর বাবর আজম ১৫ রান করতে খরচ করেন ১৮ বল। শাদাব খান ও মোহাম্মদ নেওয়াজ দ্রুত বিদায় নিলে হারের কালো মেঘ জমে পাকিস্তান শিবিরে।
ঠিক সেই সংকটময় মুহূর্তেই ত্রাণকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হন ফাহিম আশরাফ। ডাচ ফিল্ডারদের পিচ্ছিল হাতের সুযোগ নিয়ে তিনি যেভাবে ম্যাচটি বের করে আনলেন, তাতে পাকিস্তানের ‘আনপ্রেডিক্টেবল’ তকমাটি আরও একবার প্রতিষ্ঠিত হলো। এই জয়ের ফলে ‘এ’ গ্রুপে গুরুত্বপূর্ণ ২ পয়েন্ট নিয়ে বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করল পাকিস্তান। দারুণ ফিনিশিংয়ের জন্য ফাহিম আশরাফ জিতে নেন ম্যাচসেরার পুরস্কার।
নেদারল্যান্ডসের বোলারদের মধ্যে আরিয়ান দত্ত ও পল ভ্যান মিকেরেন ২টি করে উইকেট নিয়ে লড়াই জমিয়ে তুলেছিলেন। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ক্যাচ মিস আর ফাহিমের বিধ্বংসী মেজাজের সামনে শেষ পর্যন্ত মাথা নত করতে হলো তাদের। পরাজয় সত্ত্বেও ডাচদের লড়াকু মানসিকতা আসন্ন ম্যাচগুলোতে প্রতিপক্ষ দলগুলোর জন্য সতর্কবার্তা হয়ে থাকবে।

