ফুটবল বিশ্বের অবিসংবাদিত সম্রাট লিওনেল মেসির ক্যারিয়ার এখন গোধূলি বেলায়। বার্সেলোনার সেই সোনালী দিন পেরিয়ে এখন আমেরিকার ইন্টার মায়ামির জার্সিতে মায়াবী জাদুকরী দেখাচ্ছেন আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই মহাতারকা। ধারণা করা হচ্ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের মাটি থেকেই হয়তো বুট জোড়া তুলে রাখবেন তিনি।
কিন্তু ফুটবল রোমান্টিকদের জন্য নতুন এক আশার আলো জ্বেলে দিয়েছে মেসির শৈশবের ক্লাব নিওয়েলস ওল্ড বয়েজ। আর্জেন্টাইন এই কিংবদন্তিকে আবার তার শিকড়ে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য বিশাল এক পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ।
২০২৭ সালের প্রথমার্ধেই মেসিকে রোজারিওর ক্লাবটিতে ভেড়ানোর প্রাথমিক তোড়জোড় শুরু হয়েছে। পাকিস্তানি সংবাদ মাধ্যম জিও নিউজের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। কেবল একটি ক্লাব হিসেবে নয়, বরং পুরো আর্জেন্টিনার আবেগকে পুঁজি করেই এগোচ্ছে নিওয়েলস।
এটি নিওয়েলসের চেয়েও বড় প্রজেক্ট
মেসিকে ফেরানোর বিষয়টি যে কেবল মাঠের ফুটবল নয়, বরং একটি জাতীয় আবেগের বিষয়—তা স্পষ্ট করেছেন নিওয়েলসের সহ-সভাপতি হুয়ান ম্যানুয়েল মেডিনা। তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “এটি শুধু একটি ক্লাবের সাধারণ উদ্যোগ নয়। এটি নিওয়েলসের চেয়েও বড় একটি স্বপ্ন বা প্রজেক্ট। এর সাথে রোজারিও শহর, প্রদেশ এবং পুরো আর্জেন্টাইন ফুটবলের সম্মান জড়িত।”
বোঝাই যাচ্ছে, মেসিকে ফিরিয়ে এনে তাকে আর্জেন্টাইন ঘরোয়া ফুটবলে বিদায়ী সংবর্ধনা দেওয়ার একটি রাষ্ট্রীয় আবহ তৈরির চেষ্টা চলছে। যেখানে শুধু নিওয়েলস সমর্থকরা নয়, পুরো দেশের ফুটবল প্রেমীরা একবারের জন্য হলেও মেসিকে নিজ দেশের লিগে খেলতে দেখার সুযোগ পাবেন।
মায়ামির চুক্তি ও বর্তমান ফর্ম
লিওনেল মেসি বর্তমানে ইন্টার মায়ামির অবিচ্ছেদ্য অংশ। গত অক্টোবরেই তিনি ক্লাবটির সাথে ২০২৮ সাল পর্যন্ত চুক্তি নবায়ন করেছেন। এই বয়সেও তিনি যুক্তরাষ্ট্রের এমএলএস (মেজর লিগ সকার) দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। মায়ামিকে এমএলএস কাপ জেতানোর পাশাপাশি টানা দুই মৌসুমে লিগের সবচেয়ে মূল্যবান খেলোয়াড় (MVP) হওয়ার ইতিহাস গড়েছেন তিনি।
সম্প্রতি ক্যারিয়ারের ৪০৫তম অ্যাসিস্ট করে ফুটবল সম্রাট পেলের একটি দীর্ঘস্থায়ী রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন ৩৮ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি। ফলে নিওয়েলসের জন্য মেসিকে মায়ামি থেকে ছিনিয়ে আনা বা চুক্তির মাঝপথে নিয়ে আসাটা হবে এক বিশাল চ্যালেঞ্জ।
যেখান থেকে শুরু হয়েছিল যাত্রা
১৯৯৫ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত নিওয়েলস ওল্ড বয়েজের বয়সভিত্তিক দলেই ফুটবলের হাতেখড়ি হয়েছিল এই ‘ক্ষুদে জাদুকর’-এর। সেখান থেকেই চিকিৎসার প্রয়োজনে এবং ভাগ্যের অন্বেষণে পাড়ি জমিয়েছিলেন বার্সেলোনার বিখ্যাত লা মাসিয়া একাডেমিতে। বাকিটা তো ইতিহাস। বার্সার হয়ে ১০টি লা লিগা, ৪টি চ্যাম্পিয়নস লিগ আর ৩টি ক্লাব বিশ্বকাপ জিতেছেন তিনি। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ৩৬ বছরের খরা কাটিয়ে জিতেছেন পরম আরাধ্য সোনালী ট্রফিটি।
প্রত্যাবর্তনের স্বপ্ন
মেসি অতীতে অনেকবারই সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন যে, অবসরের আগে একবার অন্তত শৈশবের ক্লাব নিওয়েলসের জার্সিতে মাঠে নামতে চান। তবে পরিবারের নিরাপত্তা ও সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া তার জন্য কঠিন হবে বলে ধারণা করা হয়।
এখন দেখার বিষয়, ২০২৭ সালে ক্যারিয়ারের শেষ বেলায় এসে নাড়ির টানে মেসি রোজারিওর সেই চেনা ডেরায় ফেরেন কি না। যদি এটি সম্ভব হয়, তবে তা হবে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আবেগঘন এক অধ্যায়।

