ছোট পর্দার পরিচিত মুখ এবং জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাফা কবির কেবল অভিনয়ের আঙিনাতেই সীমাবদ্ধ নন; সমাজের অসংগতি আর মানবিক মূল্যবোধের প্রশ্নেও তিনি বরাবরই স্পষ্টভাষী। এবার সমাজের একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও অবহেলিত বিষয়—গৃহকর্মীদের অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সোচ্চার হয়েছেন এই তারকা।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে সাফা মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, পারিশ্রমিক দিয়ে সেবা নেওয়া মানেই কাউকে ‘কিনে নেওয়া’ নয়। গৃহকর্মীদের প্রতি মানবিক আচরণ এবং তাদের ব্যক্তি-মর্যাদাকে সম্মান জানানোর এই আহ্বান মুহূর্তেই নেটিজেনদের প্রশংসা কুড়াচ্ছে।
‘তারা যন্ত্র নয়, মানুষ’
সাফা কবির তার পোস্টে অত্যন্ত সহজ কিন্তু শক্তিশালী ভাষায় গৃহকর্মীদের জীবনসংগ্রামের কথা তুলে ধরেন। তিনি লিখছেন, “কাজের মানুষরাও কিন্তু মানুষ, এটা ভুলে যাবেন না। শুধু টাকা দেন বলেই আপনি কাউকে কিনে নেননি। বাড়ির কাজের মানুষদেরও হৃদয় আছে, কষ্ট আছে, স্বপ্ন আছে। তারাও ক্লান্ত হয়, তারাও অসুস্থ হয়।”
অভিনেত্রীর এই মন্তব্যটি মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত সমাজের সেই মানসিকতার মূলে আঘাত করেছে, যেখানে গৃহকর্মীদের অনেক সময় কেবল শ্রম দেওয়ার যন্ত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সাফা স্পষ্ট করে বলেছেন, গৃহকর্মীর হাতটি একটি ‘সাহায্যের হাত’, কোনো জড়বস্তু বা ক্রীতদাস নয়।
মানবিক হতে লাগে সামান্য সদিচ্ছা
সাম্প্রতিক সময়ে গৃহকর্মীদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের নানা খবর যখন সংবাদ শিরোনাম হচ্ছে, ঠিক তখন সাফা কবিরের এই বার্তাটি অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে মনে করছেন সমাজকর্মীরা। তিনি লিখেছেন, “মানবিক হতে কিছুই লাগে না, দয়া দেখাতে লাগে আরও কম। বাড়ির কাজের মানুষদের সাথে সম্মানের সঙ্গে আচরণ করুন। তারাও একটি ভালো জীবনের যোগ্য।”
প্রশংসায় ভাসছেন সাফা
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাফার এই পোস্টটি শেয়ার হওয়ার পর থেকেই ভক্ত ও অনুসারীদের ইতিবাচক মন্তব্যে ভরে উঠছে তার ওয়াল। অনেকেই মন্তব্য করছেন যে, পর্দার প্রিয় তারকার কাছ থেকে এমন দায়িত্বশীল আচরণ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সাহায্য করবে। একজন ভক্ত লিখেছেন, “আমরা যখন প্রিয় তারকাদের মুখে এমন কথা শুনি, তখন তা সাধারণ মানুষের চিন্তাভাবনায় গভীর প্রভাব ফেলে।”
সাবলীল অভিনয় আর মিষ্টভাষী হিসেবে পরিচিত সাফা কবির এর আগেও বিভিন্ন সামাজিক ইস্যুতে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তবে এবারের গৃহকর্মী ইস্যুটিতে তার এই ‘কড়া কিন্তু কোমল’ বার্তাটি একটি মানবিক সমাজ বিনির্মাণের ডাক হিসেবেই দেখছেন তার শুভাকাঙ্ক্ষীরা।

