মাঠের ক্রিকেটের চেয়ে মাঠের বাইরের বিতর্কই যেন বর্তমানে দেশের ক্রিকেট অঙ্গনে বেশি ডালপালা মেলছে। গত মঙ্গলবার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বিসিবির গ্রাউন্ডস কমিটির সংবাদ সম্মেলনে গ্রাউন্ডস কমিটির চেয়ারম্যান ও জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাসুদ পাইলটের সঙ্গে এক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকের অনাকাঙ্ক্ষিত বাকবিতণ্ডার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ক্রিকেটারদের সংগঠন ‘ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’ (কোয়াব)।
বিসিবির গ্রাউন্ডস কমিটির আগামী কয়েক মাসের কর্মপরিকল্পনা জানানোর জন্য ওই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল। সভার পরিবেশ স্বাভাবিক থাকলেও বিপত্তি ঘটে প্রশ্নোত্তর পর্বে। একজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকের করা প্রশ্নের ধরন ও ভাষা নিয়ে অসন্তুষ্ট হন পাইলট। এর প্রেক্ষিতে দুজনের মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। পরিস্থিতি একপর্যায়ে এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, ক্ষুব্ধ হয়ে সংবাদ সম্মেলন কক্ষ ত্যাগ করেন জাতীয় দলের এই সাবেক লিজেন্ডারি উইকেটরক্ষক।
কোয়াবের বিবৃতি ও পেশাদারিত্বের প্রশ্ন
এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই বুধবার কোয়াবের পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়। সংগঠনের সভাপতি ও ক্রিকেটার মোহাম্মদ মিঠুন স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “সম্প্রতি একটি সংবাদ সম্মেলনে আমাদের সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাসুদ পাইলটের সঙ্গে ঘটে যাওয়া একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় আমরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি। এমন পরিবেশে যেখানে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখা জরুরি, সেখানে এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং কোনোভাবেই কাম্য নয়।”
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, সাংবাদিকদের কঠিন প্রশ্ন করার অধিকার থাকলেও তা প্রকাশ ও মোকাবিলার ক্ষেত্রে উভয় পক্ষকে সংযত থাকতে হবে। ক্রিকেটের সাথে সংশ্লিষ্ট কোচ, বোর্ড কর্মকর্তা এবং ক্রীড়া সাংবাদিক—সবার মর্যাদা ও সম্মান সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে কোয়াব।
ভবিষ্যতের জন্য সতর্কতা ও ইতিবাচক পরিবেশের প্রত্যাশা
বিসিবির গ্রাউন্ডস কমিটির ওই সভায় সারাদেশে ১৩৭টি উইকেট নির্মাণের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছিল। কিন্তু সেই গঠনমূলক আলোচনার চেয়ে পাইলট ও সাংবাদিকের বিবাদই এখন টক অব দ্য টাউন। কোয়াব আশা প্রকাশ করেছে যে, এই ঘটনা থেকে সংশ্লিষ্ট সবাই শিক্ষা নেবেন এবং ভবিষ্যতে ক্রিকেটের স্বার্থে একটি দায়িত্বশীল ও ইতিবাচক পরিবেশ নিশ্চিত করবেন।
বিবৃতিতে শেষদিকে বলা হয়, “পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহযোগিতার মাধ্যমেই বাংলাদেশ ক্রিকেট এগিয়ে যেতে পারে। আমরা আশা করি, ভবিষ্যতে এমন কোনো ঘটনা ঘটবে না যা দেশের ক্রিকেটের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করে।” এই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে, যেখানে একাংশ পাইলটের পক্ষ নিচ্ছেন এবং অন্য অংশ পেশাদার সাংবাদিকতার পক্ষে সওয়াল করছেন। বিসিবির পক্ষ থেকে এখনো এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

