ভেনেজুয়েলায় সফল সামরিক অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করার পর এবার প্রতিবেশী দেশ কিউবার দিকে নজর দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিউবাকে একটি নির্দিষ্ট ‘বাণিজ্য চুক্তিতে’ আসার জন্য চূড়ান্ত সময়সীমা বা আল্টিমেটাম দিয়েছেন তিনি। অন্যথায় দেশটি এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়বে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন হোয়াইট হাউসের এই অধিপতি।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন, যার মাধ্যমে কিউবার জ্বালানি সরবরাহের পথ পুরোপুরি বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই আদেশে বলা হয়েছে, বিশ্বের কোনো দেশ যদি কিউবায় তেল রপ্তানি করে, তবে সেই দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত শুল্ক বা ট্যারিফ আরোপ করবে।
উল্লেখ্য, গত ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযানে মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই কিউবায় ভেনেজুয়েলার সস্তা তেলের সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, “কিউবার জন্য আর কোনো তেল বা অর্থ যাবে না—শূন্য! আমি তাদের জোরালোভাবে পরামর্শ দিচ্ছি দেরি হওয়ার আগেই তারা যেন একটি চুক্তি করে।”
কিউবার ওপর এই কঠোর অবরোধের ফলে দেশটিতে হাসপাতাল, খাদ্য সরবরাহ এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া শিনবাউম এক বিবৃতিতে বলেছেন, ট্রাম্পের এই নির্দেশ কিউবার জনগণের মৌলিক পরিষেবাগুলোকে ধ্বংস করে দিতে পারে এবং অচিরেই দেশটিতে বড় আকারে মানবিক বিপর্যয় দেখা দেবে।
রোববার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “কিউবা যদি আমাদের কাছে আসে এবং একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে চায়, তবে মানবিক বিপর্যয় হবে না। কিউবা এখন অর্থ ও তেলহীন, তারা ভেনেজুয়েলার ওপর নির্ভরশীল ছিল যা এখন অতীত।”
কিউবার কাছ থেকে ঠিক কী ধরণের সমঝোতা চান তা ট্রাম্প বিস্তারিত না বললেও একটি নতুন কৌশল ব্যবহারের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, কিউবা চুক্তিতে না আসলে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বিপুল সংখ্যক কিউবান নাগরিককে দেশটিতে ‘পুশ ইন’ বা ফেরত পাঠানো শুরু করা হবে। এটি কিউবার ভঙ্গুর অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করবে।
“আমি আশা করছি কিউবা শীঘ্রই একটি সমঝোতায় আসবে। তা না হলে আমরা যুক্তরাষ্ট্রে থাকা কিউবানদের ফেরত পাঠানো শুরু করব।” — ডোনাল্ড ট্রাম্প
২০২৬ সালের ৩ জানুয়ারি মার্কিন বিশেষ বাহিনী ‘অপারেশন অ্যাবসলিউট রিজলভ’ (Operation Absolute Resolve) এর মাধ্যমে কারাকাস থেকে মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে নিউইয়র্কে নিয়ে আসে। বর্তমানে তারা নিউইয়র্কের ফেডারেল কারাগারে বন্দি আছেন। ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকেই কিউবার কমিউনিস্ট সরকার চরম অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।

