টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর প্রাক্কালে ক্রিকেট বিশ্বের ভূ-রাজনীতি এখন টালমাটাল। নিরাপত্তার অজুহাতে কলকাতা নাইট রাইডার্স (KKR) থেকে বাংলাদেশের কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার পর তৈরি হয়েছে নজিরবিহীন সংকট। এই ঘটনার প্রতিবাদে বাংলাদেশের বিশ্বকাপে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত এবং পাকিস্তানকে সাথে নিয়ে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট করার বিষয়টি নিয়ে এবার মুখ খুলেছেন ভারতের বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও লোকসভার সদস্য শশী থারুর।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে শশী থারুর মুস্তাফিজের প্রতি অবিচার করা হয়েছে উল্লেখ করে বলেন, “খেলার সঙ্গে এভাবে দুই পক্ষের রাজনীতি জড়ানো একদমই উচিত হয়নি। মুস্তাফিজুর রহমানকে কলকাতা নাইট রাইডার্সের চুক্তি থেকে বাদ দেওয়া ঠিক হয়নি। এটি সত্যিই একটি দুঃখজনক ঘটনা।”
ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে কেকেআর মুস্তাফিজকে স্কোয়াড থেকে সরিয়ে দিলে বিসিবি ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ না খেলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়। আইসিসি দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে মূল পর্বে অন্তর্ভুক্ত করে। এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে পাকিস্তান বাংলাদেশের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে এবং আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারির হাই-ভোল্টেজ ভারত-পাকিস্তান ম্যাচটি বয়কটের ঘোষণা দেয়।
শশী থারুর এই বিষয়টিকে ‘নিয়ন্ত্রণের বাইরে’ চলে যাওয়া হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, “পুরো বিষয়টি এখন রাজনীতির সঙ্গে মিশে গেছে। বাংলাদেশের প্রতিক্রিয়া কিছুটা অতিরঞ্জিত মনে হলেও এখন পাকিস্তান তাদের সমর্থন দেওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়েছে।”
বিশ্বকাপ শুরু হতে এক সপ্তাহও সময় নেই, অথচ ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি এখন খোদ পাকিস্তানের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়ে জরুরি সভা ডাকতে বাধ্য হয়েছে। শশী থারুর মনে করেন, খেলার বৃহত্তর স্বার্থে এই অচলাবস্থা কাটানো জরুরি। তিনি বলেন:
“এটা এভাবে চলতে পারে না। ক্রিকেটের অস্তিত্ব রক্ষায় আমাদের সবার একত্রিত হওয়া উচিত। এই সমস্যা সমাধানের একমাত্র নির্ভরযোগ্য প্ল্যাটফর্ম হতে পারে আইসিসি।”
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, মুস্তাফিজকে ঘিরে শুরু হওয়া এই বিতর্ক এখন দক্ষিণ এশিয়ার ক্রিকেটীয় কূটনীতিতে এক বিশাল ক্ষত তৈরি করেছে। শশী থারুরের মতো প্রভাবশালী নেতার এমন মন্তব্য ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (BCCI) ওপর কোনো প্রভাব ফেলে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

