দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে অসংখ্যবার সংসদ নির্বাচনে অংশ নিলেও ভোটের আগে কখনও ‘নিশ্চিত জয়ী হবো’— এমন কথা বলতে পারেননি বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী মির্জা আব্বাস। বর্তমান নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে কিছু প্রার্থীর ‘অতি আত্মবিশ্বাস’ দেখে তিনি গভীর সংশয় প্রকাশ করেছেন।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর রাজারবাগ সেন্ট্রাল পুলিশ হাসপাতাল মসজিদে নামাজ আদায় শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
মির্জা আব্বাস বলেন, “১৯৭৭ সাল থেকে আমি এই এলাকায় রাজনীতি ও নির্বাচন করছি। একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ হওয়া সত্ত্বেও আমি আজ পর্যন্ত বলতে পারিনি যে আমি নিশ্চিত জিতবই। অথচ দেখা যাচ্ছে, যাদের এলাকায় কোনো পরিচিতি নেই, কোনোদিন উন্নয়ন কাজে অংশ নেয়নি এবং জনসম্পৃক্ততা নেই— তারাও বুক ফুলিয়ে বলছে তারা নাকি জিতেই আছে!”
তিনি আরও যোগ করেন, “যারা কখনও জেতার কথা নয়, তাদের এমন বক্তব্যে আমি সন্দিহান। আমার আশঙ্কা হচ্ছে, তারা হয়তো পর্দার আড়ালে কোনো ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ বা ভোট কারচুপির পরিকল্পনা করছে।”
নির্বাচনী আলোচনার পাশাপাশি সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের নারীদের নিয়ে করা বিতর্কিত মন্তব্য নিয়েও মুখ খোলেন মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, “তিনি (জামায়াত আমীর) একজন অভিজ্ঞ লোক হিসেবেও মাঝেমধ্যেই এমন বেফাঁস মন্তব্য করেন। আসলে তিনিসহ বর্তমান জামায়াতের শীর্ষ তিন নেতাই একসময় জাসদ করতেন। অন্য দল থেকে জামায়াতে এসে তারা এখন নিজেদের ‘খাঁটি জামায়াতী’ প্রমাণ করার জন্য এমন কিছু বলতে চান যা মানুষের নজর কাড়ে। সেই তাড়না থেকেই হয়তো নারীদের নিয়ে এমন নোংরা মন্তব্য করার সাহস দেখিয়েছেন।”
জামায়াত আমীরের সোশ্যাল মিডিয়া আইডি হ্যাক হওয়া প্রসঙ্গে আব্বাস বিদ্রূপ করে বলেন, “তারা বলছে আইডি হ্যাক হয়েছে। কিন্তু হ্যাক হওয়া আইডি এত দ্রুত কীভাবে ফেরত পাওয়া যায়, তা আমার জানা ছিল না।”
ঢাকা-৮ আসনের এই হেভিওয়েট প্রার্থী তার বক্তব্যে সকলকে শান্ত থেকে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান এবং যেকোনো ধরণের ষড়যন্ত্র রুখে দিতে নেতাকর্মীদের সজাগ থাকার নির্দেশ দেন।

