নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে আজ শিল্পনগরী খুলনায় এক বিশাল জনসভায় অংশ নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও দেশীয় রাজনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপট নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, যারা এদেশের অর্ধেক জনসংখ্যা তথা নারীদের সম্মান করতে জানে না এবং যারা বছরের পর বছর জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে, তারা কখনোই দেশপ্রেমিক বা জনগণের প্রকৃত বন্ধু হতে পারে না।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে খুলনার খালিশপুর প্রভাতী স্কুল মাঠে আয়োজিত এই জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, “যারা মিথ্যার আশ্রয় নেয় এবং জনগণের মৌলিক অধিকার হরণ করে, তারা আসলে দেশের অগ্রগতির পথে প্রধান অন্তরায়।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, কেবল মৌখিক বুলি দিয়ে দেশ চালানো সম্ভব নয়; বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রকৃত কাজের মাধ্যমে দেশকে পুনর্গঠন করবে।
জনসভার শুরুতেই তারেক রহমানকে এক নজর দেখতে খুলনার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী জনসমুদ্রে পরিণত করেন খালিশপুর এলাকা। বেলা ১২টা ২৫ মিনিটে তিনি মঞ্চে উপস্থিত হলে গগণবিদারী স্লোগান ও করতালির মাধ্যমে তাকে স্বাগত জানানো হয়।
বক্তব্যের একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল নারী সমাজের অধিকার ও সুরক্ষা। তারেক রহমান একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের নাম উল্লেখ না করে তাদের নারীবিদ্বেষী প্রচারণার তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “একটি রাজনৈতিক শক্তি প্রকাশ্যে ঘোষণা দিচ্ছে তারা নারীর নেতৃত্বে বিশ্বাস করে না। তারা কর্মজীবী নারীদের নিয়ে যে ধরণের কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করছে, তা পুরো জাতির জন্য লজ্জার। লক্ষাধিক নারী আজ পোশাক শিল্পে কাজ করে দেশের অর্থনীতিকে টিকিয়ে রেখেছেন, অথচ তাদেরই অপমান করা হচ্ছে।”
ধর্মীয় প্রসঙ্গের অবতারণা করে তিনি আরও যোগ করেন, “যারা ইসলামের দোহাই দিয়ে নারীদের ঘরবন্দি করতে চায়, তারা ভুলে যাচ্ছে— ইসলামের প্রথম নারী হযরত বিবি খাদিজা (রা.) একজন অত্যন্ত সফল ব্যবসায়ী ছিলেন।” নারীদের স্বাবলম্বী করতে বেগম খালেদা জিয়ার অবৈতনিক শিক্ষা কার্যক্রমের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে প্রতিটি পরিবারের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ নিশ্চিত করবে, যার মাধ্যমে নারীদের আত্মনির্ভরশীল করা হবে।
বিগত ১৬ বছরের দুঃশাসনের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, এদেশের মানুষ দেড় দশক ধরে নিজের ভোট নিজে দিতে পারেনি। বহু নেতাকর্মী গুম-খুনের শিকার হয়েছেন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লব সেই স্বৈরাচারকে বিদায় করেছে। এখন সময় এসেছে ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালটের মাধ্যমে সেই ত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করার।
খুলনার স্থানীয় উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, এক সময়ের সমৃদ্ধ শিল্পনগরী খুলনা এখন মৃতপ্রায়। বিএনপি ক্ষমতায় এলে এই অঞ্চলে আইটি পার্ক স্থাপন করা হবে এবং বন্ধ হওয়া কলকারখানাগুলো আবার প্রাণ ফিরে পাবে। কৃষকদের জন্য ‘কৃষি কার্ড’ চালুর পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করার ঐতিহাসিক ঘোষণাও দেন তিনি।
খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি এস এম শফিকুল আলম মনার সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিনের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন রকিবুল ইসলাম বকুল, নজরুল ইসলাম মঞ্জু, আজিজুল বারী হেলালসহ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। সমাবেশ থেকে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে দেশ পুনর্গঠনের ডাক দেন তারেক রহমান।

