নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে রাজধানীর উত্তর কাফরুলে আয়োজিত এক বিশাল গণসংযোগ কর্মসূচিতে দুর্নীতি ও লুণ্ঠিত সম্পদ নিয়ে কঠোর বার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, জনগণের অর্জিত সম্পদে জামায়াত কখনো হাত দেবে না। বরং বিগত দিনে জনগণের যে আমানত লুণ্ঠিত হয়েছে, তা উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়াকেই নিজেদের পবিত্র দায়িত্ব বলে মনে করে তার দল।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর ঢাকা-১৫ সংসদীয় আসনের অন্তর্গত উত্তর কাফরুলের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে এই কর্মসূচি পালিত হয়। পূর্ব বাইশটেকি কবরস্থান মসজিদের সামনে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ ও গণসংযোগে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন। তিনি দাবি করেন, দুর্নীতি জামায়াতের আদর্শ বা চরিত্রের সাথে বিন্দুমাত্র সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং তারা একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা কায়েম করতে চান।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে জামায়াত আমির অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে সাধারণ মানুষের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তিনি বলেন, “আমাদের কোনো কথায় বা আচরণে যদি কোনো মা-বোন কিংবা নাগরিক কষ্ট পেয়ে থাকেন, তবে দয়া করে আমাদের ক্ষমার চোখে দেখবেন।” তিনি উল্লেখ করেন, জামায়াত কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ বা গোষ্ঠীগত এজেন্ডা বাস্তবায়নের রাজনীতি করে না; বরং মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিছক জনসেবাই তাদের মূল লক্ষ্য।
ডা. শফিকুর রহমান ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, আমানত রক্ষা করা ইসলামের অন্যতম শিক্ষা। যারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গিয়ে জনগণের অর্থ আত্মসাৎ করেছে, তারা জাতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে প্রতিটি পয়সার হিসাব নেবে এবং লুণ্ঠিত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফিরিয়ে এনে জনকল্যাণে ব্যয় করবে। তিনি দেশ গড়ার এই লড়াইয়ে সর্বস্তরের মানুষের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন।
গণসংযোগ ও মিছিলপূর্ব এই সমাবেশে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসেনসহ স্থানীয় শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি লস্কর মোহাম্মদ তসলিম এবং কাফরুল দক্ষিণ থানা জামায়াতের আমির উপাধ্যক্ষ আনোয়ারুল করিমসহ ওয়ার্ড পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতারা। নেতাদের উপস্থিতিতে নেতাকর্মীদের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে।
সমাবেশ শেষে একটি বিশাল মিছিল বের করা হয়, যা এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা ‘দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ’ এবং ‘ন্যায়ভিত্তিক সমাজ’ গঠনের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। সাধারণ মানুষও রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে মিছিলটিকে অভিবাদন জানায়। অনেকেই জামায়াত আমিরের এই মানবিক ও ক্ষমাশীল বক্তব্যের প্রশংসা করেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে জামায়াত আমিরের এই ‘আমানত রক্ষা’ এবং ‘ক্ষমা প্রার্থনার’ কৌশল ভোটারদের বিশেষ করে নারী ও সাধারণ নাগরিকদের সহানুভূতি আদায়ের একটি বড় প্রচেষ্টা। ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াতের শক্তিশালী জনভিত্তি থাকলেও, অন্যান্য রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে লড়াইয়ে নিজেদের ক্লিন ইমেজ বজায় রাখতেই এমন বক্তব্য দিচ্ছেন শীর্ষ নেতারা।
নির্বাচনী মাঠের পরিবেশ নিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তারা একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট চান। কোনো ধরনের উস্কানিতে পা না দিয়ে ধৈর্য ও শৃঙ্খলার সাথে নির্বাচনী কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেন। শেষ পর্যন্ত জনগণের ম্যান্ডেট যেদিকেই যাক, জামায়াত তা মাথা পেতে নেবে—এমন ইঙ্গিতও দেন তিনি।

