ছোট পর্দার স্নিগ্ধতা আর সাবলীল অভিনয়ের নাম তানজিম সাইয়ারা তটিনী। তার মিষ্টি হাসি আর প্রাণবন্ত উপস্থিতি খুব দ্রুতই তাকে দর্শকদের ড্রয়িংরুমের প্রিয় মুখে পরিণত করেছে। সম্প্রতি এক ঘরোয়া আড্ডায় নিজের কর্মজীবন, সেটের পরিবেশ এবং সহকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্কের রসায়ন নিয়ে মনের কথা জানিয়েছেন এই তরুণ অভিনেত্রী।
তটিনী বিশ্বাস করেন, অভিনয়ের দক্ষতা যেমন জরুরি, তেমনি কাজের জায়গার পরিবেশ সুস্থ রাখাটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সফলতার মূলমন্ত্র হিসেবে তিনি সবার সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখাকেই এগিয়ে রাখেন। তার মতে, কাজে একা ভালো করলে চলে না, পুরো টিমকে সাথে নিয়ে চলতে হয়।
নিজের কাজের দর্শন ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তটিনী বলেন, ‘আমি মনে করি, আপনি যদি সবার কথা শোনেন এবং মনোযোগ দিয়ে কাজ করেন, তবে দর্শক যেমন আপনাকে ভালোবাসবে, সেটের মানুষগুলোও আপনাকে আপন করে নেবে। আমি কাজকে ভালোবাসি, আর শুটিং সেট আমার কাছে সব থেকে প্রিয় জায়গা।’
শুটিং সেটে তটিনী মানেই যেন একরাশ আনন্দ। তিনি সবসময় চেষ্টা করেন তার উপস্থিতিতে যেন চারপাশের মানুষগুলো হাসিখুশি থাকে। অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি চাই সবার সাথে মিলেমিশে কাজ করতে। আমি সেটে এলে যেন সবার মুখে হাসি ফোটে, সবাই যেন খুশি হয় যে—তটিনী আপু সেটে আছে। আমি চেষ্টা করি সেটের সবার সাথে একটা সুন্দর বন্ডিং তৈরি করতে। আর অডিয়েন্স তো আছেই, তাদের ভালোবাসা তো সবসময় অনুপ্রেরণা জোগায়।’
শোবিজের সহকর্মী ও নির্মাতাদের কাছে তটিনী ‘লক্ষ্মী মেয়ে’ হিসেবেই পরিচিত। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তটিনী লাজুক হেসে বলেন, ‘লক্ষ্মী বলতে আমি আসলে কথা শোনার চেষ্টা করি যতটুকু সম্ভব। যেটা সঠিক মনে হয়, সেটা করি। আর কোনো কিছু ভুল মনে হলে তা সুন্দর করে বুঝিয়ে বলি। জেদ বা রাগ না দেখিয়ে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান করতে পছন্দ করি।’
খুব অল্প সময়ে জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছালেও তটিনীর পা এখনো মাটিতেই আছে। বড় কোনো বিতর্ক বা ঝামেলার সাথে জড়াননি তিনি। বরং কাজের প্রতি একাগ্রতা আর সহকর্মীদের প্রতি বিনয়ী আচরণই তাকে বর্তমান সময়ের নির্মাতাদের পছন্দের তালিকায় ওপরের দিকে রেখেছে।
তটিনীর এই ‘সবার সাথে মিলেমিশে থাকার’ মানসিকতা তাকে কেবল একজন ভালো অভিনেত্রী হিসেবেই নয়, বরং একজন ইতিবাচক মানুষ হিসেবেও ইন্ডাস্ট্রিতে আলাদা পরিচয় করে দিয়েছে। ভক্তদের প্রত্যাশা, তটিনীর এই মিষ্টি হাসি আর সাবলীল অভিনয় আগামী দিনেও নাটক ও ওটিটি প্লাটফর্মে নতুন নতুন মাত্রা যোগ করবে।

